প্রবাসীদের কে দেশ গড়ার কারিগর উপাধি দেয়া যায় নিঃসন্দেহে

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

প্রবাসীদের কে দেশ গড়ার কারিগর উপাধি দেয়া যায় নিঃসন্দেহে

সাদেক আহমদ শিকদার:

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকায়।

প্রথম বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপির আকার ৫০০ কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা ২ লাখ কোটি টাকার ওপরে। অর্থনীতির এই যে ফুলে-ফেঁপে ওঠা, তার পেছনে রয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প, কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব আর প্রবাসী আয়।

জাতীয় অর্থনীতিতে রফতানি খাতের অবদান তথা মূল্য সংযোজনের হার তুলনামূলকভাবে কম। কারণ পণ্য রফতানি বাবদ যে অর্থ উপার্জিত হয়, তার একটি বড় অংশই কাঁচামাল আমদানিতে চলে যায়। কিন্তু জনশক্তি রফতানি খাত এমনই এক অর্থনৈতিক খাত, যার উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পুরোটাই জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করে।

একই সঙ্গে বেকার সমস্যা নিরসনেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া জনশক্তি রফতানির ফলে বিরাট সংখ্যক জনগণের দৈনন্দিন চাহিদা ও খাদ্যসামগ্রীও স্থানীয়ভাবে জোগাড় করতে হচ্ছে না। সারা বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় সোয়া কোটি বাংলাদেশি; যারা সার্বিকভাবে আমাদের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।

এদিকে এবার প্রবাসী আয়ে রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত পরিমাণ প্রবাসী আয় আগে কখনও আসেনি। গত জুন মাসে প্রবাসীরা ১৩৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাঠায়।

ফলে গত অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়ে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার হয়েছে। বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় আসায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ২৫৭ কোটি ডলার, যা বিএনপির গত শাসনামলে ছিল গড়ে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তুলনা করলে দেখা যায়, সে সময়ের চেয়ে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ১০ গুণের বেশি।

এর মধ্যে ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অধিকতর বিনিয়োগ বাড়ানো, রফতানি বাণিজ্য বাড়ানো ও এর পরিধি এবং ডেসটিনেশন বাড়ানো। রয়েছে বিদেশে জনবল বাড়াতে নতুন নতুন দিগন্তের উন্মোচনও।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ স্বাধীন হয়েছে বা সাধারণ মানুষের দুর্গতি তিরোহিত হয়েছে বা কমেছে প্রবাসী নেতৃত্বের জন্য। উদাহরণস্বরূপ ভারতের মহাত্মা গান্ধী, জামালউদ্দিন আফগানি, বাংলার হাজী শরীয়ত উল্লাহ বা তিতুমীর, রাশিয়ার লেনিন, জার্মানির কার্ল মার্কস, ফ্রান্সের ভলতেয়ার বা রুশো, ভিয়েতনামের হো চি মিন, ইরানের ইমাম খোমেনী প্রমুখ।

এমনকি বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকেও বাধ্য হয়ে প্রায় ৬ বছর প্রবাসে থাকতে হয়েছে। আমাদের প্রবাসী ভাইবোনরা প্রতিনিয়ত রেমিটেন্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন, তাই তাদেরও দেশ গড়ার কারিগর উপাধি দেয়া যায় নিঃসন্দেহে।গ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ