ইসলামে সালামের প্রচলন, গুরুত্ব ও আদাবসমূহ

প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২০

ইসলামে সালামের প্রচলন, গুরুত্ব ও আদাবসমূহ

আব্দুল কাদির আল মাহদি
বার্সেলোনা, স্পেন থেকে

আল্লাহ তা’আলা আমাদের একে অপরকে অভিবাদনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একরীতি চালু রেখেছেন। সেটি হচ্ছে পরস্পরের মাঝে সালামের ব্যাপক প্রচলন করা। আর এই সালামের প্রচলিত রীতি হচ্ছে মুসলমানদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতি, ফেরেশতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতি এমনকি কিয়ামত দিবসে জান্নাতবাসী আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাতের সময় শুভেচ্ছা ও অভিবাদনের রীতি।

****ইসলামে সালামের পদ্ধতি-
ইসলাম ধর্মে সালাম দেয়ার পদ্ধতি অর্থাৎ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পদ্ধতি দুনিয়ার শুরুর দিকে আদাম (আ) কে শিখিয়ে দেয়ার মাধ্যমে চালু হয়েছে।
অন্য ধর্মে বা কালচারে শুভেচ্ছা বিনিময়ের বাক্যে সময় বিশেষ রদবদল হয়। যেমন- ইংলিশ কালচারে সাকালে good morning, দুপুরে good afternoon, আবার বিকালে good evening ইত্যাদি। কিন্তু ইসলাম ধর্মের শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতি আল্লাহ তা’আলা ও রাসুল (সা) কর্তৃক নির্ধারিত শব্দমালার ভিতর দিয়ে করা উচিত।
এই নির্ধারিত পদ্ধতির বাহিরে নিজেদের মনগড়া রীতি ইসলাম সম্মত নয়। আল্লাহ তা’আলা যেমন শিখিয়েছেন তার রদবদল যেমন করা যাবে না তেমনি আল্লাহ তা’আলার শিখিয়ে দেয়া বাক্যে কমানো বা বাড়ানো যাবে না। এই পদ্ধতি হচ্ছে “ আস-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ”। আবূ হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত হাদিস –
‎وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: لَمَّا خَلَقَ اللهُ آدَمَ عليه السلام، قَالَ: اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولئِكَ ـ نَفَرٍ مِنَ المَلاَئِكَةِ جُلُوسٌ ـ فَاسْتَمِعْ مَا يُحَيُّونَكَ ؛ فَإنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيتِكَ . فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا: السَّلاَمُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَزَادُوهُ: وَرَحْمَةُ اللهِ . (متفقٌ عَلَيْه)
নবী (সা) বলেছেন, ‘‘আল্লাহ যখন আদম (আ) কে সৃষ্টি করলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘তুমি যাও এবং ঐ যে ফিরিশতামন্ডলীর একটি দল বসে আছে, তাদের উপর সালাম পেশ কর। আর ওরা তোমার সালামের কী জবাব দিচ্ছে তা মন দিয়ে শুনো। কেননা, ওটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তান-সন্ততির সালাম বিনিময়ের রীতি।’ সুতরাং তিনি (তাঁদের কাছে গিয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’। তাঁরা উত্তরে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকা অরহমাতুল্লাহ’। অতএব তাঁরা ‘অরহমাতুল্লাহ’ শব্দটা বেশী বললেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) হতে বর্ণিত আরেকটি হাদিস তিনি বলেন
عَن عِمْرَانَ بنِ الحُصَينِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَرَدَّ عَلَيْهِ ثُمَّ جَلَسَ، فَقَالَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم: عَشْرٌ ثُمَّ جَاءَ آخَرُ، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ، فَقَالَ: عِشْرُونَ ثُمَّ جَاءَ آخَرُ، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ الله وَبَركَاتُهُ، فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ، فَقَالَ: ثَلاثُونَ (رواه أَبُو داود والترمذي)

একটি লোক নবী (সা) এর নিকট এসে এভাবে সালাম করল ‘আসসালামু আলাইকুম’ আর নবী (সা) তার জবাব দিলেন। অতঃপর লোকটি বসে গেলে তিনি (সা) বললেন, ‘‘ওর জন্য দশটি নেকী।’’ তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে ‘আসসালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম পেশ করল।
নবী (সা) তার সালামের উত্তর দিলেন এবং লোকটি বসলে তিনি বললেন, ‘‘ওর জন্য বিশটি নেকী।’’ তারপর আরেকজন এসে ‘আসসালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহ’ বলে সালাম দিল। তিনি তার জবাব দিলেন। অতঃপর সে বসলে তিনি বললেন, ‘‘ওর জন্য ত্রিশটি নেকী।’’ (আবূ দাউদ, তিরমিযী)

***সালামের জবাব দেয়া জরুরি-
উপরোক্ত দুটি হাদিস থেকে বুঝাগেল সালামের জবাব দেয়াও জরুরি এবং জবাবে সালামদাতা থেকে আরেকটি বাড়িতে বলাও সাওয়াবের। এ বষয়ে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কালামে ঘোষণা করেন-
‎وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا

“কেউ যখন তোমাদের সালাম দেয় ও শুভেচ্ছা জানায়, তখন তোমরা তার চেয়েও ভালোভাবে সালামের জবাব এবং শুভেচ্ছা জানাবে অথবা অনুরূপভাবেই জবাব দেবে। আল্লাহ সব বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।(আল কোরআন ৪/৮৬)

***সালামের ব্যাপক প্রচলন আবশ্যক-
রাসুল (সা) যখন মদিনায় হিজরত করতে আসেন। মদিনাবাসী এ খবর পেয়ে অধির আগ্রহে অপেক্ষার প্রখর গুনছিলেন। কখন উপস্থিত হবেন প্রিয় রাসুল (সা)। তিনি (সা) যখন উপস্থিত হলেন। মদিনাবাসীর সাথে প্রথম সাক্ষত হল। তাঁর দেয়া প্রথম উপদেশ ছিল সালামের ব্যাপক প্রচলনের। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
‎أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قالَ: أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشوا السَّلامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا باللَّيْل وَالنَّاسُ نِيامٌ، تَدخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلامٍ.
‎(رواهُ الترمذيُّ)
আমি রাসুলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি, ‘‘হে লোক সকল! তোমরা সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান কর, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখ এবং লোকে যখন (রাতে) ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা নামায পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’ (তিরমিযী হাসান সহীহ)

***কারও ঘরে প্রবেশের পূর্বে সালাম দেয়া জরুরি-
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কালামে ঘরে প্রবেশের সময় সালাম প্রচলনের হুকুম করছেন-
‎يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَىٰ أَهْلِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। (আল কোরআন ২৪/২৭)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন –

‎فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَىٰ أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও। (আল কোরআন ২৪/৬১)

****সালাম মুসলমানের হ্ক্ব-
রাসুল (সা) অপর মুসলমানকে সালাম দেয়া মুসলমানদের পরস্পরের হক্ব বলে নির্দেশ করেছেন।
‎حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ: إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْهُ، وإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَسَمِّتْهُ، وإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ، وإِذَا مَاتَ فَاتْبَعْهُ. (رَوَاهُ مُسْلِمٌ)

রসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ মুসলিমের প্রতি মুসলিমের হক ছয়টি। ১. কারো সাথে তোমার দেখা হলে তাকে সালাম করবে, ২. তোমাকে দা’ওয়াত করলে তা তুমি কবূল করবে, ৩. সে তোমার নিকট ভাল উপদেশ চাইলে, তুমি তাকে ভাল উপদেশ দিবে, ৪. সে হাঁচি দিয়ে ‘আলহাম্‌দু লিল্লাহ’ বললে, তার জন্যে তুমি (ইয়ারহামুকাল্লাহ্‌ বলে) রহ্‌মাতের দু’আ করবে, ৫. সে পীড়িত হলে তার সেবা-শুশ্রুষা করবে এবং ৬. সে মৃত্যুবরণ করলে তার (জানাযার) সাথে যাবে। (সহিহ মুসলিম)

****যেসব কারণে সালাম বিনিময় মুসলমানদের জন্য গর্বের-

১. সালামের রীতি মুসলমানদের জন্য গর্বের বিষয় যে ইসলাম এমন সুন্দর রীতি চালু করছে। এর দ্বারা মুসলমানের মান মার্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে।এই জন্য ইয়াহুদীরা মুসলমানদের সাথে হিংসা করে। আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত
عن عائشة – رضي الله عنها – عن النبي – صلى الله عليه وسلم – قال: ما حسدتكم اليهود على شيء ما حسدوكم على السلام والتأمين.
নবী (সাঃ) বলেনঃ ইহুদীরা তোমাদের কোন ব্যাপারে এতো
বেশী ঈর্ষান্বিত নয় যতোটা তারা তোমাদের সালাম ও আমীনের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত। (ইবনে মাজাহ )

২. সালাম মুসলমানদের জন্য গর্বের এর আরেকটি কারণ হচ্ছে। সালাম হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার এক সিফাতি নাম। আর আল্লাহ তা’আলর জাত ও সিফাত হচ্ছে সব দোষ-ক্রটি ও ঘাটিতির উর্ধে।
‎عن أنسٍ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن السلام اسمٌ من أسماء الله تعالى، وضَعه الله في الأرض؛ فأفشوا السلامَ بينكم (في الأدب المفرد)
আনাস (রা) হতে বর্ণিত রাসুল (সা) বলেছেনঃ সালাম হলো আল্লাহ তাআলার নামসমূহের একটি। তিনি দুনিয়াবাসীদের জন্য তা দান করেছেন। অতএব তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের বহুল প্রচলন করো। (আদাবুল মুফরাদ)
সালাম মুসলমানদের জন্য গর্বের এর আরেকটি কারণ হচ্ছে। সালামের মাধ্যমে অন্যের মঙ্গল কামনা করা হয়।

‎عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ قَالَ تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ (متفق عليه)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল ‘আস (রা) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল সা) কে জিজ্ঞাসা করল, ‘সর্বোত্তম ইসলামী কাজ কী?’ তিনি বললেন, “(ক্ষুধার্তকে) অন্নদান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে (ব্যাপকভাবে) সালাম পেশ করবে।’’ (বুখারী-মুসলিম)

৩. সালাম মুসলমানদের জন্য গর্বের এর আরেকটি কারণ হচ্ছে। সালামের মাধ্যমে ভ্রাতিত্ব মজবুত হয়। অন্যের জন্য দু’আ করা হয়। আল্লাহ তা’আলার রহমত ও সন্তুষ্টি কামনা করা হয়।

‎وعن عبد الله بن عمر كان يقول أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال :أفشوا السلام وأطعموا الطعام وكونوا إخوانا كما أمركم الله عز وجل (رواه بن ماجة)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সালামের ব্যাপক প্রসার করো, খাদ্য দান করো এবং ভাই ভাই হয়ে সদ্ভাবে থাকো, যেমন মহামহিম আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

৪. সালাম মুসলমানদের জন্য গর্বের এর আরেকটি কারণ হচ্ছে। সালাম হচ্ছে ঈমানের লক্ষণ ও জান্নাতে যাওয়ার কারণ।

‎قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا ، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا ، أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ (أخرجه مسلم)
আবূ হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ না তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে উঠবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে লাগবে? (তা হচ্ছে) তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’’ (মুসলিম)

৫. সালাম মুসলমানদের জন্য গর্বের এর আরেকটি কারণ হচ্ছে। জান্নাতে এই পদ্ধতিতে অভিবাদন জানানো হবে। এই সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিই জান্নাতবাসীর শুভেচ্ছা পদ্ধতি। আল্লাহ তা’আলা বলেন-
‎تَحِيَّتُهُمْ يَوْمَ يَلْقَوْنَهُ سَلَامٌ ۚ وَأَعَدَّ لَهُمْ أَجْرًا كَرِيمًا

যেদিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে; সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম। তিনি তাদের জন্যে সম্মানজনক পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন। (আল কোরআন ৩৩/৪৪)

আমরা প্রতি ফরজ সালাত শেষে আল্লাহ তা’আলার নিকট এই সালামতি, শান্তিই তালাশ কর।

‎اللهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
‘হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি আর আপনার কাছ থেকেই আসে শান্তি; আপনি বড়ই বরকতময় হে সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী’।

***কারও ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেয়া সুন্নত।

وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: يَا بُنَيَّ، إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أهْلِكَ، فَسَلِّمْ، يَكُنْ بَرَكَةً عَلَيْكَ، وَعَلَى أهْلِ بَيْتِكَ (رواه الترمذي)
আনাস (রা) বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে বলেছেন- হে বৎস! তুমি যখন তোমার পরিবার-পরিজনের নিকটে যাও, তখন সালাম দিও। তাতে তোমার ও তোমার পরিবার-পরিজনের কল্যাণ হবে। (আত-তিরমিজি)

****সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কৃপণ হচ্ছে-
সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কৃপণ হচ্ছে যে অপরকে সালাম দিতে ইতস্তবোধ করে। রাসুল (সা) বলেন-
‎ إنَّ أبخل الناس من بخل بالسلام، والمغبون من لم يردَّه، وإن حالت بينك وبين أخيك شجرة فإن استطعت أن تبدأه بالسلام، أو لا يبدأك بالسلام فافعل
যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কৃপণ এবং যে ব্যক্তি সালামের উত্তর দেয় না সে প্রতারক। যদি তোমার ও তোমার অপর ভাইয়ের মাঝখানে কোন গাছ প্রতিবন্ধক হয় তবে যথাসাধ্য তুমিই তাকে আগে সালাম দিতে তৎপর হবে। সে যেন তোমার আগে তোমাকে সালাম দিতে না পারে। (আদাবুল মুফরাদ)

****সালামের আদাবসমূহ-
১.আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে, অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দেবে এবং ছোটরা বড়কে সালাম দেবে।
عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى المَاشِي، وَالمَاشِي عَلَى القَاعِدِ، وَالقَليلُ عَلَى الكَثِيرِ . متفقٌ عَلَيْهِ، وَفِي رِوَايَةٍ لِلبُخَارِي: وَالصَّغِيرُ عَلَى الكَبِيرِ
আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন। ‘‘আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দেবে।’’ (বুখারী-মুসলিম)
বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘ছোট বড়কে সালাম দেবে।’’

২.সালাম দিতে হবে-হাদিসের বর্ণিত শব্দমালা দিয়ে কমবেশি ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন না করে।

৩.উঁচু আওয়াজে শুনিয়ে সালাম দেয়াও আদবের অন্তর্ভূক্ত। “সাবিত ইবনে উবায়দ (রা) বলেন। আমি এক মজলিসে আসলাম। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি বলেন, তুমি সালাম দিলে তা (প্রতিপক্ষের) কর্ণগোচর করো। কেননা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বরকতপূর্ণ ও পবিত্র বাক্য”। (আদাবুল মুফরাদ)

৪. শুধু হাত ও মাথার ইশারায় সালাম না দেয়া। আতা ইবনে আবু বারাহ (রা) বলেন- সাহাবীগণ হাতের ইশারায় সালামের আদান-প্রদান অপছন্দ করতেন।(আদাবুল মুফরাদ)

৫. কোন মজলিস হতে উঠতে বসতে সালাম দেয়া। আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِذَا انْتَهَى أَحَدُكُمْ إِلَى مَجْلِسٍ فَلْيُسَلِّمْ فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ ثُمَّ إِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ فَلَيْسَتِ الأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الآخِرَةِ ‏

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি মজলিসে গিয়ে পৌঁছলে সে যেন সালাম দেয়। সে ফিরে যেতেও সালাম দিবে। কেননা পরের সালাম আগের সালাম থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। -(তিরমিযী)

***অমুসলিমদের সালাম দেয়া বা সালামের জওয়াব দেয়া-
অমুসলিমদের সালাম দেয়া যাবে না। তাদেরকে তাদের কালচার অনুসারে শুভেচ্ছা বা অভিবাদন দিতে কোন অসুবিধা নেই। এমনকি তারা সালাম দিয়ে দিলে সালামের জওয়াব দেয়াও যাবে না।

রসুলুল্লাহ (সা) -এর সাহাবীগন নবী (সা) -কে প্রশ্ন করলেন, আহলে কিতাবরা তো আমাদের সালাম দিয়ে থাকে, আমরা কেমন করে তাদের উত্তর দিব? তিনি বললেন, তোমরা বলবে, “ওয়া ‘আলাইকুম”। (সহিহ মুসলিম)

দরুল কোরআন ইসলামিক সেন্টার বার্সেলোনা স্পেনে আব্দুল কাদির আল মাহদি প্রদত্ত খুতবা।