কি ভাবে ঘরে ঘরে রমজানকে আমেজময় করে তুলবো; রমজানের করনীয় কি?

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২০

কি ভাবে ঘরে ঘরে রমজানকে আমেজময় করে তুলবো; রমজানের করনীয় কি?

সম্মানিত মুসাল্লিয়ান!
আপনার আমার জানা যে রমজান আগত। রমজানের আগাম প্রস্তুতি আজ থেকেই শুরু করতে হবে।বর্তমান সংকটময় মূহুর্তে রমজানের এই সুযোগ যেন আমরা হাত ছাড়া না করি। পরিস্থিতি থেকে প্ররিত্রানের জন্য আল্লাহ তা’আলার নিকট চাইতে হবে। তার দেয়া বিশেষ সুযোগগুলো নেয়ামত মনে করে কাজে লাগাতে হবে। তাহলে আমরা উভয় জগতে সফলকাম হবো। ইনশাল্লাহ!
আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, বিষেশ সুযোগ অন্বেষন কর এবং তাঁর পথে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাও যাতে তোমরা সফলকাম হও। ( আল কোরআন ৩৫/৫)

এবারের রমজানে মসজিদ বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে ও সামাজিক,ইসলামিক অনুষ্ঠান। কাজেই রমজানে থাকছে না বিশেষ আমেজ।
কিন্তু আমরা চাইলে রমজানকে আরও বেশি আমেজময় বানাতে পারি। আগে স্পেসিফিক জাগা তথা এবাদতের স্থান মসজিদ, ইসলামিক সেন্টারই আমাদের মিলন কেন্দ্র হতো। এখন প্রতিটি ঘরকে পারিবারিক মিলন কেন্দ্রের রূপ দিবো। পার্থক্য শুধু এতটুকুই।
যদিও এবার এবাদতখানাগুলো বন্ধ। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদীর বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে, আল্লাহ তা’আলা জমিনের প্রতি ইঞ্চিকে মসিজেদর মত পবিত্র করেছেন। কাজেই প্রতিটি ঘরকে বিশেষ বিশেষ আমল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, হাদিসের ফ্যামেলি দরস,তাসবিহ-তাহলিল দিয়ে মসজিদের ভূমিকায় নিয়ে আসবো। এ ভাবে রমাজানকে আমেজময় করতে পারবো।

এ ছাড়া আরও কিছু কর্মসূচি যার দ্বারা এবারের রমজান আমেজময় করবো।
?আজান-এক্বামতের সাথে তুলনামূলক ক্বেরাত ভালো জানে এমন কাউকে দিয়ে প্রতিদিন ঘরে ঘরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সহ তারাবিহর জামাত চালু করবো।
?প্রতিদিন সামান্য হলেও সেহরীর খাওয়ার আমল করবো। যদিও খাওয়ার আগ্রহ না থাকে। কারন হাদিসে আছে সেহরীর খানেওয়ালর উপর আল্লাহর রহমত ও ফেরশাতাদের রহমতের দু’আ থাকে।

?অন্যা সময়ের মতো বিশেষত রমজানে দিনের বেলায় রোজাকে খারপ কথা,কাজ,সেক্সোয়াল মিউজিক, সেক্সোয়াল দৃশ্য ইত্যাদি গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকবো। কারন এগুলো রোজাকে নষ্ঠ করে দেয়ে। সব সময় চেষ্টা করবো নিজের রোজাকে হেফাজত করার।

?প্রতিদিন সময়ের সাথে সাথে নিজে ইফতার করবো, সাধ্য অনুযায়ী অন্যদের ইফতার করাবো। অন্যকে ইফতার করালে পুরা রোজার সাওয়াব পাওয়া যায় ।
?বিশেষত শেষ রাতে তাহাজ্জুদ ও দুআর আমল কন্টিনিউ করবো। এবং প্রিতিদিন ইফতারের আগে কমাজকম ৫মিনিট হলেও নিজের জন্য,আত্মীয়ত স্বজন,বিশ্বের মানুষের জন্য দু’আ করবো। কারন শেষ রাত্রে ও ইফতারের আগে দুআ কবুল হয়।

?প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত করা বা কোরআন শেখা ও শেখানো, কোরআনের অর্থ বুঝার জন্য বিশেষ টাইম নির্ধারণ করবো। যাদের কোরআন সহিহ না অনলাইনে হলেও কোন আলেম/ ক্বারী সাথে যোগাযোগ করে প্রতিদিন কোরাআন সহিহ করার চেষ্টা করবো। কোরআন শেখা প্রতি মুসলমানের জন্য ফরজ।
?প্রতেকে নিজে বিশ্বস্ত কোন আলেমের সাথে সম্পর্ক রাখবো। যাতে যে কোন জরুরতে শরয়ী পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পেতে পারি। শরীরিক ভালো থাকার জন্য ডাক্তার ও আধ্যাত্মিক ভালো থাকার জন্য আলেম, দুনোর সমন্বয়ে রমজানের রোজা সহ সব আমল করতে থাকা উচিত।

হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির মাহদি
দারুল কোরআন ইসলামিক সেন্টার বার্সেলোনা, স্পেন