জগন্নাথপুরে মসজিদের ইমামের বিরোদ্ধে কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

জগন্নাথপুরে মসজিদের ইমামের বিরোদ্ধে কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নিউজ ডেস্কঃ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার
উত্তর কালনীরচর গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব  মুফতি,  সানাউল্লা তারেক গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে একটি আপত্তিকর ছবি নিজের প্রোফাইল ছবি হিসাবে আপলোড করেন।ছবিতে দেখা যায় একই গ্রামের মক্তব পড়ুয়া কিশোরী কে আপত্তিকর অবস্থায় ঘনিষ্ট ভাবে নিজের ব্যক্তিগত রুমে পাঞ্জাবি, টুপি ছাড়া জড়িয়ে ধরে আছেন, মেয়েটির বয়স আনুমানিক ১২ বছর।এর কিছু সময় পর নিজেই আবার ছবিটি ডিলিট করে দেন।গ্রামের কেউ কেউ স্ক্রিনশট দিয়ে ছবিটি সংরক্ষন করেন।এ নিয়ে গ্রামে কানাঘুষা শুরু হলে ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবার ইমামের কাছে এর ব্যখ্যা চাইলে তিনি মেয়েটিকে  নাতনী হিসাবে দেখেন বলে জানান এবং ছবিটি ভুলক্রমে আপলোড হওয়ায়  দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
গ্রামের কতিপয় প্রভাবশালী এই ঘনটনাকে দাদা নাতনীর তামাশা হিসাবে অবহিত করার চেষ্টা করছেন এবং একে প্রাত্যাহিক জীবনের স্বাভাবিক আচরণ হিসাবে প্রমানের চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়। ভুক্তভোগীর চাচা বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিকার চেয়েছি কিন্তু তারা(তথাকথিত প্রভাবশালী মহল)  এই ঘটনাকে দাদা নাতনীর তামশা হিসাবে অবিহিত করে আমাদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।আমি এই ঘটনার সুষ্ট বিচার চাই।অভিযোগ রয়েছে যে,গ্রামের অপর একটি তরুন অংশ এই বিষয়ের সুষ্ট সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ইমাম কে নামাজ না পড়াতে অনুরোধ করলে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি ইমামের আশ্রয় প্রশ্রয় দানকারী প্রভাবশালীরা।মসজিদ কমিটির গুরুত্ত্বপুর্ন দায়ীত্বশীল মেন্দি মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ইমামের কাছে আমাদের মসজিদ সংশ্লিষ্ট  গুরুত্ব কিছু হিসাব রয়েছে,তাই হুট করে কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক তরুন বলেন,একজন ইমামের কাছে এমন নেক্কারজনক কাজ আশা করা যায় না।তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন নাতনী হিসাবে এমন অসামাজিক কাজ করতে ইসলামি  শরিয়ত কি ইমামকে অনুমোদন দেয়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান জানান গ্রামের অনেক মেয়েই ইমামের আচরনের কারনে মক্তবে আসা বাদ দিয়ে দিয়েছে।কোন প্রমান আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েদের পরিবার লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে চাইবেনা।
অভিযুক্ত ইমামের কাছে  বিষয়ে জানতে চাইলে ইমাম বলেন আমি কিছু বলতে পারবো না  জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সাথে যোগাযোগ করেন।
মসজিদের মুতাওয়াল্লী লন্ডন অবস্থান করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইমাম এখনো স্বপদে বহাল থাকায় গ্রামে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত গঠনা।  ইমামের অপসারণ ও শাস্তি চায় গ্রামের সাধারন মানুষ।
এজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার শান্তি কামী জনগণ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ