ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে

প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ও এর আশেপাশের চরাঞ্চলে সতর্কতা সংকেত চার থেকে বাড়িয়ে সাত করা হয়েছে।

ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালি, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনার উপকূলীয় এলাকায় সাত নম্বর সতর্কতা সংকেতের আওতায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে পণ্য খালাস সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল।

ঘূর্ণিঝড়টি কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে

শনিবার রাত থেকে রোববার সকালের মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল বেগে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবুল কালাম মল্লিক।

সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে খুলনা ও বরিশাল জেলার উপকূলীয় অঞ্চল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঝড়ের অবস্থান পায়রা ও মোংলার আরো কাছাকাছি ছিল।

আবহাওয়া অফিস বলছে ঘূর্ণিঝড়টি এখন পর্যন্ত প্রবল বেগে বাংলাদেশ অভিমুখী। তবে এর গতিপথ ও তীব্রতা যেকোনো মুহূর্তে বদলে পশ্চিমবঙ্গের দিকে সরে যেতে পারে।

বাতাসের একটানা গতিবেগ এখন পর্যন্ত ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সেইসঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সমুদ্রের ঢেউ স্বাভাবিকের চেয়ে আরো পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে।

বিবিসি বাংলাকে মি. মল্লিক বলেন, “এই ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ কখনো বেশি হচ্ছে, কখনো কম হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়, উপকূলে আঘাত করার আগে সাধারণত সেগুলোর শক্তি বৃদ্ধি পায়। আবার কখনো-কখনো দুর্বল হওয়ার নজিরও রয়েছে।”

নৌকা ও ট্রলার

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

সতর্ক অবস্থান

এরিমধ্যে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে পণ্য খালাস সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে জরুরি সেবা দিতে উপকূলীয় বেশিরভাগ উপজেলায় স্থাপন করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

এরইমধ্যে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এনজিও কর্মী, রোভার ও স্কাউট সদস্যরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ