বালাগঞ্জে মোবাইল কোর্টের নামে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

প্রকাশিত: ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

বালাগঞ্জে মোবাইল কোর্টের নামে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সেনেটারী ইন্সপেক্টর জড়িত!

মোঃ আমির আলীঃ
বালাগঞ্জে ভোক্তাধিকারের সিলেট জেলার সহকারী পরিচালক সেজে প্রতারণা করে মোবাইল ফোনে, মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে।

প্রতারণার চেষ্টার স্বীকার বালাগঞ্জ বাজারের সোনার বাংলা রেস্টুরেন্টের পরিচালক আব্দুল মুনাইম, শ্রী গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সত্ত্বাধীকারী রবিন দাস রিংকু, প্রফুল্ল মিষ্টি ভান্ডারে পরিচালক তাপস দাস সহ অন্যান্য ব্যাবসায়ীরা জানান, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে দোকানে আসেন বালাগঞ্জ উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর আবুল খায়ের শামসুদ্দিন।

তিনি এসে বলেন, সিলেট থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ও র‍্যাব আসবে। আপনারা স্যারের সাথে একটু নির্জনে আলাপ করেন, বলেই উনার ব্যবহৃত মোবাইল (০১৭৮৮৮৭৭৬৯৬) দিয়ে (01910541939) নাম্বারে ফোন লাগিয়ে দেন ব্যবসায়ী আব্দুল মোনাইম সহ উল্লিখিত দোকানদের সাথে। আবুৃল খায়ের শামসুদ্দিন আরো বলেন, স্যার যা বলেন তা মেনে নিয়েন। এরপর উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে ফোনে আলাপে ওই প্রতারক ব্যক্তি বলেন, আপনারা সরকারের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আমরা বালাগঞ্জে আসছি হোটেল রেস্তোরায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা ও প্রয়োজনে সিলগালা করবো এমনকি ৪ মাসের কারাদণ্ড করবো। ব্যবসায়ীরা তার চল-চাতুরী না বুঝে অনেকটা ভয়েই প্রতারেকের সাথে দরকষাকষির এক পর্যায়ে প্রতারক বলেন, একটা সুযোগ আছে আপনারা যদি ৩০ হাজার টাকা এই নাম্বারে (01879620484) বিকাশ করেন, তাহলে আপনার হোটেলে সিলগালা করবো না। অন্যতায় তাই করা হবে। প্রতারণা স্বীকার হচ্ছেন বুঝে ব্যবসায়ী আব্দুল মুনাইম তাৎক্ষণিকভাবে বালাগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জুনেদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক কাওছার আহমদ কওছরকে ফোনে জানান,এবং তাদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও অবহিত করেন।

এর আধা ঘন্টা পর আবুল খায়ের শামসুদ্দিন  উল্লিখিত ব্যবসায়ীদের সাথে আবার দেখা করে  এবিষয় নিয়ে কারো সাথে আলাপ না করারও অনুরোধ করেন।
এনিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানান প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, এই ঘটনার সাথে এই সেনেটারী ইন্সপেক্টর জড়িত। তা নাহলে উনি কেন উনার মোবাইল ফোন দিয়ে আমাদের সাথে আলাপ করালেন এবং আমাদের ফোন নাম্বার ওই প্রতারক চক্ষের কাছে দিলেন।

এবিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর আবুল খায়ের শামসুদ্দিন আলাপ  করলে, তিনি বলেন, আসলে এভাবে অনেক সময় সিলেট ভোক্তাধীকারের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হয়ে থাকে, তাঁদের সাথে আমিও সহযোগী হিসাবে থাকি। পরবর্তীতে আমি আমার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বুঝতে পারি এটি প্রতারক চক্র।
অভিযান সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনকে জানালেন না কেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি। আপনার সাথে দেখা করে বিস্তারিত বলব।

এবিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাংশু কুমার সিংহ বলেন, আমাদের উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর যে ব্যবসায়ীদের দোকানে গিয়ে প্রতারক চক্রের সাথে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলিয়েছেন এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি সময়ে আমাদের সুবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.এইচ এম শাহরিয়ার বলেন, বিষয়টি আমি অবগত রয়েছি। তিনি (আবুল খায়ের) বুঝতে পারেন নি, এটি এক প্রতারকের চক্র। এ বিষয়ে উনাকে থানায় জিডি করার জন্য বলেছি।

এব্যাপারে সিলেট জেলা ভোক্তাধীকারের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, সম্ভবত তাঁর অচেতনতার কারনে প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পরেছেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ আমাদের সবাই সচেতন হতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ