ট্রাম্পের ও ইসরাইলের মহাফাঁদে মুসলিম বিশ্ব: নিভে যেতে পারে ৩ কোটি প্রাণ

প্রকাশিত: ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৯

ট্রাম্পের ও ইসরাইলের মহাফাঁদে মুসলিম বিশ্ব: নিভে যেতে পারে ৩ কোটি প্রাণ

২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হা’ মলার পর সারাবিশ্বে প্রায় সোয়া তিন কোটি মুসলমানের প্রা’ণহানি ঘটেছে বলে পার্স টুডের একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে। নিবন্ধটি লিখেছেন রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক ড. সোহেল আহম্মেদ। নিবন্ধের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো: এড়ানোযোগ্য মৃ’ত্যু নিয়ে বহু বছর ধরে গবেষণা করছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রখ্যাত অধ্যাপক গিডেয়ন পোলিয়া।

 

তিনি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন, ৯/১১-পরবর্তী বিভিন্ন যু’দ্ধে তিন কোটি ২০ লাখ মুসলমানের প্রা’ণ নিভে গেছে। তিনি দেখিয়েছেন, সরাসরি যু’দ্ধ ও এর প্রভাবে দুই কোটি ৭০ লাখ মুসলমান প্রা’ণ হারিয়েছেন। এর সঙ্গে তিনি আরও ৫০ লাখ মুসলমানকে যোগ করেছেন। কারণ তাঁর গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, যু’দ্ধে যেসব মু’সলমান প্রাণ হা’রিয়েছেন তারা বেঁচে থাকলে তাদের ঔরসে জন্ম নিতো এই ৫০ লাখ মুসলমান।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইয়েমেনে কেবল সরাসরি যু’দ্ধে যারা নি’হত হচ্ছেন তাদের একটা পরিসংখ্যান নিয়মিত তুলে ধরছে। গত মাসে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৯/১১-এর পর ওই পাঁচ মুসলিম দেশে সরাসরি যু’দ্ধে মা’রা গেছেন আট লাখের বেশি মানুষ। এছাড়া সর্বস্ব হারিয়ে উ’দ্বাস্তু হয়েছেন আরও ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যানে যু’দ্ধের প্রভাবে প্রাণ হা’রানো মানুষের সংখ্যা তুলে ধরা হ’য়নি। কিন্তু বাস্তবতা হলো সরাসরি যু’দ্ধে যে সংখ্যক মানুষের প্রা’ণহানি ঘটে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মা’রা যায় যু’দ্ধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও ম’হামা’রিসহ নানা জ’টিলতায়। দু’টি পরিসংখ্যানেই এটা স্পষ্ট, গত দুই দশকের যু’দ্ধ’ ও এর প্রভাবে বিশাল সংখ্যক মুসলমান প্রা’ণ হারিয়েছেন এবং একই কারণে এখনও প্রতি মুহূর্তেই অকালে বহু মুসলমানের প্রা’ণ ঝরে যাচ্ছে।

এর সঙ্গে যদি বিভিন্ন দেশে জ’ঙ্গি হা’মলায় নি’হত মুসলমানদের যোগ করা হয় তাহলে সংখ্যাটা আরও অনেক বড় হবে। অনেকের ধারণা জ’ঙ্গি হা’মলার মূল টার্গেট অ’মুসলিমরা। কিন্তু বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত দুই দশকের জ’ঙ্গি হা’মলায় হ’তাহ’তদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই মুসলমান এবং মুসলিম অধ্যুষিত দেশেই বেশির ভাগ হা’মলা হচ্ছে। মুসলমানদের এই প্রা’ণহানি একটা পরিকল্পিত নি’ধনয’জ্ঞেরই অংশ। বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী শক্তি সুচারুভাবে মুসলিম নি’ধনের এই ষ’ড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাম্রা’জ্যবাদীদের মধ্যে একটি অ’ঘোষিত সমঝোতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিভিন্ন পদ্ধতিতে কয়েকটি ধাপে এ নি’ধনযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। প্রথমে সরাসরি সামরিক হা’মলা চালানো হচ্ছে, এরপর ইসলামের নাম দিয়ে জ’ঙ্গি গোষ্ঠী তৈরি করে তাদেরকে দিয়ে হ’ত্যা’কাণ্ড ঘটানো হচ্ছে এবং পরবর্তীতে এই জ’ঙ্গিদেরও ধ্বং’স করা হচ্ছে আইন ও বিচারের আওতায় এনে অথবা ভিন্ন মতের জ’ঙ্গিদের সঙ্গে দ্ব’ন্দ্ব বাধিয়ে দিয়ে।

কারণ তারাও মুসলমান। এখানে মুসলমান নি’ধনই বড় কথা।  ইসলাম ধর্ম এসেছে বিশ্বে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য। ইসলাম ধর্মের রা’জনৈতিক দর্শন ও কাঠামো রয়েছে। কোনো তৎপরতার চূড়ান্ত পরিণতি যদি অশান্তি ও বি’শৃঙ্খলা হয় তাহলে ইসলাম ধর্ম তা সমর্থন করে না। এ অবস্থায় শত্রুদের ফাঁদ থেকে বাঁচতে বিশ্বের মুসলমানদেরকে এখন ইসলাম ধর্মকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের কাজে সময় দিতে হবে। ই’সলামবিরোধী আস্তিক ও নাস্তিক মানুষগুলোর সামনে ইসলাম ধর্মের অস্তিত্বের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

faster