সেহরির ফজিলত ও আনুসাঙ্গিক কিছু বিষয়

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০

সেহরির ফজিলত ও আনুসাঙ্গিক কিছু বিষয়

হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির মাহদি
দারুল কোরআন ইসলামিক সেন্টার বার্সেলোনা, স্পেন।

রামাদ্বান মাস আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বিশেষ উপহার। বহু আমলের সমন্বয় রয়েছে এ মাসে। আল্লাহ তা’আলা বিশেষ বিশেষ আমলের সমাহার দিয়ে সাজিয়েছেন এই রামাদ্বান মাসকে। যেগুলো অন্য কোন মাসে বা রামাদ্বান ব্যতিত অন্য কোন দিনে একত্রে মিলে না। যেমন তারাবিহ,সেহরি,সাওম,ইফতার,কিয়ামুল লাইন ইত্যাদি ইত্যাদি।

এখনে শুধু সেহরি সম্পর্কিত বিশেষ কিছু তথ্য তুলে ধরব। এক. সেহরী হচ্ছে রামাদ্বানের স্বতন্ত্র একটি ইবাদাত। আর এটি উম্মতে মুহাম্মদীর স্বতন্ত্র একটি বৈশিষ্ট ও বটে। আগেকার উম্মতের মাঝে সেহরির আমল ছিল না। তাদের সাওম ও আমাদের সাওমের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে সেহরি রাসুল (সা) এর হাদিস হচ্ছে। তিনি (সা) বলেনঃ আমাদের ও আহলে কিতাবদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া। (সহিহ মুসলিম)

দুই. সেহরি খাওয়াকে রাসুল (সা) হাদিসে বরকতের কাজ বলা হয়েছে। রাসুল (সা) নিজে এর উপর নিয়মিত আমল করতেন। এবং লোকদের সেহরি খেতে উৎসাহিত করতেন।
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমরা সাহ্‌রি খাও, সাহ্‌রিতে বারাকাত রয়েছে। (বুখারী ও সহিহ মুসলিম)
তিন. সেহরি খাওয়া যেমন একটি সুন্নত,সেহরি কিছুটা বিলম্বে খাওয়া আরেকটি সুন্নত। অর্থাৎ ফজরের নিকটবর্তি করে সেহরি খাওয়া উত্তম।
যয়েদ ইবনে সাবিত (রা) বলেন, আমরা আল্লাহ্‌র রাসুল (সা) এর সঙ্গে সাহরি খাই এরপর তিনি সলাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আযান ও সাহরির মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ। (সহিহ বুখারী)

যির (রহ) বলেন যে, আমরা হুযায়ফা (রাঃ)-এর কাছে বললামঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সা)-এর সাথে আপনি কখন সাহারি খেতেন? তিনি বললেনঃ খুব ভোরেই। তবে হ্যাঁ, তখনো সূর্য উদয় হত না। অর্থাৎ ভোর রাত্রের শেষের দিকে। (সুনানে আন-নাসায়ী)

চার. সেহরি গ্রহনকারীদের উপর আল্লাহ তা’আলা রহমত নাজিল করেন ও ফেরেশতারা রহমতের দু’আ করতে থাকেন।
রাসুল (সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সেহরি খায়, নিশ্চয় তার ওপর আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা রহমত বর্ষণ করেন।’ (আহমদ)

কাজেই একজন মুসলমানের উচিত না সেহরির মতো বরকতময় আমল ত্যাগ করা। রাসুল (সা) সেহরির আমল ত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলছেন তোমরা এক ঢোক পানি বা একটি খেজুর হলেও সেহরি খাও। কারও যদি খাওয়ার আগ্রহ না থাকে সামান্য কিছু হলেও খেয়ে সেহরির আমল অব্যাহত রাখি। এতে সওয়াবের হক্বদ্বার হতে পরবো।
আল্লাহ তা’আলা যেন আমলের তাওফিক দান করেন। আমিন