যাকাতুল ফিতরের টুকিটাকি কিছু তথ্য ও মুসলিম, অমুসলিমদের ফিতরাহ আদায় সম্পর্কে

প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

যাকাতুল ফিতরের টুকিটাকি কিছু তথ্য ও মুসলিম, অমুসলিমদের ফিতরাহ আদায় সম্পর্কে

হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির আল মাহদি
বার্সেলোনা, স্পেন

যাকাতুল ফিতর হচ্ছে ঈদের দিন সুবেহ সাদিকের সময় সিয়াম সমাপ্তির কারনে যা ওয়াজিব হয়।
যাকাতুল ফিতর আদায়ের অনেক কারন ও ফায়দা আছে। এমন উল্লেখযোগ্য কিছু কারন হচ্ছে।
এক. ইহা সিয়ামের কফফারা হিসেবে আদায় করা। অর্থাৎ সিয়াম থাকা কালীন খেয়ালে-বেখায়ালে অনেক বেহুদা, ফাহেশা, গীবত-শেকায়াত করায় সিয়ামের পুরাপুরি হক্ব আদায় হচ্ছিল না। এসবের কাফফারা হিসেবে যাকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরী।

দুই. একজন সুস্থ, সবল, বিত্তবান মানুষ পুরা রামাদ্বান মাস ব্যাপি আল্লাহ তা’আলার বিশেষ ফরজ হুকুম সিয়াম পালনের তাওফিক হচ্ছিল। সুতরাং এমন সুস্থ, সবল হালত ও আল্লাহ তা’আলার তাওফিকের শোকর বা কৃতজ্ঞতা আদায় করতে যাকাতুল ফিতর আদায় করা।

তিন. দীর্ঘ মাস ব্যাপি সিয়াম আদায়ের পর ঈদুল ফিতরের দিন ধনী-গরীব যাতে ঈদের আনন্দ শেয়ার ও ভাগাভাগি করতে পারে এই জন্য যাকাতুল ফিতর আদায় করা। অর্থাৎ গরীবরাও যাতে করে ধনী, বিত্তশালীদের মতো ঈদ আনন্দ করতে পারে তার জন্য যাকাতুল ফিতর আদায় করা।

যাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার কারন সমূহের দিকে লক্ষ্য করলে ইহা আদায়ের সময়, কাকে আদায় করবো, কোথায় আদায় করবো, ইত্যাদির জওয়াব চলে আসে।

ইহা মূলত ঈদের দিনই ওয়াজিব হয়। এবং ঈদের সালাতের আগে আগে আদায় করে নিতে হয়। কারন ঈদের সালাতের পর আদায় করলে যাকাতুল ফিতর হিসেবে আদায় হয় না। বরং অন্যান্য স্বাভাবিক সাদাকার মতো হয়ে যায়। ঈদের দিন ওয়াজিব হলেও ফুক্বাহাগন ঈদের এক দুদিন আগে দেয়া জায়েয বলছেন। এমনকি কেউ কেউ এক দুদিন আগে দেয়া ভালো বলছেন। যাকাতুল ফিতর যেহেতু ওয়াজিব হয় গরীব লোক ভালোভাবে ঈদ করবে। কাজেই এক দুদিন আগে আদায় করে দিলে তারা ঈদের কেনাকাটা করে নিল।

অমুসলিমদের যাকাতুল ফিতর দেয়া যাবে কি যাবেনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামের একটি মূলনীতি অনুসরন করা যেতে পারে। ইসলামের মূলনীতি হচ্ছে সাদাকা, কাফ্ফারা, যাকাত বা যেকোন দান ইত্যাদি আদায়ের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম হক্বদ্বার হচ্ছেন ব্যক্তির নিকটতম লোকজন। এই নিকটতম লোকজন যদি বিত্তবান হয়ে যান, তাদের জরুরত যদি পুরা হয়ে যায়। তাহলে পরে পর্যায়েক্রমে ইহা অন্য জাতী, গোষ্ঠী পর্যন্ত পৌঁছাতে কোন অসুবিধা নেই। আর মুসলিম মিল্লাত হিসেবে একজন মুসলমান হচ্ছেন আরেকজন মুসলমানের সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে। আমাদের মুসলমানদের ভিতর সবাই কি বিত্তবান হয়ে গেছেন? সবার জরুরত কি পুরা হয়ে গেছে? জওয়াব আসবে অবশ্যই না! একথা যেহেতু জানা হয়ে গেছে, ননমুসলিমের তুলনায় মুসলিমরা নিকটতম। এবং নিকটতম এই শ্রেণীর লোকের জরুরতও পুরা হওয়ার মতো সম্পদ এখনও হয়নি। কাজেই নিকটতম ব্যক্তি ও জরুরত দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মুলমানদেরকেই যাকাতুল ফিতর আদায় করা। তাদেরই হক্ব সর্বপ্রথম। এছাড়া গরীব মুসলিম ব্যক্তি ঈদ আনন্দ ভালোভাবে করবে, এটি মুসলমান ব্যক্তিকে ফিতরা দেয়ার অন্যতম কারন।

ইমাম ও খতিব দারুল কোরআন ইসলামিক সেন্টার বার্সেলোনা।