প্রবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ;আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্যতম বিশেষণ!

প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০

প্রবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ;আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্যতম বিশেষণ!

আব্দুল কাদির আল মাহদি
বার্সেলোনা, স্পেন:

আজ বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে,বাহির দেশে বসবাসী লোকদের উপর যে বিদ্বেষ, সেটা আসলে আসলেই দু:খজনক। বর্তমান কভিডি১৯ সারা বিশ্বে ছডিয়ে পড়ার পর, বিশ্বের ভিবিন্ন দেশ তার দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। যেটা এখনও আমাদের দেশে পুরাপুরি হয়নি।

এমনকি বিশ্বে ভিবিন্ন দেশে তাদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও একটি নিয়ম-নীতি হাতে নিয়েছে। ইমার্জেন্সি বা লকডাউন ঘোষণাকালেও,যখন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করল, তখনও প্রত্যেক দেশ তার নিজ দেশিয় নাগরিকদের এক্সেপশন রেখেছে। ঘোষণা দিয়েছে “পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে তাদের নাগরিকরা ফিরত আসলে,যে কোন পরিস্থিতে ২৪ ঘন্টা দরজা খুলা আছে”।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতে বিশ্বের যে সব দেশে বিদেশি লোকদের ইতিপুর্বে চিকিত্সা ফ্রি ছিল না। তাদেরকেও ঘোষণা দেয়া হচ্ছে, স্বদেশিয় নাগরিকদের সমান চিকিত্সা সেবা দিতে।ভীত শস্ত্র না হতে বলা হচ্ছে। এটা তো একজন মানুষের মানবিক ও নৈতিক অধিকার।

কিন্তু আমার দেশের চিত্র ভিন্ন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের একজন উপরের দায়িত্বশীল হয়ে, যখন নিজ দেশিয় নাগরিকদের এরকম বলতে পারেন “এ মুহূর্তে ভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিক যেন বাংলাদেশে না আসেন। এমন পর্যায়ে জনগনের কথা বাদই দিলাম!
প্লিজ কেউ এটা যেন না বুঝি,যে আমি প্রবাসীদের ইম্প্রেস করছি,এ পরিস্থিতিতে দেশে যেতে। বরং আমার প্রবাসীরা যেন এ মুহূর্তে দেশে না যাই,এ মত আমাদেরও। অবস্থার উন্নতি হলে দেশে যাবো। কিন্তু কিছু নাছড় বান্ধা সব জাগায় আছেই। সেটাও বুঝতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষনার পর কি দেখলাম আমরা! সেটা তো ভিবিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় আজও চিহ্ন লেগে আছে। প্রবাসীদের উপর যেন কিছু লোকের আগের কোন ক্ষোভ জমে আছে। প্রবাসীদের হেরাসমেন্ট করা হচ্ছে। বিয়া-বিধি সমাজিক অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের হয়রানি করা হচ্ছে।

ইতিহাস এ্যানালাইজ করলে যেটা পাওয়া যায়। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের লোকেরা যখন রাসুলে আরবী (স) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন। তিনি আবার মক্কায় আসার ইচ্ছা করলে,তাকে বারণ করা হলো। তারপ্রতি রুঢ় আচরন করা হলো। তাকে হয়রানির শিকার হতে হলো। যার দরুন বায়াতে রেজওয়ানের মতো ঘটনা ঘটলো। অতচ তিনি ছিলেন তাদের জাত-গোত্রের স্বদেশিয় লোক। যে ব্যবহার আমাদের সমাজের কিছু লোক বা প্রতিষ্ঠান আজ প্রবাসীদের প্রতি করে যাচ্ছে একই ব্যবহার তার প্রতি করা হয়েছিল।

অথচ আমাদের সামনেই গত ৩০শে মার্চ, আমাদের দেশে ২৬৯ আমেরিকান বসবাসরত নাগরিক। তাদেরকে করোনা ভাইরাসের নিরাপত্তা জনিত কারনে স্পেশাল ফ্লাইটে করে দেশে ফিরিয়ে নিলো। আমারিকা এ ভাবে বিশ্বের ২৮দেশে তার ১০,০০০ হাজার নাগরিকদের বিশেষ ফ্লাইটে ফিরিয়ে নিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া গত ২৬শে মার্চ, মালয়েশিয়া তার ২২৫ জন নাগরিক এবং ভুটান ১৩৯ জন নাগরিককে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ে।

তাদের কাছে যে মূলনীতি মনে হলো “দেশিয় লোক মরলে আমার দেশেই মরুক; আর বাঁচলে তাদেরকে নিয়েই বাঁচবো! অবশ্যই এর থেকে আমাদের জন্য একটা লেসন নেয়ার আছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ