কে এই ডা.শফিক?

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

কে এই ডা.শফিক?

 

ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর নির্বাচিত হয়েছেন।সংগঠনের সদস্যগণের (রুকন) প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি এই দায়িত্ব পেয়েছেন।আজ মঙ্গলবার দলের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। উল্লেখ্য যে, গত ১৭ অক্টোবর থেকে ১০ নবেম্বর পর্যন্ত এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আজ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেছে।

ডা. শফিকুর রহমানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

*ব্যাক্তিগত পরিচিতি:
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আবরু মিঞা ও মাতার নাম মরহুমা খাতিবুন নেসা। তার বর্তমান ঠিকানা সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানার সবুজবাগ এলাকায়। তিনি ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন।

*রাজনৈতিক ক্যারিয়ার:
তিনি ছাত্র জীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট শহর শাখার সভাপতি ছিলেন।১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৮৬ সাল থেকে ৮৮ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ১৯৮৯ থেকে ৯১ পর্যন্ত সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এবং ১৯৯১ থেকে ৯৮ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর, ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সিলেট মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনোনীত হন। ২০১০ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২০১১ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন।বর্তমান সরকার তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে বন্দি করে রাখে। তিনি জনগণের ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

*পেশাগত পরিচিতি:
চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত জীবনের সূচনা হলেও ইসলামী আন্দোলনের প্রয়োজনে তিনি সরকারী চাকুরী ছেড়েদেন।আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি ক্লিনিক ব্যবসায় জড়িত হন।বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।তাছাড়া তার তত্ত্বাবধানে অনেক এতিমখানা ও মসজিদ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠাতা,চিকিৎসালয়, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে উঠে।তিনি একটি কামিল মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

*দেশ ভ্রমন:
তিনি সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, গ্রীস, বেলজিয়াম, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, ব্রুনেই প্রভৃতি দেশ ভ্রমন করেছেন।

*পারিবারিক জীবন:
তিনি ২ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ডা. আমিনা শফিক ৮ম জাতীয় সংসদের সদস্যা ছিলেন। তার ২ মেয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা নিয়েছেন এবং একমাত্র পুত্র এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে তার পূর্ববর্তী আমীর ছিলেন জনাব মকবুল আহমদ।প্রফেসর গোলাম আজমের জিবীত অবস্থায় দলের আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন গণতান্ত্রিক পরিবেশ সত্যিই বিরল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ