যেভাবে এল থার্টি ফাস্ট

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

যেভাবে এল থার্টি ফাস্ট

হ্যালো বাংলাদেশ নিউজঃ

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : আমাদের জীবন থেকে কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একটি ইংরেজি বছর। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাত থেকে শুরু হবে ১ জানুয়ারি নতুন একটি বছর। ইতিহাসের গভীরে গেলে অনেক কিছুই জানা যায়। নানান ধর্ম যাজকেরা একে নানা দিবসে পরিবর্তন করে চালাতে চেয়েছেন। কিন্তু শেষমেষ পহেলা জানুয়ারিকেই বছরের প্রথমদিন বলে মেনে নিতে হয়। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করেন। ১ জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হয়। সাধারণভাবে প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী সম্রাট জমশীদ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে নওরোজের প্রবর্তন করেছিলেন। এ ধারাবাহিকতা এখনো পারস্য তথা ইরানে নওরোজ ঐতিহ্যগত নববর্ষের জাতীয় উৎসব পালিত হয়। ইরান হতেই এটা একটি সাধারণ সংস্কৃতির ধারায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে। পহেলা জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালিত হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে বর্ষবরণের নামে বাঙালি মুসলমানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা মেতে উঠে বেপর্দা, বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনা আর মাতলামির আনন্দে। থার্টি ফাস্ট নাইট পালন অর্থ হলো বিজাতীয়-বিধর্মীদের অনুসরণ। বিদায়ী বছরের বিষন্নতাকে ছাপিয়ে মনকে উৎফুল্ল করে তোলে নতুন বছরের আগমনী বার্তা। ক্যালেন্ডারের শেষ পাতাটি ছিঁড়ে একসঙ্গে উচ্চারিত হয় হ্যাপি নিউইয়ার। নতুন দিনের সূচনা, নতুন করে পথচলা। নতুন প্রাণচাঞ্চল্য, নতুন শপথ সব কিছুই যেন একাকার হয়ে যায় বছরের প্রথম দিনটিতে। অতীতকে মুড়িয়ে দিয়ে নতুনকে বরণ করে নেয়ার শিহরণই যেন অন্যরকম। প্রতি মুহূর্তেই চলে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার প্রস্ততি। বন্ধু প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে শুরু নতুন বছরের দিন। পুরনো গ্লানি মুছে নতুনভাবে বাঁচার প্রত্যয়ে শুরু হয় নববর্ষ। যে কারণে উম্মাদনাও একটু বেশি থাকে নববর্ষকে ঘিরে। বিভিন্ন উৎসব পার্বনের মধ্যদিয়ে বরণ করে নেয় হয়া নতুন বছরকে। ইংরেজি নববর্ষ পালনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উৎসব হচ্ছে থার্টি ফাস্ট নাইট। বছরের শেষ দিনটিতে পুরো বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় নববর্ষের উৎসব। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সুর ও সঙ্গীতের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। আতশবাজির আলোকছটায় ছেয়ে যায় আকাশ। শুরু হয় প্রিয়জনদের শুভেচ্ছ বার্তা পাঠানো। একে অপরকে উপহার আদান প্রদানের মাধ্যমে বরণ করে নেয় নতুন বছর। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই পালন করে হয়ে থাকে ইংরেজি নববর্ষ। নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু হলো আরেকটি নতুন বছরের। নয়া বছরে পথচলার অগ্রগতি যেন সঠিকভাবে সামনে এগিয়ে যায় তার জন্যও আকর্ষণীয় সব আয়োজন। মনে হয় নতুনকে নতুনরূপে বরণ করলে বা সাদর সম্ভাষণ না জানালে পুরোনটাই আঁকডে থাকবে। তাই উৎসমুখর পরিবেশে গোটা দুনিয়ার মানুষের পাশাপাশি আমাদের দেশের মানুষও একত্মতা ঘোষণা করে। বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য হাজার বছরের। বারো মাসে তেরো পার্বণে অভ্যস্ত বাঙালি জাতি খুবই উৎসব প্রিয়। যে কারণে নিজস্ব উৎসব ছাড়াও অন্যের উৎসবেও রঙ ছড়াতে দ্বিধাবোধ করে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ জাতি ইংরেজি নববর্ষ পালন করে থাকে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে। প্রিয়জনকে ফুল, মিষ্টি আর কার্ড আদান প্রদানের মাধ্যমে বরণ করে নেয় হয় নতুন বছরকে। আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। ঘুম ভাঙা মানুষরা জড়ো হয় নতুন অভিযাত্রা, নতুন রূপান্তরের তাগিদে। গেয়ে ওঠে নববর্ষের গান। আমাদের দেশে ইংরেজি নববর্ষের দিন সরকারি ছুটি না থাকলেও অন্যান্য দেশে রয়েছে। কারণ থার্টি ফাস্ট নাইট এত বেশি উৎসবের মেজাজে থাকে যার ফলে পরের দিন কর্মব্যস্ত মুড আর আসে না। একটি বছর গড়িয়ে আরেকটি বছর শুরু হয়। গত বছরের সব ব্যর্থতাকে মুছে দিতেই নতুন বছরের আগমন ঘটে। হাতে হাত ধরে সুন্দর একটি বছর পার করার কামনা, সাফল্যের ঝুড়ি প্রসারিত করা, বিশ্বের মানচিত্রে সফল দেশের একটি হিসেবে নিজের দেশকে তুলে ধরাই সবার কাম্য। নতুন বছরের দৃঢ প্রত্যয় হওয়া উচিত, আমাদের হাত দিয়েই যেন দেশের মঙ্গল বারতা বয়ে নিয়ে আসতে পারি। সফলতার বছর যেন হয় সে লক্ষেই দেশের প্রতি নিবেদিত হওয়া উচিত। সফলতার বার্তা ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা আমরাই পৌঁছে দেব বিশ্ববাসীকে। চিৎকার করে বলবো, শুভ হোক নতুন বর্ষ, শুভ নববর্ষ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ