করোনা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে মোড় নিচ্ছে,সেই অর্থে এটি এখনো শুরুই হয়নি:ইতালির ডাক্তার

প্রকাশিত: ২:১৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২০

করোনা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে মোড় নিচ্ছে,সেই অর্থে এটি এখনো শুরুই হয়নি:ইতালির ডাক্তার

হ্যালো বাংলাদেশ নিউজ ডেস্কঃকরোনাভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বর্তমান সময় সব থেকে ভয়াভবহ নাম এটি। ইতিমধ্যে অর্থ পৃথিবী আক্রান্ত হয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে। দিন দিন বাড়ছে এই ভাইরাসের দাপট। বিশ্ববাসী কোন কিছুতেই যেন মুক্তি পাচ্ছে না এর হাত থেকে। বিশ্বের প্রায় ১১৭ টির বেশি দেশে আনা দিয়েছে এই ভাইরাসটি। এই ভাইরাসটি নিয়ে কোনো কূল-কিনারা করতে পারছেনা বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী কিংবা ডাক্তাররা। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ইতালির একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। জানিয়েছেন ভয়াবহতার কথা। পাঠকদের উদ্দেশ্যে স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো হুবহু :-
তিনি লিখেছেন, এখানে আমাদের সঙ্গে কী ঘটছে এবং কী লিখবো তা নিয়ে অনেক ভাবনা-চিন্তার পর মনে হলো- চুপ থাকা দায়িত্ববানের কাজের মধ্যে পড়ে না। করোনাভাইরাসের দাপটের মুহূর্ত আমি বার্গামোতে কাটিয়েছি। আমি জানি যে, এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক তৈরি করা যাবে না। কিন্তু ভয়াবহতার বার্তা যখন মানুষের কাছে একেবারেই পৌঁছে না, তখন সেটি আর ভয়ের।

বার্গামোতে এক লাখ ২২ হাজার মানুষ বাস করে। মিলান থেকে ৩০ মাইল দূরের এই শহরে ১২৪৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
ডা. ডেনিলে ম্যাকিনি লিখেছেন, গত সপ্তাহে আমি পুরো হাসপাতাল পর্যবেক্ষণ করে দেখে অবাক হয়েছি। আমাদের বর্তমান শত্রু তখন পর্যন্ত এতো ভয়াবহ আকারণ ধারণ করেনি। হাসপাতালের ওয়ার্ড তখনো খালি ছিল, বিদ্যুৎও চলে যাচ্ছিল মাঝে মাঝে।
তিনি আরও লেখেন, বর্তমানের মতো নিরবতা আর হাসপাতালের করিডোরগুলোতে পরাবাস্তব শূন্যতা অতীতে আর কখনো দেখিনি। আমরা এমন এক যুদ্ধ শুরুর আগ মুহূর্তে আছি, যা এখনো সেই অর্থে শুরু হয়নি। অনেকে (আমিসহ) নিশ্চিত ছিলেন না যে এ জাতীয় বর্বরতা কখনো আসবে।

আমি এখনো মনে করতে পারছি যে, সপ্তাহখানেক আগে এক রাতে একজনের পরীক্ষার (করোনা) ফল জানার অপেক্ষায় আছি। যখন আমি এটা বুঝতে পারলাম, আমার আতঙ্ক বেড়ে গেল। আমি এখন দেখতে পাচ্ছি, কী ঘটতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এখন নাটকীয়ভাবে মোড় নিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই ভাইরাস ’বিস্ফোরিত’ হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে ভয়বহ আকার নিচ্ছে। হাসপাতালে খালি করা ওয়ার্ডগুলো ক্ষণিকের মধ্যে পূরণ হয়ে যাচ্ছে। এখন হাসপাতালে বেডের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এখন কাউকে সার্জারি করতে গেলেও করোনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে।
চিকিৎসকের এই পোস্ট ৩৫ হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। তবে ডা. ডেনিলে ম্যাকিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন, করোনাভাইরাসকে যেন কোনো ফ্লুর সঙ্গে তুলনা না করা হয়।

তিনি লিখেছেন, এখানে বাড়তি কোনো সার্জন নেই, ইউরোলজিস্ট নেই, অর্থোপেডিক্স নেই; আমরাই এই সুনামি মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছি। আমি চিকিৎসকদের চোখেমুখে যে ক্লান্তি দেখেছি, তাতেই বোঝা যায় কী পরিমাণ চাপ তাদের ওপর পড়েছে।
চিকিৎসকরা ’বেড’ সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং রোগীদের ধরে ওঠানো-নামানোর কাজ করছেন। এমনকি তারা থেরাপিস্টদের কাজ থেকে শুরু করে নার্সের কাজও করছেন। ওদিকে নার্সরা চোখের পানি ফেলছেন সবাইকে বাঁচাতে না পেরে।

এখানে কোনো শিফট নেই, আলাদা কর্মঘণ্টা নেই। সামাজিক জীবন বলে কিছু নেই আমাদের। পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের সঙ্গে তেমনভাবে দেখা পর্যন্ত করছি না।
এরই মধ্যে তার অনেক সহকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত হয়ে তারা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, হাজারো গবেষণা করেও এই ভাইরাসের করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কার হচ্ছে না। বিশ্বের বড় বড় সব বিজ্ঞানীরা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে। পরিস্থিতি এমন দিকে মোড় নিচ্ছে বিশ্বের কোন দেশই বাদ থাকবে নাই এই ভাইরাস থেকে। চীন থেকে শুরু হযওয়া এই ভাইরাস চীনের পরে সব থেকে বেশি ক্ষতি করেছে ইতালিকে। বাংলাদেশেও দেখা দিয়েছে ভাইরাস। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে তিনজন আক্রান্ত হয়েছে করোনা ভাইরাসে। আর এই ভাইরাসটি মোকাবেলা করতে ইতিমধ্যে সরকার নিয়েছে নানা ধরনের উদ্যোগ।