প্রবাসীদের কবর স্থান!

প্রকাশিত: ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০

প্রবাসীদের কবর স্থান!

সাদেক আহমদ শিকদার:

মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই।

যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।।’

কবর নিয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই অমূর্ত বাণী যেন প্রত্যেক মুসলমানের মৃত্যু-পরবর্তী স্বপ্ন।
মা-বাবা মারা গেলে সন্তানেরা যেমন চায় মসজিদের পাশেই তার মা-বাবার কবর দিতে, ঠিক তেমনি সন্তান মারা গেলেও মা-বাবারা চান তাঁদের সন্তানের কবর ঠিক মসজিদের পাশেই দিতে। এমনকি প্রত্যেক মুসলমানই চান তার আত্মীয়স্বজনকে যতটা সম্ভব মসজিদের পাশে কবর দিতে।

আমরা যারা প্রবাসে থাকি, তাদের কথা একটু ভিন্ন। ইচ্ছা করলেই মসজিদের পাশে কবর দেওয়া সম্ভব নয়। মসজিদ তো দূরের কথা, অনেক সময় বা অনেক স্থানে মুসলিম কবরস্থান পাওয়াই দুষ্কর হয়ে যায়। তাই যারা প্রবাসে থাকেন, তারা অসুস্থ হলে বা অনেকে আগে থেকেই বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনকে জানিয়ে রাখেন কবরটা যেন তার পছন্দের জায়গায় দেওয়া হয় কিংবা লাশটা যেন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তূ দেশে লাশ পাঠানো অনেক সময় সহজ হয় না অর্থ ও প্রশাসনিক অনেক জটিলতা থাকে অনেক সময় যে মারা গেলেন উনার কোন নিকট আতীয় সহ বন্ধুদের অনেক পেরেসানীতে পড়তে হয়।
প্রতিটি প্রাণীর জন্য মৃত্যু অবধারিত। মৃত্যু থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।

মহান আল্লাহু তাআলা বলেছেন, ‘কুল্লু নাফসিন যা-ইকাতুল মাওত’ (প্রতিটি প্রাণকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে)। [সুরা আল ইমরান, আয়াত ১৮৫ ]

সমস্যাটা এখানেই। প্রতিটি সন্তানের কাছে প্রিয় তার মা-বাবা। এই সন্তানেরা যখন মা-বাবা হন, তখন তাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয় তাদের সন্তানেরা। তাই মা-বাবা মানে আমাদের কবর যদি নিজ দেশে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের সন্তানদের পক্ষে কি সম্ভব হবে প্রতিবছর দেশে গিয়ে মা-বাবার মানে আমাদের কবর জিয়ারত করা! অসম্ভব। তা ছাড়া লাশ দেশে পাঠানো অনেকটা ব্যয়বহুল। সেটা হয়তো সবার জন্য সমস্যা নয়। আবার কারও কারও পক্ষে সমস্যা হলেও সেটা কোনো না কোনোভাবে সমাধান হয়ে যায়।

কিন্তূ অনেক সময় যেমন এখন যদি চিন্তা করি এই করোনা ভাইরাসে কারণে ইউরোপের সাথে দেশের ফ্লাইট বন্ধ এখন কোন প্রবাসী আমরা মারা গেলে লাশ পাঠানো প্রায় অসম্ভব এবং অনেক স্থানে মুসলিম কোন কবর স্থান ও নাই যেখানে আমরা আমাদের ধর্মের মতে কবর দিতে পারবো।যেখানে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের সন্তানরা কবর জিয়ারত করতে পারবে।প্রবাসে প্রায় প্রতিটি স্থানে আমাদের অনেক জেলা,থানা,এমন কি ইউনিয়ন ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠেছে ,এই সব সংগঠনের মূল উদ্দেশ্যই হলো সমাজ সেবা করা ।তাই যে সব স্থানে বাঙলী মুসলিম কমিউনিটি আছে কিন্তু এখন ও কমিউনিটির কোন কবর স্থান নেই সেসব স্থানে অগ্রাধিকর ভিত্তিতে কমিউনিটির সকল কে সাথে নিয়ে কবর স্থান করা এখন সময়ের দাবি।।প্রবাসে জন্ম নেওয়া আমাদের নতুন প্রজন্ম ধর্মকর্মের চেয়ে বাস্তবতাকে বেশি বিশ্বাস করে। তাই আমাদের প্রত্যেক মা-বাবার উচিত আমাদের সন্তানদের কে,আমাদের ধর্মশিক্ষা দেওয়া এবং সেই সঙ্গে আমরা মারা গেলে আমাদের সন্তানেরা যাতে আমাদের কবর দেওয়া বা আমাদের ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের দ্বন্দ্বে না পড়ে অথবা কোনো ধরনের সমস্যা যেন ওদের অবুঝ মনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দিয়ে যাওয়া। তাই মরার আগেই আমাদের প্রত্যেক প্রবাসীকে ভাবতে হবে আসলে আমরা প্রবাসে মারা গেলে আমাদের কবরটা কোথায়, কীভাবে হওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ