হ্যালো, বাংলাদেশ, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২০

হ্যালো, বাংলাদেশ, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

হ্যালো বাংলাদেশ নিউজ ডেস্কঃ

করোনা কোনো ধাপ্পাবাজি নয়, হোক্স নয়। এটা বাস্তব। বাংলাদেশে আমরা কেন এত হাল্কাভাবে নিচ্ছি? মানুষকেও ঘরে আটকে রাখা যায় না। যাই, রাস্তা দেখে আসি, ঘরে কতক্ষণ বসে থাকা যায়? বাইরে বেরুনোর এই অজুহাত কি গ্রহণযোগ্য?
গরমে আর্দ্রতায় করোনা কমবে না, কারণ এটা বাতাসে ছড়ায় না, মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। আর বিদেশে বাংলাদেশিদের মৃত্যু প্রমাণ করছে যে করোনার রোগ প্রতিরোধক শক্তি আমাদের দেহে অন্য জাতির তুলনায় বেশি বা কম নয়!
লুকাছাপা ভাব লক্ষ্যণীয়। করোনা আমরা বানাই নাই। আপনারা বানান নাই। চার মাস আগে পৃথিবীতেই করোনা ছিল না, লক্ষ লক্ষ কিট আপনাদের জন্য কেউ বানায়ে রাখে নাই। নিজের দেশের নাগরিককে দেশে ঢুকতে দেব না, বলাও মানবাধিকার বা আইনে এলাউ করবে না। যা করার– তা হলো, ঘরে থাকা, একলা থাকা। পরীক্ষা পরীক্ষা পরীক্ষা। সততা সততা সততা। স্বচ্ছতা স্বচ্ছতা স্বচ্ছতা। সত্য গোপন করে লাভ হবে না, ক্ষতি ছাড়া। বেশি করে পরীক্ষা করুন। সত্য বলুন, লকডাউনের সময় বাড়ান। গরিব মানুষকে সাহায্য করুন। হাসপাতাল রেডি করুন। আলাদা করোনা হাসপাতাল করুন ৬৪ জেলায়। অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর রেডি করুন। ডাক্তার নার্স রেডি করুন। ঢাকায় একাধিক শুধু করোনার হাসপাতাল চালু রাখুন। এখন কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেয়া নয়। এট লিস্ট আউটডোর চিকিৎসা যেন হান্ড্রেড পারসেন্ট রোগী পায়।
এটার বিস্তার ঘটবেই। শতকরা ৭০ জনের না হওয়া পর্যন্ত এই ভাইরাস থামবে না। সুবিধা হলো, আক্রান্তদের তিন ভাগের এক ভাগ জানবেনও না যে তিনি করোনা বহন করছেন। টেরও পাবেন না। অসুবিধা হলো, তারা ছড়াবেন।

এখন দরকার একসাথে যাতে সবাই আক্রান্ত না হয় সেই চেষ্টা করা। মহাবিস্তারটা পিছিয়ে দেয়া। করোনা রোগীকে দেখে না পালানো। করোনায় মৃতকে সঠিকভাবে দাফন কাফন সৎকার করা। আলাদা করোনা হাসপাতাল লাগবে। প্রত্যেক জেলায়। ঢাকায় অনেকগুলো।
হ্যালো, বাংলাদেশ, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

নিউ ইয়র্ক ভেঙে পড়েছে, বাংলাদেশ, তুমি কি ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নেবে?
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ‌্যের প্রিন্সের করোনা পজিটিভ হলে আমরা কী এমন নবাব হয়েছি, পালোয়ান হয়েছি যে, এ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবই। আল্লাহর নামে সবাই প্রস্তুত হোন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, আপনারও হবে, এইভাবে প্রস্তুত হোন।
তবে হলেই তো মারা যাব না। তিনজনের একজন জানবেও না যে করোনা ধরেছিল। ৫ জনে চারজন সামান্য উপসর্গের পর আপনাপনিই সেরে উঠবেন। ৫ জনে একজনকে হাসাপাতালে নিতে হতে পারে। আক্রান্ত ৪৫ জনে একজন মারা যেতে পারেন।
সরকার, তুমি কি প্রস্তুত?
নাগরিক, আপনি কি প্রস্তুত? আপনি হাত ধুচ্ছেন? আপনি কি বাড়িতে থাকছেন? আপনি কি চোখে মুখে নাকে হাত দেয়া বন্ধ করেছেন?
ওয়েল, চীনা বিশেষজ্ঞ সবাইকে মাস্ক পরতে বলেছেন। আমাদের সরকারও সবাইকে মাস্ক পরতে বলছে। আমিও সবাইকে মাস্ক পরতে আবেদন জানাচ্ছি। তবে মাস্কে হাত দেবেন না। বাড়িতে এসেই মাস্ক ধুয়ে নেবেন। হাত ধুবেন।

■আনিসুল হক এর ওয়াল থেকে নেয়া,

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

faster