মুসলিম সভ্যতার বিকাশের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কাগজশিল্পের।

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯

হ্যালো বাংলাদেশ নিউজ ডেস্কঃ

ইসলামের প্রথম যুগে জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী না হয়েও শুধুমাত্র ঈমান, আত্মবিশ্বাস এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার বলে সাহাবীরা বিশ্ব জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তারা কখনোই জ্ঞান-বিজ্ঞানকে দূরে ঠেলে দেননি, অথবা বিজিত অঞ্চলের জ্ঞান-বিজ্ঞানকে অমুসলমানদের আবিষ্কার হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং উদারতার সাথে সেগুলো গ্রহণ করার উদাহরণ সৃষ্টি করে গিয়েছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে আব্বাসীয় শাসনামলে মুসলিম মনীষীরা প্রাচীন গ্রিক, ভারতীয় এবং চীনা শাস্ত্র চর্চা করে নিজেদেরকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মুসলমানদের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আসতে থাকে। নিজেরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করার পর একপর্যায়ে তাদের অনেকের মধ্যে অমুসলমানদের বিভিন্ন আবিষ্কার গ্রহণ করার ব্যাপারে অনীহা সৃষ্টি হতে থাকে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক কারণে মুসলমানদের মধ্যে রক্ষণশীলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিভিন্ন আবিষ্কারকে ক্ষতিকর এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার মাধ্যমে এ সময় বাস্তবে মুসলমানরা নিজেদেরই ক্ষতি করতে থাকে। ফলে ইউরোপে যখন রেনেসাঁ বা নবজাগরণ সৃষ্টি হয়, তখন যথাসময়ে যথাযথ প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করতে না পারার কারণে পিছিয়ে পড়তে শুরু করে মুসলমানরা।

বিষয়টি সবচেয়ে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা যায় মুসলমানদের দ্বারা কাগজ এবং মুদ্রণযন্ত্রের ব্যবহার পর্যালোচনার মাধ্যমে। তার মতে, মুসলিম সভ্যতার বিকাশের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কাগজশিল্পের। আর মুসলমানদের পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ মুদ্রণশিল্পের। কাগজশিল্পকে আলিঙ্গন করে, একে জ্ঞান চর্চার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মুসলমানরা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে পেরেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মুদ্রণযন্ত্রকে কাফেরদের আবিষ্কার হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং ইসলামের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধকরণের মাধ্যমে তারা নিজেদের পতন নিশ্চিত করেছিল, যার মাশুল মুসলমানদেরকে এখনও দিয়ে যেতে হচ্ছে।