ব্রিটেনে করোনাভাইরাস আতংক বিরাজ করছে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে

প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২০

ব্রিটেনে করোনাভাইরাস আতংক বিরাজ করছে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে

হ্যালো বাংলাদেশ নিউজ ডেস্কঃ

করোনাভাইরাস আতংক বিরাজ করছে বাংলাদেশী কমিউনিটিতেও। মিনিক্যাবিং, রেস্টুরেন্ট ব্যবসাসহ একাদিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও ইতি বাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে গ্রোসারী দোকান গুলিতে। বড় বড় সুপারস্টোরগুলির সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যস্থ সময় কাটাচ্ছেন এসকল গ্রোসারী দোকানের মালিক কর্মচারীরা। তবে আতংকিত হয়ে সাধারণ মানুষজন বাড়তি জিনিসপত্র ক্রয় করে আপদ কালিন সময়ের জন্য খাদ্য মজুদ করছেন। ফলে স্টক সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত বিক্রির কারনে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দোকানীরা বলছেন, অন্তত এক বছরের খাদ্য মজুদ রয়েছে তাদের কাছে। ক্রেতাদের আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

রবিবার দুপুরের পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের হোয়াইটচ্যাপেল, ব্রিকলেইন, শেওয়েল ঘুরে দেখাগেছে ক্রেতাদের লম্বা লাইন। করোনা ভাইরাসে আতংকিত সাধারণ মানুষ। কখন সরকারী ঘোষণায় বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক চলাফেরা। তাই ঘরেই অতিরিক্ত খাবার মজুদের তাগিদ সাধারণ মানুষদের। তাদের অনেকেই বলেছেন আতংকিত হয়েই তারা অতিরিক্ত খাবার ক্রয় করছেন।

তবে সাধারণ মানুষদের আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলা টাউনের ডায়রেক্টর রফিক হায়দার জানিয়েছেন, ব্রিটেনে কমপক্ষে ১ বছরের খাদ্য দ্রব্য মজুদ থাকে। মানুষ শুধু আতংকিত হয়ে অতিরিক্ত ক্রয় করছেন। তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য প্রাথমিক ভাবে শুভ হলেও দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির কারন হবে। একই সাথে ক্রেতারাও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। কারন সামনেই রমজান। তখন বিভিন্ন কোম্পানীয় অফার দিবে। এখন অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করলে তখন আর কেউ ক্রয় করবে না। তিনি এই ক্রয়কে পেনিং বাইয়িং হিসেবে উল্লেখ করেন।

মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন, স্টকে যথেস্ট পরিমান মাল থাকা সত্ত্বেও সাপ্লাইয়ারের কারনে স্টোরে মালামাল আসছে না। তিনি এজন্য ড্রাইভার সংকটকে দায়ী করেন।

এদিকে হোয়াইটচ্যাপেলর রানীজের ডায়রেক্টর তোফাজ্জাল আলম জানান, তারা সেলফে মালামাল রাখতেই পারছেননা। দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, করোনা আতংকে মানুষ অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করছেন। মানুষ একই সাথে রমজানেরও খরছ করছেন। ফলে আগামী কয়েক সাপ্তাহ পর তাদের ব্যবসায় ভাটা পড়বে।

একই অভিমত শেডওয়েলের প্রিয় বাজারের ডায়রেক্টর রায়হান আহমদের। তিনি বলেন, সাপ্লাইয়ারের অভাবে গোদাম থেকে পণ্য আসা সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় মোরগ, গরু ও বেড়ীতে মূল্য বৃদ্ধি করেছে স্লটার হাউজগুলো। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের খাদ্যপণ্য মজুদ রয়েছে তাদের। তিনি ক্রেতাদের আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত জিনিসপত্র ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতারাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। যে পরিমানের মজুদ রয়েছে তাতে আতংকিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। বরং দুইয়েক সাপ্তাহ পর রামাদ্বান অফার দিবে কোম্পানীগুলো। একই সাথে ব্যবসায়ীরা বলছেন এই কয়েক সাপ্তাহ বেচাকেনা বেশি হলেও পরবর্তীতে তাদেরও ক্রেতার জন্য বসে থাকতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ