গোয়াইনঘাটে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, সরেজমিন পরিদর্শনে ইউএনও, জনমনে স্বস্তি

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০

গোয়াইনঘাটে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, সরেজমিন পরিদর্শনে ইউএনও, জনমনে স্বস্তি

 

নিজস্ব সংবাদদাতা : গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের এড. জেবুন নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে সীমাহীন জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিগত ২৫ জুলাই ২০ ইংরেজি দৈনিক যুগান্তর ও সিলেটের ডাক পত্রিকায় অত্র বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক,অফিস কাম কম্পিউটার ও নৈশ প্রহরী পদে ১ জন করে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে তিনটি পদের বিপরীতে ৮৬ জন চাকুরীপ্রার্থী অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল মুতাল্লিব এর বরাবরে আবেদন পত্র জমা দেন। আবেদনপত্র জমা দেয়ার ধার্যকৃত সময় শেষে সভাপতি আব্দুল মুতালিব নিজে একাই আবেদন পত্র যাচাই বাচাই এর কাজ করেন। অথচ এ ব্যাপারে যাচাই বাছাই এর উনার যোগ্যতার প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে সুশীল সমাজে । আবেদনকারীদের মধ্যে পছন্দ অনুযায়ী ১৮ জন প্রার্থী কে পরীক্ষার জন্য এডমিট কার্ড প্রদান করে বাকিদের বিভিন্ন অযুহাতে বাদ দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী খাতায় কোন রুল রেজিলেষন পাওয়া যায়নি। তাছাড়াও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল মুতলিব এর বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসারের বরাবরে একাধিক অভিযোগ দাখিল করেছেন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা স্কুলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তাকলেও শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম ও কমিটির সভাপতি আব্দুল মুতলিব পরীক্ষার স্হান নির্ধারন করেন সিলেট শহরের লাক্কাতুরার একটি প্রতিষ্ঠানে। এতে প্রধান শিক্ষক পদে আবু সাদেক, অফিস কাম কম্পিউটার পদে মরিয়ম বেগম ও নৈশ প্রহরী পদে রশিদ আহমদ কে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। এ নিয়ে চাকরি প্রার্থী সহ এলাকার অভিবাবকদের মাঝে তৈরি হয়েছিল মিশ্ৰ প্রতিক্রিয়া, শিক্ষা অফিসারের বরাবরে আজিজুর রহমান, চঞ্চল শর্মা, রিপন মুন্ডা সহ অন্যান্য চাকরী প্রার্থীতা বাদি হয়ে কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন তাছাড়া এলাকা বাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হেলাল উদ্দিন ও কমিটির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন। তাছাড়া দফায় দফায় স্কুলের নিয়োগ বাতিলের দাবীতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রতিবাদ কর্ণপাত করেনি শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম ও সভাপতি আব্দুল মুতলিব। সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল তিন ঘঠিকায় সরেজমিন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম। এতে এলাকার প্রায় দুই শতাধিক লোকজন ও অভিবাভকগন উপস্থিত ছিলেন। এতে কমিটির সভাপতি আব্দুল মুতলিব এবং শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম এর উপর ক্ষিপ্ত হন নির্বাহী অফিসার। পরে সকল কাগজ পত্র জব্দ করেন তিনি এবং এলাকা বাসীর ক্ষোভের বক্তব্য শুনে সবাইকে শান্ত থাকার আহব্বান জানান। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব এর পদক্ষেপে সন্তুষ্ট এলাকা বাসী, তাদের দাবি অনিয়ম ও অর্থ কেলেংকারি সম্ভলিত অভিযোগের এই নিয়োগ অনতিবিলম্বে বাতিল করে পুনরায় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করে যোগ্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর দাবি এলাকাবাসীর। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছি, বিস্তারিত দেখতেছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ