অবশেষে জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানালো সৌদি আরব

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২০

অবশেষে  জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানালো সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অনেকটা সময় নিয়ে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পর এ অভিনন্দন জানাতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই রাজতান্ত্রিক দেশটি। খবর আলজাজিরা, রয়টার্সের।

নির্বাচিত হওয়ার আগে সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক নিয়ে পুণমূল্যায় করবেন বলে প্রচারণায় জানিয়েছিলেন বাইডেন। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগী হত্যা নিয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোন প্রশ্ন তুলা না হলেও এ বিষয়ে নতুন করে সরব হবেন বলেও কথা দিয়েছিলেন বাইডেন। তাছাড়া ইয়েমেনে সৌদি আগ্রসনে মার্কিন সমর্থন নিয়ে নতুন করে চিন্তা করবে মার্কিন নতুন প্রশাসন।

ফলে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো দুনিয়া যখন বাইডেনকে অভিনন্দন জানাতে ব্যস্ত তখন কার্যত নীরব থাকতে দেখা গেছে সৌদি আরবের যুবরাজ এমবিএসকে। তবে বাইডেনের বিষয়ে নীরব থাকলেও পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তানজানিয়ার প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রবিবার জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে অভিনন্দন জানান সৌদি বাদশাহ সালমান ও তার পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। এ সময় তারা দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করতে রিয়াদের আগ্রহের কথা জানান।

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ইহুদি জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের। ট্রাম্প-কুশনারের প্রচেষ্টাতেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয় মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি প্রভাব বলয়ের একাধিক দেশ। সৌদি আরবও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। খাশোগি হত্যকাণ্ডের জবাবদিহিতা থেকেও যুবরাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এখন বাইডেনের জয়ের মধ্য দিয়ে দৃশ্যত হোয়াইট হাউজে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারালো রিয়াদ।

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বোমা হামলা থেকে বাদ পড়ছিল না স্কুল থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ি এমনকি জানাজার নামাজও। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেন যুদ্ধে রিয়াদকে সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন ওবামা প্রশাসন। ওই প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের পর সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র বাণিজ্যে উদ্যোগী হন ট্রাম্প। ফলে দৃশ্যত মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় সৌদি আরবের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ