পদত্যাগে বাধ্য হলেন ব্রিটিশ বাণিজ্য মন্ত্রী!

প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২০

পদত্যাগে বাধ্য হলেন ব্রিটিশ বাণিজ্য মন্ত্রী!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সরকারি এক কর্মকর্তাকে এমপি হিসেবে ভয় দেখানোর অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন বৃটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী কনোর বার্নস। এমন ভয় দেখানোর দায়ে তাকে দায়ী করেছে হাউজ অব কমন্সের কমিটি। ওই কমিটির এক রিপোর্টের পর তিনি পদত্যাগ করলেন। হাউজ অব কমন্সের কমিটি অন স্ট্যান্ডার্ডস দেখতে পেয়েছে যে, তার পিতার সঙ্গে আর্থিক বিরোধে নিজের পরিবারকে সুবিধা দেয়ার জন্য ওই হুমকি দিয়েছিলেন কনোর বার্নস। এ জন্য তাকে সাত দিনের জন্য পার্লামেন্ট থেকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করেছে কমিটি। জবাবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে, তাকে সরিয়ে দিতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ফেব্রুয়ারিতে একটি কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে চিঠি লিখেছিলেন বার্ন।
ওই কোম্পানির সঙ্গে তার পিতার ঋণের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে বিরোধ চলছিল। তিনি ওই চিঠিতে লিখেছিলেন, আমি যথার্থই অবগত যে, যদি আমি এই ঘটনায় মামলা করতে পার্লামেন্টারি সুবিধা ব্যবহার করি তাহলে তাতে মনোযোগ বেশি আকৃষ্ট হবে।

এ বিষয়ে কমিটি অন স্ট্যান্ডার্ড বলেছে, বার্নস তার পদ ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাকে ভয় দেখিয়েছেন। এটা এমপি হিসেবে তার পদের অপব্যবহার। এর জন্য তাকে ক্ষমার চেয়েও বেশি শাস্তি ভোগ করতে হবে। আরো বলা হয়েছে, যে বিরোধের সঙ্গে বার্নস জড়িয়েছেন সেটা তার পারিবারিক ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়। তিনি পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে তার যে দায়িত্ব তার সঙ্গে এর কোনোই সম্পর্ক নেই।

বোর্নিমাউথ ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত কনজার্ভেটিভ দলের এমপি বার্নস। তিনি মার্চে কমিটির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাকে তার এভাবে লেখা উচিত হয় নি, ‘যেটা আমি কমন্স-এর নোটপেপারে লিখেছি’। তিনি আরো বলেছেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল বিষয়টিতে। তা সমাধানের জন্য তিনি এটা করেছিলেন। কারণ, ওই বিরোধের ফলে তার পিতার স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছিল। কিন্তু কমিটি বলেছে, এমপি বার্নস ক্ষোভের কারণে এমন কাজ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি ন্যায়বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

কনোর বার্নস প্রথম ২০১০ সালে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। গত বছর জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই তাকে বানান বাণিজ্যমন্ত্রী। ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার গণভোটে ব্রেক্সিট নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কনজার্ভেটিভ দলের লেডি মার্গারেট থ্যাচারের শেষ বছরগুলোতে তিনি ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ।
সূত্র: মানবজমিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ