দালাল ও আনসারদের রাজত্বে প্রবাসী হয়রানি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২০

দালাল ও আনসারদের রাজত্বে প্রবাসী হয়রানি  ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

হ্যালো বাংলাদেশ নিউজঃ

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নানা কারণে আর অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনায় আসে এই বিমানবন্দরটি। কিন্তু বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিমানবন্দরটি বেশ সুনাম অর্জন করলেও এই অর্জনে ছাই ঢালছে চাকরির সুবাদে নিয়োজিত কতিপয় অসাধু কয়েক কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একজন বিমানবন্দরের আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) হারুন। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। বিমানবন্দরজুরে একক রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি।একাধিক ভুক্তভুগি হয়েছেন নানাভাবে হয়রানির শিকার। তার রাজত্ব আর একনায়কতন্ত্রে দিন দিন বেড়েই চলছে অবৈধপন্থায় অপকর্ম এবং অপরাধ কর্মকান্ড। এমনকি তার দেউলিয়াত্ব থেকে বাদ পড়ছেন না খোদ বিমানবন্দর এলাকায় নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিপ্রাপ্তরা। চাকরি ঠিকিয়ে রাখতে মাসোহারাও দিতে হয় থাকে। অন্যথায় চাকরি চলে যাবে বলেও ভয়ভীতি পদর্শন করেন তিনি। তবে ভয়ে কেউই মুখ খুলতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান এমন কিছু তথ্য। যা জানেন না বন্দরের বড়কর্তারাও। গত ২ মাস পূর্বে দুজন আনসার সদস্যের চাকরির মেয়াদ গেলেও তারা মুজম্মিলকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে বহাল রয়েছেন এখনো। গায়ে ইউনিফর্ম না থাকলেও তারা ভূয়া আইডি কার্ড ঝুলিয়ে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ডিউটি নামক অবৈধ কর্মকান্ড। মেয়াদ শেষ হলেও বিমানবন্দরে কাজ করার এতো উৎসাহী হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পেসেনঞ্জারদের কাবু করে বকশিস বা সাহায্য চেয়ে ডলার পাউন্ডসহ বিভিন্ন মুদ্রায় বাংলাদেশি হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া।

তাদের নেতৃত্বে আনসার সদস্যদের চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানী চরমে হয়ে ওঠেছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের সিলেট এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুর্নাম ।

কোন বিদেশী বা প্রবাসী ওসমানী বিমানবন্দরে নামলেই আনসার সদস্যরা শুরু করে চাঁদাবাজি। ‘গীভ টেন রিয়াল, টুয়েন্টি পাউন্ট, থারটি ডলার, টুয়েন্টি দেরহাম যেন তাদের দৈনিক জপমালা। তাদের চাওয়া মত না দিলে বা দিতে না পারলে শুরু করে যাত্রীদের রকমফের হয়রানী। এবছর হ্জাারো প্রবাসী ও বিদেশী এহেন হয়রানীর শিকার হয়েছেন বলে দেশ-বিদেশ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও হয়রানীর মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটা বড় অংশ পেয়ে থাকেন পিসি হারুনুর রশিদ।

অভিযোগে প্রকাশ, ওসমানী বিমানবন্দরে অভ্যন্তরে যেসব আনসার সদস্যদেরকে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানীতে নিযুক্ত রাখা হয়েছে তাদের কয়েকজন। এছাড়াও পিছি হারুন কর্তব্যকাজে ফাঁকি দেয়া অনুপস্থিত আনসার সদস্যদের কাছ থেকে গ্রহণ করে থাকেন প্রাপ্ত বেতনের নির্ধারিত কমিশন।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানর বন্দরস্থ আনসার ক্যাম্পে নারী-পুরুষ-সহ কর্তব্যরত আনসার সদস্য ১১০ জন। সরকারীভাবে তাদের থাকার ব্যবস্থা থাকলেও এদের মধ্যে মাত্র ৫৪ জন আনসার সদস্য দৈনিক ডিউটি পালন করে থাকে। বাকি ৫০ জন নিজ-নিজ বাসা-বাড়িতে থেকেই দৈনিক ২শ’ টাকা করে বেতন-ভাতা গুনে থাকেন। আর বিনা কাজে প্রাপ্ত এই বেতন-ভাতার একটা অংশ তারা দিয়ে থাকে পিসি হারুনকে।

আনসার সদস্যদের সবচেয়ে বেশি লাভজনক ডিউটি প্লেস হচ্ছে, ওসমানী বিমানরবন্দরের সামনের পার্কিং এরিয়া। এ স্থানে যাত্রীরা টাকা ছাড়া গাড়ি পার্কিং করতেই পারেন না। সরকারীভাবে নির্ধারিত পার্কিংস্থানে গাড়ি পার্কিং করতে যাত্রী ও চালকদের আনসার সদস্যদের দিতে হয় টাকা। এ টাকা হতে পার্কিংয়ে ডিউটিরত আনসার সদস্যরা পিসি হারুনকে দিতে হয় জনপ্রতি ৪ শ’ টাকা করে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ঢাকার মত ভিজিট পাসের ব্যবস্থা নেই। তাই যাত্রীছাড়া সঙ্গীয় অন্যেদের প্রবেশে রয়েছে সরকারি বাঁধা। নিরাপত্তাজনিত কারণেই এ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পিসি হারুনের নেতৃত্বে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা টাকার বিনিময়ে একেক যাত্রীর সাথে একাধিক সঙ্গী ও ভিজিটারদের প্রবেশ করিয়ে দেন। এতে করে ওসামনী বিমানবন্দরে সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। আর এই সব চাঁদাবাজি থেকে প্রতিদিন উত্তোলিত লক্ষাধিক টাকা ভাগভাটোয়ারা করা হয় কতিপয় কয়েক কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে।

এদিকে, কানাইঘাটের ব্রাহ্মন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নানের প্রবাসী পুত্র মো. মাসুম উদ্দিন প্রায় ৮ বছর থেকে দুবাইতে বসবাস করছেন। এ পর্যন্ত ৩ বার দেশে আসা যাওয়া করার সুযোগ হয়েছে তার। গত ১লা জানুয়ারি দেশ থেকে কর্মস্থলে ফেরার দিন ছিল মাসুমের। স্বজনদের ভেজা চোখ মুছে দিয়ে বিদায় নিয়ে ওসমানী বিমান বন্দরে প্রবেশ করেন তিনি। বাংলাদেশ বিমানের ১২টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটটি তাকে নিয়ে উড়াল দেয় দুপুর ১টায়। তাঁর আগেই ঘটে যায় অনাকাঙ্খিত সেই ঘটনা। নারী আনসার সদস্য পারভীন তার মানি ব্যাগ থেকে হাতিয়ে নেন ৭শ দিরহাম যা বাংলাদেশী টাকায় দাড়ায় (৪ জানুয়ারির বাজার দর অনুযায়ী) প্রায় ১৬ হাজার ১৬৫ টাকা ৬ পয়সা। তাৎক্ষণিক প্রতিকার চেয়েও কোনো লাভ হয়নি বরং তাকেই শাস্তির আওতায় আনার হুমকি দেন দুই আনসার সদস্য। নিজের শহরে, নিজেদের এয়ারপোর্টে এরকম দু:খজনক ঘটনার শিকার হয়ে সাংবাদিক সহ সর্বমহলের সহযোগিতা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রবাসী মাসুম। ইতোমধ্যে পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং সর্বমহলে নিন্দার ঝড় উঠে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ