ইসলামের দৃষ্টিতে মহামারিতে মুমিনের করণীয়

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২০

ইসলামের দৃষ্টিতে মহামারিতে মুমিনের করণীয়

হ্যালো বাংলাদেশ নিউজ ডেস্কঃ

প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়েছে। প্রযুক্তির হাত ধরে বিশ্ব এগিয়েছে অনেক দূর। কিন্তু তার মানে এই নয় যে মানুষ অসীম শক্তির অধিকারী হয়ে গেছে। মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহ তাদের যতটুকু জানান, তারা ততটুকুই জানে। যতটুকু শক্তি দান করেন, মানুষ ততটুকুই প্রয়োগ করতে পারে। এর বাইরে মানুষের কোনো ক্ষমতা নেই।

বর্তমানে ‘করোনা’ নামের নতুন একটি ভাইরাস এসে আমাদের সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত বহু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাস সংক্রান্ত খবরগুলোতে চীনের নাম বেশি শোনা গেলেও বিশ্বের অনেক দেশেই ধীরে ধীরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

কিছুদিন পর পর নতুন নতুন রোগব্যাধি ও ভাইরাস এসে এ বিষয়টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা যত উন্নতিই করি, মহান আল্লাহর রহমত ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এ কারণেই আমাদের উচিত, আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপন করা এবং সব পাপ থেকে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা। কারণ আমাদের পাপের কারণেই আমাদের ওপর বিভিন্ন আজাব নেমে আসে।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০১৯)

মনে করা হচ্ছে, সার্স বা ইবোলার মতোই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসও। তবে এটি নাকি সার্স বা ইবোলার চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। করোনাভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি শরীরে ছড়ায়। (সার্স)

এই ভাইরাস এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি। তবে ২০০২ সালে চীনে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামের একটি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল, যাতে সংক্রমিত হয়েছিল ৮ হাজার ৯৮ জন। মারা গিয়েছিল ৭৭৪ জন। সেটিও ছিল এক ধরনের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলো হলো কাশি, জ্বর, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, নিউমোনিয়া।

এই মুহূর্তে আমাদের সবার উচিত, মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা, সর্বদা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকা। কারণ কিয়ামতের নিদর্শনগুলোর একটি হলো  মহামারি।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারি, বকরির পালের মহামারির মতো, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে এক শ দিনার দেওয়ার পরও সে অসন্তুষ্ট থাকবে