তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তথ্য ও সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অপসারণ করা হয়েছে

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তথ্য ও সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অপসারণ করা হয়েছে

তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তথ্য ও সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অপরাধীর সঙ্গে তিনি যে কথা বলেছেন তার রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। সেখানে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার (তুরিন আফরোজের) কণ্ঠ প্রমাণিত হওয়ায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা তুরিন আফরোজ কেন করলেন আমরা বুঝতে পারছি না। আমি শুধু এটুকু বলবো এটা দুঃখজনক এবং কাজটা যে আমি খুশি হয়ে করেছি তা কিন্তু না।

আইনমন্ত্রী বলেন, তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে একজন আসামির সাথে যে মামলা তিনি নিজে করছিলেন তার সাথে আলাপ আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। এবং এই মামলা আলাপ আলোচনা করার সময় তিনি এও বলেছিলেন এই মামলার কোনো সারবত্তা নেই। সেই কথোপকথন কিন্তু ট্যাপ বা রেকর্ড করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘ট্যাপ করা কথোপকথনগুলো ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো চিফ প্রসিকিউটর ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল সেটা আমাদের কাছে পাঠান। আমরা এটা নিয়ে যথেষ্ট সাক্ষীদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। একই সঙ্গে তুরিন আফরোজের সঙ্গে যতটুকু কথা বলা  প্রয়োজন মনে করেছি হয়েছে। কিন্তু যে সাক্ষ্য প্রমাণ আছে তার সব ডকুমেন্টস আছে। সেজন্য আমরা এই সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতি দিয়েছি।’

আনিসুল হক বলেন, ‘তিনি তার আগের যেসব মামলা পরিচালনা করেছেন তাতে আমরা যথেষ্ট সন্তুষ্ট। তাকে যে কারণে অব্যাহতি দেয়া হলো তার আগ পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে তার সেন্স অব জাজমেন্ট কাজ করে নি। তার দিক থেকে যেসব বক্তব্য ধারণ করা হয়েছে যেটা তার গলা বলে প্রমাণিত হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, ‘তাকে অব্যহতি দেয়াটা আরো জরুরি হয়ে পড়ে কারণ এ মামলায় যে মামলাটা নিয়ে কথা হচ্ছে সে মামলার কিন্তু চার্জ গঠন হয়ে গেছে। সেই কারণে এ বিষয়ে আমার মনে হয় যে আরো নিষ্পত্তি টানা দরকার ছিল সেজন্য এটা করা হয়েছে।’

তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সঙ্গে কথা হয়েছে এবং যেই প্রমাণাদি সেটাকে যদি তিনি ডিফেন্স করতে চায় করতে পারে। কিন্তু ট্যাপ করা কথাবর্তা আমরা পেয়েছি তার বিরুদ্ধে নালিশ পেয়েছি। এরপর আমরা সার্বিকভাবে আলোচনা করার পরই তাকে অব্যাহতি দিয়েছি।’

বর্তমান সরকারে শুদ্ধি অভিযানের কোনো অংশ কিনা যা দিয়ে আইনজীবীদের কোনো মেসেস দিতে চাচ্ছে সরকার এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি যে আইনজীবীরা এ কাজে নিয়োজিত আছেন, তারা তাদের দায়িত্ব সম্বন্ধে অত্যন্ত সচেতন। তাদেরকে এ বিষয়ে নতুন সংকেত দিতে হবে এটা আমি মনে করি না। তারা তাদের দায়িত্ব পালনে যথেষ্ঠ নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন বলে আমার বিশ্বাস।

কিন্তু এখানে যদি এই শৃঙ্খলার বাইরে কাজ করা হয় যেটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে তার মান ক্ষুণ্ন করতে পারে তাহলে আমাদের ব্যবস্থাতো নেবোই এবং সেরকম ব্যবস্থাই নিয়েছি বলে জানান আইনমন্ত্রী।