দাসত্বের সাথে জড়িত ছিলেন এমন ব্যক্তির মূর্তি কিংবা রাস্তার নাম থাকা উচিত নয়,লন্ডন মেয়র

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

দাসত্বের সাথে জড়িত ছিলেন এমন ব্যক্তির মূর্তি কিংবা রাস্তার নাম থাকা উচিত নয়,লন্ডন মেয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ:

লন্ডন মেয়র সাদিক খান বলেছেন, দাসত্বের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মূর্তি নামানো উচিত। লন্ডন মেয়র বলেন, দাসত্বের সাথে জড়িত ছিলেন এমন ব্যক্তির মূর্তি কিংবা রাস্তার নাম থাকা উচিত নয়। এটি লন্ডনে বসবাসকারী বহু জাতিক সমাজের সাথে সমাঞ্জস্যমূলক নয়।

মেয়র লন্ডনের দর্শনীয় স্থান সমূহে এসকল মূর্তি চিহিৃত করতে একটি কমিশন গঠন করেছেন।
গত রবিবার ব্রিস্টলে দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কলস্টনের মূর্তি নদীতে পেলেদেন বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনকারীরা।

লন্ডন মেয়রের গঠিত রিভিউ কমিটি লন্ডনের দর্শনীয় স্থান, মূর্তি, রাস্তার শিল্পকর্ম, রাস্তার নাম এবং অন্যান্য স্মৃতিচিহৃগুলো পর্যালোচনা করে একটি সুপারিশ করবে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কোন গুলো সরিয়ে নেয়া হবে।

রবার্ট ক্লাইভের একটি মূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়ে অনলাইন পিটিশন
এদিকে পশ্চিম ইংল্যান্ডের শ্রুজবেরিতে অবস্থিত রবার্ট ক্লাইভের একটি মূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়ে খোলা অনলাইন পিটিশনে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
পিটিশনের আবেদনকারীরা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ক্লাইভের ওই মূর্তিকে ‘ঔপনিবেশিকতার প্রতীক’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

চেইঞ্জ ডট অর্গের মাধ্যমে করা পিটিশনটিতে শ্রপশার শহর কর্তৃপক্ষকে মূর্তিটি অপসারণে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক স্টেটসম্যান।

রোববার ব্রিস্টলে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা সপ্তদশ শতকের দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কলস্টোনের একটি মূর্তি নদীতে ফেলে দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ অনলাইন পিটিশনটি খোলা হয়।

“ভারতবর্ষ, বাংলা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে ব্রিটিশ উপনিবেশের শুরুর দিককার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রবার্ট ক্লাইভ,” পিটিশনে লর্ড ক্লাইভকে এভাবেই চিত্রিত করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এ অনলাইন আবেদনে আড়াই হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি এক হাজার ৭০০রও বেশি মানুষকে আকৃষ্ট করে।

“ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার প্রতীক ক্লাইভের এই মূর্তিটি ভারতীয়, বাঙালি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভাষাভাষীদের জন্য খুবই অবমাননাকর। একে ব্রিটিশদের গর্ব ও জাতীয়তাবাদের স্মারক হিসেবে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা ও নির্যাতন যারা উপভোগ করতে পারে, কেবল তাদের কাছেই এটি ন্যায্যতা পেতে পারে,” পিটিশনে এমনটাই বলা হয়েছে।

অষ্টাদশ শতকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে থাকা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির প্রথম গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন রবার্ট ক্লাইভ; পান ‘ভারতের ক্লাইভ’ খেতাব।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ