শা’বান মাসে করণীয়!

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২০

শা’বান মাসে করণীয়!

হ্যালো বাংলাদেশ ইসলামিক ডেস্কঃ

হিজরি চন্দ্র মাসের অষ্টম মাস পবিত্র শাবান মাস। এ মাস হাদিসের আলোকে একটি ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস। মুসলিম উন্মাহর এ মাসে কিছু করণীয় রয়েছে; যা সংক্ষেপে নিচে আলোচনা করলামঃ
১. তাওবা করা। যে কোন সৎ আমলের পুর্বে তাওবা করা যেতে পারে। কারণ তাওবা পুর্বের সকল গুণাহ সমূহকে মিটিয়ে দেয়।

২. মনে মনে রমজান পাওয়ার আশা করা এবং রমজানের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

৩. সাভাবিক ভাবে সকল ইবাদতই যেমন এর পূর্বের মাস গুলোতে করা হয়ে থাকে, তেমনি তা এ মাসেও করাতে শরীয়তের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই ৷ শুধুমাত্র মধ্য শাবানের পর হতে সিয়াম পালন ব্যতীত৷ কারণ রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “শাবান মাস অধের্ক হয় গেলে তোমরা আর রোযা রাখিও না। (মুসনাদ আহমাদ (২/৪৪২), আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ, এমনটি করা অর্থাৎ অবচ্ছিন্নিভাব শাবান ও রামাযান রোযা রাখা অনুচতি।)

৪. শাবানের দিন, তারিখ গণনা করা৷ বিভিন্ন হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব ও শাবানে রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। রমজানে অধিক ইবাদতের জন্য সময়-সুযোগ বের করতেন। মানসিকভাবে তৈরি হতেন। আর এ কারণেই তিনি পবিত্র শাবানের দিন, তারিখ গুরুত্বসহকারে হিসাব রাখতেন। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন; রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবানের (দিন, তারিখ হিসাবের) প্রতি এত অধিক লক্ষ্য রাখতেন যা অন্য কোনো মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না (সুনানে আবু দাউদ ১/৩১৮)।

৫. বেশী বেশী নফল রোজা রাখা৷ শাবান মাসে অধিকহারে নফল রোজা রাখা উত্তম। এ প্রসঙ্গে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। উন্মে সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; আমি নবী করিম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শাবান ও রমজান ব্যতীত দুই মাস একাধারে রোজা রাখতে দেখিনি। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন; আমি নবী করিম সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শাবান মাসের মত এত অধিক (নফল) রোজা রাখতে আর দেখিনি। এ মাসের অল্প কিছুদিন ব্যতীত বরং বলতে গেলে সারা মাসটাই তিনি নফল রোজা রাখতেন (জামি তিরমিযী ১/১৫৫)।

শুধুমাত্র মধ্য শাবানের ফজিলত সম্পর্কে এবং ১৪ তারিখে একটি রোযা রাখার স্বপক্ষে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে একটিও সহীহ মারফূ মুত্তসীল হাদীস নেই৷ সুতরাং মধ্য শাবানে শুধুমাত্র একটি রোযা রাখা বিদআত ৷

৬. যারা প্রতি মাসে “আইয়ামে বীয” এর তিনটি অর্থাৎ ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে নফল সিয়ামে অভ্যস্ত তারা এ মাসেও উক্ত নিয়তেই সিয়াম পালন করবেন ৷

৭. যারা প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল সিয়ামে অভ্যস্ত তারা এ মাসেও উক্ত দিনগুলিতে সিয়াম পালন করবেন৷ যদিও তা কখনও ভাগ্যক্রমে ১৫ শাবান হলেও তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে না৷ যদি তা শবে বরাতের নিয়তে পালন না করা হয় ৷

৮. যদি কারো কাফ্ফারা, মানত ও নযরের রোযা বা সিয়াম বাকি থাকে তারাও এ মাসে রোযা লাখতে পারবেন৷

৯. পূর্বের সকল প্রকার ক্বাযা সিয়াম আদায় করা যাবে ৷ আবু সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছি,আমার রামাযানের কিছু রোযা বাকি থাকত। সেগুলো আমি শাবান ছাড়া কাযা করতে পারতাম না ৷ (বুখারী, কিতাবুস্‌ সাওম। মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম। ইয়াহয়া বলেন: এর কারণ ছিল তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেবায় ব্যস্ত থাকতেন।)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

faster