বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণের ধরন ধারন: স্বস্তির বদলে মানুষের মনে ক্ষোভ ও হতাশাই বাড়াচ্ছে

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণের ধরন ধারন: স্বস্তির বদলে মানুষের মনে ক্ষোভ ও হতাশাই বাড়াচ্ছে

দিনমজুর, ভুখানাঙ্গা মানুষগুলো লকডাউনের কী বুঝে? বাঁচার জন্য যে লকডাউন সেটা মানতে গেলে বালবাচ্চাসহ তাদের মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করতে হবে আগে। কারন তাদের কোনো খাদ্যের মজুদ নেই ব্যাংক ব্যালেন্স নেই। প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তেই তাদের খাদ্যের অন্বেষণ করে যেতে হয়। এসব কার্যকর করার আগে তাদের খাদ্যের গ্যারান্টি দিতে হবে। আর তা সম্ভবপর না হলে তাদের অন্তত মানবিক আচরণের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝাতে হবে। তা না করে গণহারে লাঠিপেটা বা বয়োবৃদ্ধ অভাবী মানুষদের কানে ধরে উঠবস করানো সুস্থ মানসিকতা হতে পারে না।
করোনার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে দেখলাম বাংলাদেশে মাস্কের দাম ও এর ব্যবসা বেড়ে গেলো। যে যেভাবে পারে মাস্ক বানিয়ে পরছে। এখনও দেখছি সরকারি লোকরা মাস্ক না পরার কৈফিয়ত চাচ্ছে। অথচ মেডিক্যালি প্রোটেক্টেড না হলে এসব মাস্ক পরা অনর্থক। সাইয়্যান্টিসরা শুরু থেকে হাত ধোয়া ও ডিসট্যান্স মেইন্টেন করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। অথচ বাংলাদেশে মাস্ক মানেই যেন করোনা প্রতিরোধ।
গ্লোবাল কানেক্টিভিটির যেমন সুবিধা তেমনি অসুবিধাও আছে। এই করোনাই সেটির প্রমাণ দিলো। এক দেশ থেকে অন্যদেশে সহজ যাতায়াত করোনাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছে দ্রুত। করোনার প্রকোপ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ ফ্লাইট ও বর্ডারসমূহ বন্ধ করা শুরু করলেও যারা ভেতরে ঢুকে পড়েছে তাদের সাথে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করেনি। অথচ বাংলাদেশ তাদের প্রবাসী জনগণের সাথ যে আচরণ করলো সেটির গভীর ক্ষত বহুদিন থাকবে অনেকের মনে। প্রবাসীদের সম্পর্কে মন্ত্রীর মন্তব্য, ব্যবসায়ীদের আচরণ কোনটাই ভদ্রতার পরিচায়ক নয়।

শিক্ষা, সচেতনতায় তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা জনগণকে Lockdown কিংবা Stay home করাতে গেলে তাদের বোঝানোর জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে রাজনীবিদদেরও মাঠে থাকা উচিৎ। যতটুকু সম্ভব নিরাপদ ব্যবস্থা অবলম্বন করে জনগণকে গাইড করার জন্য তাদের বের হওয়া উচিৎ, জনগণের পাশে থাকা খুবই প্রয়োজন। কারন প্রশাসনের ওই লোকগুলি আদেশ, নির্দেশের আক্ষরিক অর্থ বুঝলেও তারা তা বাস্তবায়নের পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে সম্পূর্ণই অজ্ঞ।
যে কোনো দুর্যোগ, দুর্বিপাকে সেবক, নেতাদের ভয় পেলে চলে না। তাছাড়া নির্বাচন এলে বাংলাদেশের রাজনীতিকদেরতো সেবা করার কতো রকমের আকুতি, অনুনয় করতে দেখা যায়। সেবা করার এই মোক্ষম সময়ে তারা দূরে থাকবেন কেন?
আরেকটি বিষয় ভেবে অবাক হই যে, উন্নত দেশগুলোর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা প্রায় প্রতিদিন যেখানে করোনার ভয়াবহতা ও করণীয় সম্পর্কে ব্রিফিং দিতে দিতে ক্লান্ত তখন বাংলাদেশে একজন মীরজাদী সেব্রিনা ছাড়া আর কারো উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। সেটা কোন ধরণের নেতৃত্ব, অভিভাবকত্ব?
বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ বিশেষ করে তথাকথিত মন্ত্রী, এমপিদের এই মহা দুর্যোগে মানুষের পাশে না দেখে কারো ধারনা করা অমূলক হবে না যে, তারা সরকারী সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে সেলফ-আইসোলেশনের নামে ঘরে বসে টিভি দেখছেন। আর তাদের অনুপস্থিতিতে সরকারি অফিসার আর পুলিশ সদস্যরা যেসব কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করে যাচ্ছে সেসবকে অসভ্যতা বললে কম হবে।
অথচ পশ্চিমবঙ্গের মূখ্য মন্ত্রী বাজারে বাজারে গিয়ে মানুষকে দেখিয়ে দিচ্ছেন কীভাবে কী করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনীতিকরা কি পার্শ্ববর্তী ওই দেশের রাজনীতিকদের কাছ থেকেও শিক্ষা নিতে পারেন না?

#কাইয়ূম আব্দুল্লাহ ভাইর ওয়াল থেকে*