fbpx

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আধার রাতারগুলের জলাবন

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২০

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আধার রাতারগুলের জলাবন

মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম:

Advertisements

শহর থেকে দূরের কোলাহল মুক্ত নির্জনতা চারদিকে সবুজ গাছ পালা,মাঝে মাঝে পশুপাখির ডাক আর শীতল বাতাস ।এই অনুভূতি এনে দিবে আপনাকে সিলেটের রাতারগুলের জলাবন।বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন এবং অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাতারগুলের সোয়াম্প ফরেস্ট । । ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এটি একটি পরিচিত জায়গা।
ভ্রমণ আমার জীবনের এমন একটি অংশ যাকে অস্বীকার করে কোনোভাবেই ভালো থাকতে পারি না। ভ্রমণ আমার ক্লান্তি ও গ্লানিতে ভরে ওঠা মনকে পুনরায় কোন এক জাদুকাঠির ছোঁয়ায় সতেজ করে তোলে। নদী, সাগর কিংবা পাহাড়ের মতো থ্রিলিং জায়গা আমাকে সব সময় কাছে টানে মায়ের মতো করে,মনে হয় একান্ত আপন পৃথিবী। বন্ধুবর মো: নজরুল ইসলামের বদ‍্যনতাকে স্বীকৃতি দিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টে ।
“রাতারগুলের জলাবন প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর। রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য,যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও ২০৪.২৫ হেক্টর বনভুমিকে ৩১ মে ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করে। এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি। এই বনকে বাংলাদেশ সরকারের বনবিভাগের অধীনে সংরক্ষণ করা হয়েছে”। (তথ্য উইকিপিডিয়া)
নৌকা নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশেই দৃশ্যমান হলো উদ্ভুদ এক মায়াবী পরিবেশ(যেন অন্য জগতে প্রবেশ করছি) সমগ্র মন প্রসন্নতায় ভরে উঠলো। চিরসবুজ এই বন গোয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত । গোয়াইন নদী ইতিপূর্বে সারী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে এবং চেঙ্গির খালের সাথে একে সংযুক্ত করেছে। আমাদের নৌকার মাঝির সাথে আলাপচরিতায় জানা যায়, বর্ষাকালে এই বন ১০-২০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি সারা বছর, পানির উচ্চতা ০৬ ফুটের মতো থাকে। বর্ষাকালে এই বনে অথৈ জল থাকে চার মাস। তারপর ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়ে-চলা পথ। আর তখন পানির আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বিলগুলোতে। সেখানেই আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণিকুল। বিভিন্ন নাম না জানা গাছ, পাখিদের আওয়াজ আর উদ্ভুদ এক মায়াবী নিস্তব্ধতা সমগ্র প্রকৃতিকে যেন ঘিরে রেখেছে। এরইমধ্যে শ্বাসমূলের মতো দেখতে ঠেস মূল যুক্ত গাছগুলি পরিবেশকে আরো মায়াবী করে তুলেছে। পথে চলতে চলতে চোখে পড়ল বিভিন্ন ধরনের অত্যন্ত সুন্দর সুন্দর সব ফুল আর লতা গুল্ম। সবচেয়ে মনমুগ্ধকর গাছ গুলির মধ্যে চোখে পড়ল এখানে সবচেয়ে বেশি জন্মামানো করচ গাছ (বৈজ্ঞানিক নাম: Millettia pinnata)। দূর থেকে আমরা দেখেছিলাম বানরের পাল জল খেতে এসেছে নদীর ধারে, গাছের ডাল থেকে উড়ে যাচ্ছে মনোহরনী সুন্দর রঙের পাখিরা। আকস্মিক দেখতে পেলাম উদ্ভুদ সুন্দর গিরগিটি। তাছাড়া দেখা গেল বিভিন্ন ধরনের বক, মাছরাঙ্গা পাখি ইত্যাদি। যেন এক প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের আতুর ঘর। জঙ্গলের কেন্দ্রে পরিত‍্যক্ত দন্ডায়মান একটি ওয়াচ টাওয়ার। টাওয়ারটি সংস্কার করে ভ্রমণকারীদের জন‍্য উন্মোক্ত করলে সমগ্র জলাবন এক সাথে অবলোকন করার অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হতো।
আর এইচ জনসনের একটি কথা মনে পড়ে গেল “সৌন্দর্য‍্য হচ্ছে বিধাতার হাসি”। রাতাগুলের জলাবন বিধাতার হাসির তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। জীবনকে নতুন করে দম দিতে বা একগুয়েমি মনোভাব কাটানোর জন্য ভ্রমণের আদর্শ জায়গা হলো রাতারগুল জলাবন।
লেখক,প্রভাষক, রাষ্ট্রবিঞ্জান বিভাগ,গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ, সিলেট।

Advertisements