বিচারপতি সিনহার ভাতিজা ফাঁসলেন চুরির মামলায়

প্রকাশিত: ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

বিচারপতি সিনহার ভাতিজা ফাঁসলেন চুরির মামলায়

হ্যালো বাংলাদেশ ২৪ ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের সেথাম সিটিতে মুনলাইট গ্যাস স্টেশনে কর্মরত অবস্থায় বিপুল অর্থ চুরির মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হন রনজিৎ।

গত ১৫ নভেম্বর তাকে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা কম শাস্তি পেতে দোষ স্বীকারের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে ৫ বছরের জেল এবং চুরিকৃত সমুদয় অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ। তবে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রনজিৎ দোষ স্বীকার করতে চাইছেন না। কারণ তাহলে জেল খাটার পরই তার গ্রিনকার্ড বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে ইমিগ্রেশন বিভাগ। এদিকে কলম্বিয়া কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি পোল সিজেজকা আসামি রনজিৎকে জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার না করলে চুরির দায়ে কমপক্ষে ১২ বছরের জেল খাটতে হবে তাকে।

সিলেটের কমলগঞ্জের রনজিৎ (৪৮) নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে বসবাস করতেন। ২০১৫ সালে হাডসন সিটি সংলগ্ন সেথাম সিটির ৩১০ রিজোর হিল রোডে মুনলাইট গ্যাস স্টেশনে কাজ নিয়ে সেখানে যান তিনি।

ওই গ্যাস স্টেশনটির মালিক বাংলাদেশি সাঈদ মোহাম্মদ খোকন ব্যবসায়র টাকার হিসেবে গরমিল পেয়ে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে বুঝতে পারেন যে রনজিৎ অর্থ চুরি করছেন। ২০১৬ সালে ঘটনাটি ধরার পর তিনি পুলিশে অভিযোগ করলে রনজিৎ গা ঢাকা দেন। গত সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাঈদ মোহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির ভাতিজা হিসেবে আমি তাকে অনেক বেশি বিশ্বাস করেছিলাম। তাকে কাজ দিয়ে তার আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। তবে তার চুরির স্বভাবে পরিবর্তন ঘটেনি।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশ পাড়ি জমিয়ে এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে থাকা অবস্থায় রনজিৎ তার সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা করেছিলেন।

সাঈদ বলেন, রনজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে ঢাকায় ‘আদম ব্যবসা’ করতেন। তাতেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রনজিতের মামলা প্রসঙ্গে কলম্বিয়া কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চুরির দায়ে জেল তাকে খাটতেই হবে। তবে তার আগে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী আলোচনা চলছে। এরপরই দণ্ড ঘোষণা করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ