রাজধানীর শাহবাগে দ্বিতীয় দিনের মতোধর্ষণবিরোধী আন্দোলন চলছে

প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২০

রাজধানীর শাহবাগে দ্বিতীয় দিনের মতোধর্ষণবিরোধী আন্দোলন চলছে

নিউজ ডেস্কঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও দেশব্যাপী সব ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজধানীর শাহবাগে দ্বিতীয় দিনের মতোধর্ষণবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ‘ধর্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে গণজমায়েত শুরু হয়।

এতে যোগ দিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মী, লেখক-কবি ও ব্লগাররা।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শাহবাগ মোড় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল বের করা হবে।

জমায়েত থেকে ‘আমার মাটি আমার মা, ধর্ষকদের হবে না’, ‘যে রাষ্ট্র ধর্ষকের, সে রাষ্ট্র মানি না’, ‘যে রাষ্ট্র ধর্ষককে পুষে, সে রাষ্ট্র মানিনা’সহ ধর্ষণবিরোধী নানা স্লোগান নিয়ে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করছেন।

এদিন বেলা ১১টা থেকে গণজমায়েত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে দেরিতে কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জহর লাল রায় বলেন, বৃষ্টির কারণে আমাদের কর্মীদের পৌঁছাতে একটু দেরি হয়েছে। আমরা জমায়েত শুরু করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করব।

প্রসঙ্গত গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকায় ওই গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখেন স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এর পর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা।

এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। সেটি ছড়িয়ে দেয় ইন্টারনেটে। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে রোববার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। সেখানে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

এছাড়া গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক নববধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত মামলার ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিসহ ৮ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ