বিশ্ব আজ পরিবর্তনের দিকেই!

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২০

বিশ্ব আজ পরিবর্তনের দিকেই!

আবুল ফয়েজ লন্ডন থেকেঃ

করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি, রজনীতি, সমাজনীতি সঙ্গে  বদলে যাবে বায়পক হারে ধর্ম নীতি, পরিচ্ছন্নতার মতো ব্যক্তিগত অভ্যাসগুলোও বদলাবে আমাদের সকলের মাঝে।
সারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন করোনাভাইরাস। মৃতদেহ মিছিল বন্ধ হচ্ছে না,। আক্রান্তের তালিকায় এমন কোন দেশ নেই, তা খুঁজতে এখন রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হবে। মহামারি ঠেকাতে নানা উদ্যোগ চলছে দেশে দেশে লগডাউন আর হাসপাতালে সংখ্যা বাড়েই চলেছে  একই সঙ্গে চলছে মহামারি–পরবর্তী বিশ্বের রূপটি কেমন হবে, তা নিয়ে নানা আলোচনা। এরি মধ্যে বিভিন্ন দেশে পঙ্গপালের আক্রমণ বিশ্ব পরিমণ্ডলে খাদ্য নিরাপত্তা  নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে , তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, ভালো বা মন্দ—যেমনই হোক, এই সংকট অভাবনীয়ভাবে বদলে দেবে অর্থ নীতি, সামাজিক, রাজনীতিক, বিশেষ করে ধর্ম নীতিতে আসবে বায়পক পরিবর্তন  বিন্যাস।
এই করোনাভাইরাস অনেক আমেরিকানকে নাইন-ইলেভেন বা ২০০৮ সালের ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের মতো ঘটনাগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যা গোটা বিশ্বের সমাজব্যবস্থাকেই দীর্ঘ মেয়াদে ঢেলে সাজিয়েছে। আমাদের ভ্রমণের অভ্যাস ও বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে অভ্যস্ত সামাজিক নিরাপত্তার মাত্রা ও নজরদারি, এমনকি আমাদের ব্যবহৃত ভাষাতেও বদল নিয়ে এসেছে।
মার্কিন পত্রিকা পলিটিকো গত সপ্তাহে বৈশ্বিকভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের প্রেক্ষাপটে ৩০ জনের বেশি বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদের মতামত নিয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট এই ব্যক্তিবর্গ সমাজের ওপর চলমান এ সংকটের বহুমুখী প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন, যা আদতে বার্তার চেয়েও বেশি কিছু।
এই ভাইরাস মানুষকে ঘরবন্দী করে ফেলেছে। এই বন্দিত্ব এমনকি কয়েক মাসের জন্য হতে পারে। এটি এরই মধ্যে দেশে দেশে নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের বা বহির্বিশ্বের এমনকি নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে শুরু করেছে। আগামী মাসগুলোয় বা বছরে এমন আরও অভাবনীয় পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করছেন এই বিশেষজ্ঞেরা। বিশ্বের জাতিগুলো কি এমন রুদ্ধই হয়ে থাকবে? স্পর্শ করাটা কি ট্যাবুতে রূপান্তরিত হবে? রেস্তোরাঁগুলোর কী হবে?

কিন্তু সংকট থেকেই তো সম্ভাবনার দেখা মেলে। হতে পারে তা প্রযুক্তির আরও দক্ষ ও উপযোগী ব্যবহার, কম মেরুকরণ, জীবনের ছোটখাটো সাধারণ আনন্দ-খুশিগুলো নতুনভাবে অনুভূত হওয়া। কেউ জানে না আসলে কী ঘটতে চলেছে। কিন্তু এরপরও সমাজ, সরকার, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, জীবনযাপনসহ নানা দিক যেভাবে বদলে যেতে পারে, তা বোঝার জন্যই এই প্রচেষ্টা।