১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে হাজারো জনতা, বিক্ষোভের নতুন রূপে দিল্লি

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে হাজারো জনতা, বিক্ষোভের নতুন রূপে দিল্লি

হ্যালো বাংলাদেশ নিউজঃলালকেল্লা থেকে যন্তরমন্তর। হাজার হাজার মানুষে অবরুদ্ধ রাজধানীর পথ। যেদিকে তাকানো যায় শুধু প্রতিবাদের মিছিল। কারোর হাতে প্ল্যাকার্ড, কেউ উড়িয়েছেন জাতীয় পতাকা। কারওর মুখে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে স্লোগান। রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, ছাত্রছাত্রী থেকে পরিবেশবিদ, মানবাধিকারকর্মী—বিক্ষোভের এক নতুন রূপ দেখেছে রাজধানী দিল্লি।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ক্ষোভের আগুন জ্বলেছে গত সপ্তাহ থেকেই। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ লাঠি চালালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের সমর্থনে রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ। ক্ষোভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরনো দিল্লি ও পূর্ব দিল্লিতেও। সীলমপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় পুলিশের। অশান্তি রুখতে লাঠি চালায় পুলিশ, ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা।

এদিন সকাল থেকেই দিল্লির পরিস্থিতি ছিল থমথমে। লালকেল্লা, মান্ডি হাউস এলাকায় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু বেলা গড়াতেই দেখা যায় অশান্তির আগুন ছড়িয়েছে সর্বত্র। লালকেল্লা চত্বরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের। লালকেল্লার সামনে থেকে আটক করা হয় বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী থেকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে। বিকেলের দিকে প্রতিবাদ মিছিল সরে আসে যন্তরমন্তরের কাছে। সেখানেওহাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দেখা গেছে বড় জমায়েত।

জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পরিস্থিতি আজও ছিল থমথমে। কলেজের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে নমাজ পড়তে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

জেএমআই চিফ প্রকটর ওয়াসিম আহমেদ খান বলেছেন, অনুমতি ছাড়াই কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের ধরতে ক্লাসেও ঢুকে পড়েন পুলিশকর্মীরা। এমনকি পুলিশ কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে গুলি চালিয়েছে এমন অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু, কলেজের ভেতরে গুলি চালানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ডিসিপি (দক্ষিণ-পূর্ব) চিন্ময় বিসওয়াল জানিয়েছেন, বহিরাগতদের ধরতেই ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল পুলিশ। কোনও ছাত্রছাত্রীকে আঘাত করা হয়নি। উল্টে বহিরাগতরাই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ