একজন নারীর একসাথে একাধীক স্বামী গ্রহন হারাম কেন?

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

একজন নারীর একসাথে একাধীক স্বামী গ্রহন হারাম কেন?

প্রশ্ন:একজন পুরুষ একসাথে চারজন নারীকে বিয়ে করতে পারেন,চার জনের সাথে সংসার করতে পারেন অতচ একজন নারী একসাথে চারজন পুরুষকে বিয়ে করে তাদের সাথে ঘর সংসার করলে অসুবিধা কোথায়?

উত্তর :

প্রথমত:আল্লহার বিধান হচ্ছে একজন নারী একসাথে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করতে পারবেন না কাজেই আল্লাহর প্রতি ঈমানের দাবী হচ্ছে- তাঁর বিধিবিধানকে মেনে নেওয়া।মানুষের জন্য কোনটি কল্যাণকর এবং কোনটি মানুষের জন্য অকল্যাণকর এটা আহকামুল হাকিমীন আল্লাহই ভালো জানেন বিধায় একজন নারী একসাথে একাধীক পুরুষের সাথে মিলিত হওয়া হারাম।

দ্বিতীয়ত:আল্লাহ তাআলা নারীকে গর্ভ ধারণের জন্য সৃষ্টি করেছেন।পুরুষকে গর্ভধারণ করতে হয় না। সুতরাং কোন নারী যদি একাধিক পুরুষের সাথে মিলিত হবার পর গর্ভধারণ করে তাহলে সন্তানের পিতৃ পরিচয় জানা অসম্ভব হয়ে যাবে।এতে করে পিতৃপরিচয়,বংশপরিচয় হারিয়ে যাবে।পরিবার প্রথা ভেঙ্গে পড়বে, শিশুরা বাস্তুহারা হয়ে পড়বে এবং নারী তার সন্তানাদি লালনপালন ও ভরণপোষণের ভার বইতে না পেরে ভেঙ্গে পড়বে। এভাবে এক পর্যায়ে নারীরা স্থায়ী বন্ধ্যাত্বও গ্রহণ করতে পারে। যার ফলে মানব সমাজে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

 তৃতীয়ত:এছাড়া আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে সাব্যস্ত হয়েছে যে,এইডসের মত দুরারোগ্য ব্যাধিগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে- কোন নারীর একাধিক পুরুষের সাথে মিলিত হওয়া। নারীর গর্ভাশয়ে বহু রকমের বীর্য একত্রিত হওয়ার ফলে এ ধরনের দুরারোগ্য রোগের কারণ ঘটে। এ কারণেই তো আল্লাহ তাআলা তালাক প্রাপ্ত নারী বা যে নারীর স্বামী মারা গিয়েছে তার উপর ইদ্দত পালন করা ফরজ করেছেন। যাতে করে কিছুকাল এভাবে (সঙ্গমহীন) থাকার মাধ্যমে তার গর্ভাশয় ও এর আশপাশের স্থানগুলো আগের স্বামীর বীর্য ও সঙ্গমের আলামত থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়ে যায়।

আশাকরি ইসলাম একজন নারীকে একাধীক পুরুষ গ্রহণকে কেন হারাম করেছে? বিষয়টি উপলব্ধিতে এসেছে।

-মাওলানা সাদিক সিকানদার।