ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর প্রভাবে বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চল লণ্ডভণ্ড

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর প্রভাবে বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চল লণ্ডভণ্ড

নিউজ ডেস্কঃ

শক্তি কমলেও এখনো স্থলভাগে সক্রিয় রয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এর প্রভাবে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ এবং বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চল লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মুহূর্তে ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর জেলায় অবস্থান করছে আম্পান। তবে এটি প্রচুর ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি করে ও বৃষ্টি ঝরিয়ে অনেকখানি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যদিও এখনো এর বাতাসের গতিবেগ ১৪০ থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। ফলে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহতের খবরও আসতে শুরু করেছে।

এখনও পর্যন্ত সারাদেশে গাছচাঁপা, দেয়ালচাঁপা ও নৌকাডুবিতে অন্তত ১০ জন প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি মধ্যরাতে দুর্বল হয়ে উত্তরের দিকে অগ্রসর হয়ে ঝিনাইদহ জেলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৬০ কিলোমিটার, যা আরও দমকার বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। আম্পান সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে সাতক্ষীরায়। উপকূলীয় এ জেলায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ১৪৮ কিলোমিটার।

আম্পানের মূল কেন্দ্র দিঘা। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে এটি স্থলভাগ অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনাসহ দেশের পশ্চিম উপকূলে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস বয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে জোয়ার শুরু হলে ১৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়। এতে প্লাবিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। এসময় জোয়ার থাকায় উপচে উঠা পানি লোকালয়েও প্রবেশ করে। ফলে উপকূলের অর্ধ-কোটি মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পড়েছে।

এদিকে, ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই বলছেন, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা, নামখানা, বাসন্তি, কুলতলী এবং কলকাতা শহরের কাছে বারুইপুর ও সোনারপুর এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে আম্পান। সুন্দরবন ও সাগরদ্বীপেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে।

মমতা বলেন, কত বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ ভেঙেছে, তার কোনো হিসাব নেই। আম্পানের কারণে গোটা ধ্বংসের চিত্র বুঝতে ১০ থেকে ১২ দিন লেগে যাবে।

কলকাতার আবহাওয়া অফিস বলছে, শহরটির উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাওয়ার সময় বাতাসের তীব্রতা ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। ফলে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বুঝতে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রায় ৮০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সক্রিয় ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এর সামনের অংশটি বুধবার বিকেল ৫টার পর স্থলভাগে আঘাত করে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ