টিভি বিতর্কে মুখোমুখি জনসন-করবিন : বিতর্কে বিজয়ী হয়েছেন কে, স্পষ্ট নয়

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

টিভি বিতর্কে মুখোমুখি জনসন-করবিন : বিতর্কে বিজয়ী হয়েছেন কে, স্পষ্ট নয়

টিভি বিতর্কে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টির দুই শীর্ষ নেতা। আগামী ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আইটিভি এ বিতর্কের আয়োজন করে। এতে অংশ নেন কনজারভেটিভ নেতা বরিস জনসন ও লেবার নেতা জেরেমি করবিন। স্বাস্থ্যসেবা, স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এবং রাজপরিবার নিয়েও কথা বলেন দুই নেতা। তবে বিতর্কের বেশিরভাগ সময়জুড়েই ছিল ব্রেক্সিট ইস্যু।

আগামী ৬ ডিসেম্বর সাউথহ্যাম্পটনে দুই নেতার মুখোমুখি বিতর্কের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তবে মঙ্গলবারের বিতর্কে কোন নেতা বিজয়ী হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউগভ-এর তাৎক্ষণিক জরিপেও দর্শকদের মধ্যে এ ব্যাপারে বিভক্তি ছিল লক্ষ্যণীয়। ইউগভ বলছে, অধিকাংশ লেবার ভোটারদের মতে করবিন জিতেছেন। বিপরীতে কনজারভেটিভদের মতে, জনসনই বিতর্কে জয়ী হয়েছেন।

বিতর্কে অংশ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের চূড়ান্ত বিচ্ছেদ নিয়ে বিদ্যমান ‘জাতীয় দুর্ভোগের ইতি টানা’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বরিস জনসন। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ইইউ-এর সঙ্গে তার সমঝোতা চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জবাবে লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, তার দল ব্রেক্সিটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার জনগণের হাতে তুলে দিতে চায়। এজন্য জনসনের করা চুক্তিটি ছিঁড়ে ফেলে ইইউর সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি করবেন। সেই চুক্তির ব্যাপারে জনগণের সমর্থন আদায়ে নতুন আরেকটি গণভোট দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন লেবার নেতা।

স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টে প্রায় অর্ধেক আসনের অধিকারী রাজনৈতিক দল দ্য স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)-র সমর্থন পেতে লেবার পার্টি স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে আরেকটি গণভোটে রাজি হতে পারে বলে দাবি করেন বরিস জনসন। তবে তার দল স্কটিশদের সমর্থন পাওয়ার জন্য এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না বলে জানান জনসন। এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে এসএনপি-র সঙ্গে জোট গঠনের কোনও তার দলের নেই বলে জানান করবিন।

জনসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাকে যুক্তরাষ্ট্র ও বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অপপ্রচেষ্টার অভিযোগ তোলেন করবিন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠকের বিবরণ তুলে ধরে লেবার নেতা বলেন, কনজারভেটিভ সরকার ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবায় মার্কিন পণ্যসামগ্রীর পরিপূর্ণ প্রবেশাধিকারের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে জনসন বলেন, তার সরকার কিংবা তার দলের কোনও সরকার কোনও অবস্থাতেই জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিক দরকষাকষির টেবিলে তুলবে না।

যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্র সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে করবিন বলেন, ‘এর কিছুটা উন্নতি ঘটানো দরকার।’ তবে বরিস জনসন বলেন, ‘রাজপরিবার নিন্দার ঊর্ধ্বে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ