বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

আবুল ফয়েজ লন্ডন থেকে:
ভাষা আন্দোলন আর আবহমান বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ও অভিন্ন সূত্রে বাঁধা। কারণ বঙ্গবন্ধুর নিজের জবানিতে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম, ইতিহাস যেমন লিপিবদ্ধ করেছেন পাশাপাশি স্বদেশী আন্দোলন, মুসলিম লীগ ও কাংগ্রেসের পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ খেদাও লড়াইও বিধৃত হয়েছে যৌক্তিক, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং বিজ্ঞ দ্রষ্টার ভূমিকায়। নিজের অংশীদারিত্বকে ঘটনা পরম্পরায় সামগ্রিক আলোকপাত করতে গিয়ে স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ থেকে সুভাষ চন্দ্র বোসের ভক্ত বনে যাওয়াও সে সময়ের এক অনিবার্য রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। ১৯২০ সালে জন্ম নেয়া বঙ্গবন্ধু বেড়ে উঠেছেন অবিভক্ত ভারতের চরম বিভাজন, উত্তেজনা আর প্রলয় বিক্ষুব্ধ প্রতিবেশে। বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই বঙ্গভঙ্গ আর সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা সম্প্রীতির উপমহাদেশীয় বহুজাতির সংমিশ্রণে তৈরি হওয়া ঐক্যতানে যে বিষবাষ্প সম্প্রসারিত হয় তারই অবধারিত গতি ছিল ’৪৭-এর অনাকাক্সিক্ষত, অযাচিত দেশ কর্তন। যা শুধু সম্প্রদায়ই নয় উচ্চ, মধ্য কিংবা নিম্নবিত্তের মানুষের জন্যও কোন শুভ সঙ্কেত বয়ে আনতে পারেনি একেবারে গোড়া থেকেই। তাই বঙ্গবন্ধুর আত্মকথনে ১৯৪৬ সাল থেকে যে মাত্রায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বীভৎস চিত্র বিধৃত আছে তা থেকে সহজেই অনুমেয় ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের পরও মানুষের মধ্যে শঙ্কামুক্ত স্বস্তির বিপরীতে সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করত। ধর্ম, বর্ণ আর জাতির ভিত্তিতে কোন ফারাক কিংবা দূরত্ব সেভাবে কখনও আমলে নিতে পারতেন না। মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নির্দেশনায় সে লড়াই এক সময় তেমন দায়বদ্ধতা অনুভব করলেও সেই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে বঙ্গবন্ধুর সময়ও লাগেনি। সম্মিলিত ভাব চেতনায় একসঙ্গে বেড়ে ওঠা সম্প্রদায়গত ঐক্য লালন করেছেন অতি শৈশবকাল থেকে। প্রথমদিকে মুসলিম লীগের প্রতি অনুরক্ত হলেও আদর্শিক বোধের মিলন দ্যোতনায় সবসময় অন্তর্নিহিত চেতনাও পোষণ করতেন। তেমন ভাব সম্পদ এত বেশি জোরালো আর ঐক্য সুরে বাঁধা ছিল, কোন বিরূপ পরিস্থিতিতেও সেখানে তাঁকে বিচলিত হতে দেখা যায়নি। সে সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিক্ষুব্ধ দুই বাংলার দুঃসহ ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে। এ ছাড়া আছে যুক্ত বাংলার পক্ষে বাঙালী নেতাদের জোরালো সমর্থন আর ভাগ হওয়া আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন আর উৎকণ্ঠাও। যে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ, উত্তেজক পরিস্থিতিতে ’৪৭-এর অবধারিত দেশ বিভাগ সামনে চলে আসে সেখান থেকে নতুন করে শুরু হয় অপরাজনীতির অপশক্তি। ব্রিটিশ উপনিবেশের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে আরও কঠিন-কঠোর বলয়ে পাকিস্তানী নয়া উপনিবেশিক জালে আটকে পড়া সেও এক ভাগ্যবিড়ম্বনার শিকার হওয়ার মতো দুর্ভোগ । রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরি হয় একেবারে শেকড়ের মূল জায়গা থেকে। অর্থাৎ জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে। শিক্ষার্থী জীবনের একটি বিশেষ পর্যায় কলকাতায় থাকার জন্য রাজনীতির পরবর্তী তালিম নেন বাস্তব প্রেক্ষাপটে নিজের অবিস্মরণীয় অংশীদারিত্বে। সেখানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, খাজা নাজিমউদ্দিন এবং মাওলানা আকরম খাঁর মতো তৎকালীন বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ছত্রছায়ায় সুস্থ রাজনৈতিক ধারাকে প্রত্যক্ষভাবে অনুধাবনেও সচেষ্ট ছিলেন। স্মৃতিতে বহুদিন অম্লান হয়ে ছিল নষ্ট রাজনীতির কালো প্রতিছায়া। তেমন দুঃসহ অভিজ্ঞতাও নিজের কথা বলার সংবেদনশীল চেতনায় প্রকাশ পায়। ১৯৪৭ সালের পর ঢাকায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা উল্লেখ আছে। আইন বিভাগে ভর্তিও হলেন। এখানে এসে রাজনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ তৈরি হলো। ঢাকা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঐতিহ্যিক শহর। সেখানে অন্য এক বলয়ে দেশ আর রাজনীতির নতুন পরিচয় ঘটে। কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করলেন সদ্য ভাগ হওয়া একটি দেশের উচ্চাসনে বসা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে অতি সাধারণ মানুষের ক্রমাগত বিচ্ছিন্নতা। ফলে সাধারণ দেশপ্রেমিক ও কর্মক্ষম মানুষ রাষ্ট্র নায়কের শক্তি হতে বরাবরই পিছিয়ে থেকেছে। ইংরেজ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট এসব নেতৃত্ব কখনও সাধারণ জনগণকে তাদের অধীনস্থ প্রজা ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেও পারেনি।
প্রবল প্রতাপশালী ক্ষমতাধররা এমন উচ্চাভিলাষে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রয়োগ করা ছাড়াও আখের গোছানো এবং পশ্চিম পাকিস্তানে বসা আধিপত্যকারী শ্রেণীর মনোরঞ্জন করতেই ব্যস্ত থাকত। ইতোমধ্যে খবর আসে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ করাচীতে বৈঠকে বসেন তার চারপাশের অমাত্যবর্গদের নিয়ে। উদ্দেশ্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জোরালো আলাপ-আলোচনা। সেখানে সর্বাধিক গুরুত্ব পায় পাকিস্তানের সিংহভাগ লোকের ভাষা বাংলা নয় বরং সিদ্ধান্ত নেয়া হয় উর্দুকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে।
এমন খবর পূর্ব পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়তেও সময় লাগেনি। বাংলাদেশেও শুরু হয়ে যায় এর বিরুদ্ধে মতদ্বৈততা এবং বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে জোরালো যুক্তি। বঙ্গবন্ধুর তখন ছাত্র জীবন। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগেরও একজন সক্রিয় কর্মী। রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে একত্রিত হওয়া সে সময়ের ছাত্রনেতারা ১১ মার্চকে ‘বাংলা ভাষা দাবি’ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরা বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালু করার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলায় ভাগ হয়ে ছড়িয়েও পড়ে। বঙ্গবন্ধু নিজেই ফরিদপুর জেলায় দায়িত্ব পালনের জন্য চলে যান। অর্থাৎ ভাষাকে কেন্দ্র করে এমন সংগ্রামী অভিযাত্রা সারাদেশে সম্প্রসারিত হয়ে পড়লে মা ও মুখের ভাষার ঐতিহ্যিক গুরুত্বও জনগণকে আলোড়িত করতে থাকে।
১১ মার্চ ১৯৪৮ সাল। রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে ভোর থেকেই শত শত ছাত্রকর্মী রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পিকেটিং শুরু করে। ফলশ্রুতিতে পুলিশী আক্রমণ হতেও খুব বেশি দেরি হয়নি। পুলিশী লাঠিচার্জও সমানতালে চলতে থাকে। ছাত্রদের মিছিলে নিয়ন্ত্রণ আনতে ব্যর্থ হলে বঙ্গবন্ধুসহ পঁচাত্তর নেতাকর্মীকে পুলিশের জীপে তোলা হয়। মাতৃভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু প্রথম আটক হলেন আরও অনেকের সঙ্গে। স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপনে ভাষা আন্দোলনের আবেদন যুগান্তকারী। আর বঙ্গবন্ধু সূচনালগ্ন থেকেই মাতৃভাষার লড়াইয়ে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন। ৫ দিনের মাথায় সবাই মুক্তি পেলেন। সেই যে শুরু হলো ভাষা সংগ্রামের ঐতিহাসিক পদযাত্রা- ’৫২-এর রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে তার অভিগমন আরও অদম্য আর সাহসী পরিবেশে ক্রমান্বয়ে মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরিতে অনবদ্য অবদান রাখে। মাতৃভাষাকে তার যোগ্য সম্মান দিতে যখন বাংলার তরুণ সমাজ নিজেদের জীবন বাজি রাখতে মরিয়া তেমন পরিস্থিতিতে জিন্নাহ্্ পা রাখলেন ঢাকার মাটিতে। ১৯ মার্চ জিন্নাহ ঢাকায় এলে বৃষ্টিমুখর দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা তাকে সসম্মানে অভিনন্দন জানাতেও কসুর করেনি। কিন্তু পাকিস্তানের জনক জিন্নাহ, একপেশে, অসাংবিধানিক উক্তিটি অত্যন্ত কঠোরভাবে উচ্চারণ করলেন- উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। সম্মিলিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সমস্বরে বলে ওঠে আমরা মানি না। ভাষা সুরক্ষা দাবির মাঝখানে সারা বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় খাদ্য ঘাটতির মতো অশুভ পাঁয়তারা সংশ্লিষ্টদের আতঙ্কিত করে তোলে।
ফসলি ধান কাটা আর ঘরে তোলা নিয়েও শুরু হলো বিবাদ, সংঘর্ষ। সম্মিলিত উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কাটা সারা হলে হতদরিদ্র, দীনমজুর কৃষকদের ভাগের পাওনা নিয়ে তৈরি হলো বিপত্তি। বলা হলো- ‘ধান দেয়া যাবে না। সরকারের হুকুম।’ এমন দুঃসংবাদে বঙ্গবন্ধু উদ্বিগ্নই শুধু নয় ক্ষিপ্তও হলেন ভীষণভাবে। তীব্র প্রতিবাদে সভা ডেকে এর প্রতিকার চাইলেও শেষ পর্যন্ত ফল দাঁড়াল শূন্যের কোঠায়। খেটে খাওয়া মানুষদের না মিলল শ্রমের মজুরি, না পেল তারা নিজেদের প্রাপ্তি। পরিশেষে দেনার দায়ে নিজেদের ভিটে মাটিও সুদখোর মহাজনের হাতে চলে গেল।
এই সময় বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিশেষভাবে নজর দিলেন। ছাত্র রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুকে তিনবার জেল খাটতে হয়। এরপরেও বঙ্গবন্ধুকে আরও কারাবন্দী অবস্থায় জীবন কাটাতে হয়েছে। সংগ্রামী অভিযানের দুঃসহ পথ পরিক্রমায় জীবন কখনও সুস্থির, স্বস্থিদায়ক ও নির্বিঘœ হতে পারেনি। জেলখানায় অসুস্থ হবার মতো দুর্ভোগও পোহাতে হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সে অবধি বঙ্গবন্ধু জেলহাজতে। কারাকক্ষে বসে অনুমান করলেন ঢাকার রাজপথে ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামী মিছিল। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর দুশ্চিন্তায় সারাদিন ছটফট করলেন বঙ্গবন্ধু। রেডিওতে শুনতে পেলেন ঢাকার মিছিলের ওপর পুলিশী হামলা। কয়েকজন রক্তাক্ত দেহে লুটিয়ে পড়ার দুঃসংবাদ পাকিস্তান বেতারে শুনলেন জেলখানায় বসেই। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি শুনলেন ফরিদপুরে শোভাযাত্রায় কলেজের ছাত্রছাত্রীদের এক মহাসম্মিলন। কারণ বঙ্গবন্ধু তখন ফরিদপুর জেলে অনশনে ব্রত।
সংবাদপত্রের মাধ্যমেও কিছু খবর জানা গেল, পাকিস্তান সরকারের হঠকারিতা ও অপরিণামদর্শিতায় কিভাবে ঢাকার রাজপথে রক্তের প্লাবন বয়ে গেল। শুধু তাই নয় বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমবার বাংলার দামাল ছেলেরা ভাষার জন্য মূল্যবান প্রাণটুকুও বিসর্জন দিয়ে দিল। আত্মপরিচয় আর ঐতিহ্যের সম্ভ্রমহানিতা রক্ষায় বীর বাঙালী রক্তস্নাত ধারায় নিজেদের শবদেহ রাঙিয়ে নিল। স্বজাতির আব্রু সুরক্ষায় এমন উৎসর্গিত প্রাণের মূল্য কোন কিছুর বিনিময়ে হতে পারে না। তৎকালীন মুসলিম লীগের নেতাদের ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে রক্তগঙ্গায় বাংলার দামাল ছেলেদের। ভাষা সংগ্রামের রক্তাক্ত ও উত্তাল পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুও জেলহাজতে বসে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে লাগলেন। চরম অসুস্থতায় শরীর ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা। চিকিৎসকেরও মুখ গম্ভীর হলো। ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললেন- দেশ তো আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে। মানুষের জন্য বাঁচাটাও অনেক জরুরী। জেলখানায় বসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। কোরান তেলাওয়াত করতেন। তাছাড়া কোরান শরীফের বাংলা ও ইংরেজী অনুবাদ আত্মস্থ করতে মনযোগ দিতেন, এমন বর্ণনাও আত্মজীবনীর স্মৃতিচারণে উদ্দীপ্ত হয়ে আছে। কঠিন অনশন ব্রতে অঙ্গীকারবদ্ধ বঙ্গবন্ধুকে কিছু খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। তেমন দুঃসহ শারীরিক পরিস্থিতিতে জেলখানায় বসেই জানতে পারলেন মুক্তির আদেশ এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। তারপর ডাবের পাানি খেয়ে বঙ্গবন্ধু তার অনশনব্রত ভাঙলেন। শারীরিকভাবে চরম বিপন্ন বঙ্গবন্ধুকে স্নেহময় পিতা নিতে এলেন জেলগেটের সামনে। ২৭ তারিখ রাতে মুক্তির বার্তা এলো আর ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলখানা থেকে বের হয়ে এলেন।
অনলাইন থেকে নেওয়া ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ