তৃতীয় বিশ্বে উত্তরাধুনিকতা~২

প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

তৃতীয় বিশ্বে উত্তরাধুনিকতা~২

শিকদার মুহাম্মদ কিব্রিয়াহ
———————————-

উত্তরাধুনিকতার সংজ্ঞা ও স্বরূপ নিয়ে যেমন আছে দ্বিধা-দ্বন্ধ ও বিতর্ক,তেমনি এর লক্ষ-উদ্দেশ্যও অনির্দিষ্ট-অনির্ধারিত। আছে বিভ্রান্তি,বিতর্ক ।সবই ধোঁয়াসার মত। অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থক।কারণ,উত্তরাধুনিকতাবাদীরা এ যাবত এ-কে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেননি,সংবদ্ধ মতবাদ রূপেও উপস্থাপন করেননি । তবে এর বেশ কিছু প্রবণতা স্পষ্ট। যদিও এগুলো বিক্ষিপ্ত তবুও এর স্বরূপ অনুধাবনে সূত্র সমণ্বয় করবে আশা করা যায়।
উত্তরাধুনিকতাবাদীরা ইতিহাস বিস্মৃত হতে চান,বিচ্ছিন্ন হতে চান। কিন্তু ইতিহাসের আবশ্যকতাকে অস্বীকারের যথার্থ কোন যুক্তি তারা দিতে পারেননি। অবশ্য তারা যুক্তিবাদীতাকেও মানতে চান না ।
নীৎশে বলেছিলেন,” ঈশ্বর মৃত। এখন আবশ্যক ‘ অতিমানব্’ -এর। এ অতিমানব মানুষ থেকেই সৃষ্টি হবে । সে নায়ক। প্রচণ্ড ক্ষমতাধর ও শক্তিশালী। “আধুনিক কালে মানুষ ঈশ্বরকে অস্বীকার করলো কিংবা অনাবশ্যক বলে ঘোষণা করলো এবং নিজেই ঈশ্বর হবার জন্য সচেষ্ট হল। নিজেকে সার্বিক ভাবে স্বাধীন ও অপার সম্ভাবনাময় জ্ঞান করলো। কিন্তু কাঙ্খিত এ স্বাধীনতার প্রয়োগে বাধা হল রাষ্ট্রশক্তি। স্বাধীনতা ও সাম্যের জন্য সংগঠিত মানুষ ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত করে। কিন্তু পরিণামে শুধু ধনিক শ্রেণির স্বার্থ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। ইংল্যাণ্ডে ঘটে শিল্প বিপ্লব। ইউরোপে বিকাশ ঘটে পুঁজিবাদের। কালিক আধুনিকতা আত্মস্থ হয়। পুঁজিবাদ কর্তৃত্ব খাটায়।ব্যাখ্যাতা হয় আধুনিকতার। আধুনিকতাবাদের ধারক ও বাহক রূপে পুঁজিবাদ বিস্তৃত হয় বিশ্বব্যাপী। কালিক আধুনিকতার নামে চলে আধুনিকতাবাদের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠা বা আগ্রাসন। অর্থনৈতিক সহযোগিতার নামে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। অতঃপর রাজনৈতিক হস্থক্ষেপ ।সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার। পুঁজিবাদী পাশ্চাত্যের উত্থান ঘটে এভাবেই। পশ্চিম ইউরোপে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলেও পুঁজিবাদ ও আধুনিকতাবাদের নেতৃত্ব ক্রমশ চলে যেতে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া বৃটেন বা পঃ ইউরোপ আমেরিকার নেতৃত্বে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। কালিক আধুনিকতার নিয়ামক,রূপকার ও প্রবক্তা হয় পাশ্চাত্যের আধুনিকতাবাদ।..…… চলবে