ইসলামে মিথ্যা সাক্ষ্যের ভয়াবহ পরিনাম

প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

ইসলামে মিথ্যা সাক্ষ্যের ভয়াবহ পরিনাম

 

হোসাইন আহমদ,
শিক্ষার্থী: এম,সি কলেজ(রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ)

মিথ্যা সাক্ষ্য অত্যান্ত জগন্য একটি পাপ।এই পাপ সকল যুগেই বিদ্যমান ছিল।বর্তমানে আধুনিক যুগে ও ট্রেডিশন হিসাবে এই পাপ তার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে।মিথ্যা সাক্ষ্য সমাজ ব্যাবস্থা ও বিচার ব্যাবস্থা থেকে মানুষের আস্থা তুলে নেয়।মিথ্যা সাক্ষ্যের দ্বারা দূষিত বিচার ও বাস্তবায়িত শাস্তি একটি সমাজ বা দেশ কে কল্যান রাষ্ট্রের মুল ধারা থেকে দূরে সরিয়ে নেয়।
মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার যাপিত জীবন অসম্মান ও জিল্লতির।ইসলামী শরিয়তে জঘন্য পাপ সমুহের অন্যতম একটি হলো মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।একদিন রাসুলুল্লাহ (সা) হেলান অবস্থায় বসে ছিলেন। এ সময় তিনি তার সাথীদের বললেন! কবিরা গুনাহ সম্পর্কে আমি কি তোমাদের জানাবো? সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল সাঃ বলুন! রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন কবিরা গুনাহ হলো: • আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা•পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া। এ কথা বলে রাসুলে আকরাম (সা.) সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন •মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া। এই কথা তিনি তিনবার উচ্চারন করলেন। (বুখারি-হাদিসঃ২৬৫৪)

মিথ্যা সাক্ষের দ্বারা মুক্তি ও কল্যানের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। মিথ্যা সাক্ষ্য দাতার কোন আমল আল্লার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ ত্যাগ করতে পারে না সে সিয়াম পালন করে পানাহার থেকে বিরত থেকে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।[ বুখারি, হাদিস৬০৫৭]

কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য এবং অপবাদ আরোপ করা ওই ব্যক্তির ওপর জুলুমের নামান্তর ।
জুলুমের কারণে রাষ্ট্র ও সামজে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে। এ বিপর্যয় নিদৃষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ওপর আসে না,রাষ্ট্র সবাজের সবাই এর ফল ভোগ করতে হয়। রাসুলে আকরাম (সা.) মজলুমের অভিশাপ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সতর্ক করেছেন। রাসুল বলেছেন: আল্লাহ সুবহানাহুওতায়ালা মজলুমের দোয়া কখনো ফেরত দেন না। আল কোরআনে বলা হয়েছে •তোমরা ভয় করো ফিতনাকে, যা তোমাদের মধ্য থেকে শুধু জালিমদের ওপরই আসবেনা (সবার উপর আসবে)। জেনে রেখো, নিশ্চই আল্লাহ আযাব নাজিলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর।(সুরা : আনফাল- আয়াত-২৫)
প্রিয় পাঠক/পাঠিকা: আমাদের জীবন শুধু দুনিয়াতেই শেষ নয়।পরকালের অনন্ত অসীম জীবনই আমাদের আসল জীবন। তথায় আমাদেরকে চিরদিন থাকতে হবে।মনে রাখতে হবে সত্য সব সময় সুন্দর ও স্থায়ী। আর মিথ্যা সব সময় কুৎসিত ও অস্থায়ী। ইহকাল ও পরকালে মিথ্যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।আল্লাহ আমাদের মিথ্যা কথা,মিথ্যা কাজ,মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে হেফাজত করে জান্নাত উপযোগী মানুষ হিসাবে কবুল করুন(আমিন)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ