সংক্রমণ ঝুঁকির সীমাবদ্ধতা বজায় রেখে জীবনযাপন করতে হবে

প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২০

সংক্রমণ ঝুঁকির সীমাবদ্ধতা বজায় রেখে জীবনযাপন করতে হবে

দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। (আল কোরআন (২/২৫৬)
হাদিসে মাহামারীর সময় নিজ এলাকা ছেড়ে অনত্র যেতে নিষেধ করার কথা আছে। অর্থাৎ সামাজিক মুভমেন্টের উপর সীমাবদ্ধতার হুকুম দিয়েছে। তাই বলে একবারে মুভমেন্ট করা যাবে না; সেটার কথা নেই।
জরুরতে নিজ এলাকায় মুভমেন্ট করবেন। আমি বলবো,সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে নিজ এলাকার সকল জরুরী কাজে অংশ গ্রহন করাও শরীয়তের নির্দেশ।
আজ সংক্রমণ বলতে বলতে,এমন পর্যায়ের ভয় মানুষের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। এখন মানুষ লাশ দাফনের বদলে রাস্থায় ফেলে আসছে। অসুস্থ ব্যক্তির সেবার বদলে পলায়ন করছে।

আশ্চর্য, এমনটা তো হাদিসের ভাষ্য না! রাসুল (সা) এর হাদিস হচ্ছে।

‘যদি তোমরা শুনতে পাও যে, কোনো জনপদে প্লেগ বা অনুরূপ মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তবে তোমরা তথায় গমন করবে না। আর যদি তোমরা যে জনপদে অবস্থান করছ তথায় তার প্রাদুর্ভাব ঘটে তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না। (বুখারী, আস-সহীহ ৫/২১৬৩; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৭৩৮, ১৭৩৯)

তার মানে এই নয়, আপনার আশপাশ সবাই মহামারীতে মরে সাফ হয়ে যাক ।আর আপনি শুধু একা একা ভালো থাকেন। অথবা আপনি মাহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মরেন আর বাঁচেন,আশপাশ ভালো থাকলেই হলো!
আপনার সেবা-শুশ্রুষার কেউ না থাকলে, জরুরত হলে আপনি অসুস্থতা নিয়েও বাহির হবেন। এখানে সংক্রমণ কোন মেটার নয়। বিকল্প ব্যাবস্থা না করে, এখানে সংক্রমণ ও সংক্রমিত’র দোহাই তুলে ব্যক্তিকে বন্ধি রাখাটা জুলুম।

সব জাগায় যদি শুধু সংক্রমণের দোহাই তুলেন। তাহলে নিচের কয়েকটি ঘটনাকে কি ভাবে দেখবেন?

ওয়ার্ল্ড হ্যালথ ওর্গেনাইজেশন (WHO) তথ্য শুধু ভাইরাস শরীরে থাকলেই একজন করোনা ভিকটিম নাও হতে পারেন।

এখনও করোনা আক্রান্ত মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে সুস্থ মানুষের সংখ্যা বেশি। (ওয়ার্ল্ডওমেটার)

এমন অনেক তথ্য ইতিমধ্যে বের হয়েছে। পরিবারে একজন করোনা পজেটিভ বাকি সবার নেগেটিভ রেজাল্ট হয়েছে।

গভীর সাগরের মাঝে (Navy) নৌবাহিনীর সদস্য আক্রান্ত হলো! প্রশ্ন হলো। এখানে সংক্রমণের কারন কে? (মিলিটারি ডট কম)

ভিবিন্ন জাগায় গর্ভধারিণী মহিলা করোনা পজেটিভ রেজাল্ট নিয়ে বাচ্চা প্রসব করছে নেগেটিভ।এখানে তো সংক্রমণের মিল পাওয়া গেল না! (স্কাই নিউজ)

সৌদি ১৫০ রাজ পরিবারের সদস্য করোনা পজেটিভ রেজাল্ট আসলো। যারা সব সময় সর্বোচ্চ নিরাপদ জীবনযাপন করে। সেখানে কে গেল ভাইরাসটি ছাড়তে। (দা টাইমস ওফ ইসরায়িল)

ইংল্যান্ডের রনীর করোনা পজেটিভ ধরা পড়লো যিনি পৃথীবির সর্বোচ্চ সিকিউরিটির ভিতর দিনযাপন করেন। সেখানে কে ছড়ালো করোনা? (ইকোনমিক টাইমস)

ইউকের প্রধানমন্ত্রীর করোনা পজেটিভ নিয়ে হাসপাতালে ইন্টেনসিভ কেয়ার পর্যন্ত গেলেন। তাকে কে সংক্রমিত করলো?
(সি এন এন)

এসব ঘটনা বলার উদ্দেশ্য না, আপনি,আমি উদাম চলাফেরা করবো।তবে সংক্রমণ ও সংক্রমিত’র ভয়ে ঘরে যেন এমনি এমনি না মরি,অন্যকে না মারি, সেটাও খেয়াল রাখা দরকার।
কাজেই শুধু শুধু সংক্রমণের ভয় বাদ দিয়ে সংক্রমণের ব্যাপারে শরীয়ত যতটুকু সীমাবদ্ধতা দিয়েছে, সেটুকু মেনে চলি। আমিও নিরাপদ, সমাজটাও নিরাপদ।

হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির আল মাহদি
বার্সেলোনা, স্পেন থেকে