দুর্নীতি বন্ধ করতে চাইলে আগে নিজের ঘর থেকে শুরু করতে হবে,জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত: ১:২৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

দুর্নীতি বন্ধ করতে চাইলে আগে নিজের ঘর থেকে শুরু করতে হবে,জাফরুল্লাহ

নিউজ ডেস্কঃপ্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে চাইলে আগে নিজের বাড়ি থেকে ঠিক করতে হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে চাইলে আগে নিজের বাড়ি থেকে ঠিক করতে হয়। শুরু করতে হবে আপনার বাড়ি থেকে। আপনার পরিবারের রেহেনা থেকে শুরু করে তাপস কার কী সম্পত্তি আছে সে তথ্য প্রকাশ করা। তারপর আমাদেরও সম্পপত্তির তথ্য প্রকাশ করেন। তারপর প্রশ্ন করেন, জাফরুল্লাহর এই সম্পত্তি কোথায় থেকে অর্জিত হল। কেবল অন্যেরটা দেখব, আমারটা দেখবো না, এটা হতে পারে না।

তিনি বলেন, আজকে দুর্নীতি কোথায় পৌঁছেছে, সবচেয়ে বড় দুর্নীতি সরকার স্বয়ং। এখানে মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার হরণ করে, এখানে মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তার চেয়ে বড় দুর্নীতি কি হতে পারে?

“সরকারের অন্যায় আচরণ দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য আজকে সরকারকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই, এখনও সময় আছে, সংশোধন প্রয়োজন।”

ভিপি নুর প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আজকে আমি খুব বেশি মর্মবেদনায় আছি। আজকে ভিপি নূর … সে যদি অন্যায় করে থাকে, সেটার বিচার হবে। তা বলে তাকে হয়রানি করা যাবে না।

“ছাত্র রাজনীতি একটা প্রসেশন করে, তাদের বের হতে দেবেন না, সেটা তো হয় না। আপনারা জনগণকে বের হতে দিচ্ছেন না। সেজন্য দেশটা নৈরাজ্যের দিকে চলছে।”

পুলিশি ধরপাকড়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব বন্ধ করেন, এটা আপনার স্বার্থে। আজকে প্রয়োজন ন্যায়-নীতি, সুষ্ঠু সুশাসন।

এসময় ডিজিটাল আইনকে ‘অগণতান্ত্রিক, অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বিনা বিচারে হত্যার সামিল। আজকে রাজনীতিবিদদের সহনশীল হতে হবে। ক্রিটিসিজম সহ্য করতে হবে। আজকে এখানে মনে রাখা দরকার, দুর্নীতি কোন পর্যায়ে আছি আমরা। সরকার তো নিজেই দুর্নীতিগ্রস্থ। তারা নিজে অন্ধ হয়ে গেছে। তারা ভুলভ্রান্তি দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে সবার কণ্ঠরোধ করেছেন।

পেঁয়াজ আমদানি ইস্যুতে ভারতের সমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারতের হঠাৎ অনৈতিকভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেন। পঁচা পেঁয়াজ পাঠান। এ জাতীয় খেলা নিয়ে আমরা তো কখনও সাহস করে বলতে পারি না। ভারতের সঙ্গে কিসের বন্ধুত্ব? যে বন্ধু আমার স্বার্থ দেখে না, একতরফা তার সাথে বন্ধুত্ব হতে পারে না। শোষকের সাথে শাসিতের বন্ধুত্ব হয় না।

বাংলাদেশ সৌদি শ্রমিকদের সঙ্কট বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, যখন করোনা আসে, আমি তখন বলেছিলাম আমাদের উচিৎ হবে, সারা পৃথিবীতে আমাদের এক কোটি শ্রমিক ভাই-বোনেরা বিদেশে আছেন, তাদের চাকরি নিশ্চিত করা। এতোদিন তারা আমাদের দেখাশোনা করেছে, সরকারের উচিত হবে কয়েক কোটি ডলার তাদেরকে পাঠানো, দেশগুলোর সাথে সমঝোতা করা।”

ভারতের করোনার টিকা বাংলাদেশে ট্রায়াল করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত তো অন্যের জন্য ঠিকাদারি করছে। ভারতের তো এটা নিজস্ব আবিষ্কার না। একটি আন্তর্জাতিক জায়গায় গেলেও ভারতীয়রা নিজেদের সবসময় ভারতীয় ভাবে, কিন্তু আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক ভাবি। ফলে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারিনা আমরা। আমাদের স্বার্থ যে জোরেশোরে বলতে হবে, সেটায় ব্যর্থ হচ্ছি আমরা। এর একটা কারণ আমাদের দেশের সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, আমি কথা বলতে পারছি না।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ