গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনোত্তর প্রত‍্যাশা

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২১

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনোত্তর প্রত‍্যাশা

মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম:
হযরত শাহজালা (রা.), হযরত শাহপরান (রা.) ও শ্রী চৈতন‍্য দেব’দের স্মৃতি বিজড়িত এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক সিলেট জেলার অন‍্যতম ঐতিহ্যবাহী উপজেলা গোলাপগঞ্জ। গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ২০০১ সালে প্রতিষ্টিত গোলাপগঞ্জ পৌরসভা। হাটিঁ হাটিঁ পাঁ পাঁ করে দুই দশক অতিক্রান্ত অবস্থায় পঞ্চম বারের মতো পৌরসভার নিবার্চনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী জ্বর বয়ে যাচ্ছে প্রার্থী ও ভোটারগণের অন্তরে নির্বাচনের এমন আনন্দময়ী পরিবেশই তা প্রতিয়মান করছে । একদিকে প্রার্থীদের দক্ষতা, যোগ‍্যতা ও অভিঞ্জতা প্রভৃতি গুনগান নিয়ে প্রার্থীরা যেমন আলোচিত তেমনি ভোটারগণ তাদের পছন্দের প্রার্থী সিলেকশনের নিমিত্তে হিসাব নিকাশে ব‍্যস্ত।
৩০ জানুয়ারি ২০২১ সালের এই নির্বাচনে মোট চার জন মেয়র প্রার্থী পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা করবে। সম্মাণিত মেয়র প্রার্থীগণ হলেন ১। জনাব আমিনুল ইসলাম রাবেল (বর্তমান মেয়র ও সভাপতি, গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ ) ২। জনাব জাকারিয়া আহমদ পাপলু ( প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন প্রচার সম্পাদক, গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ ) ৩। জনাব গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন (প্রাক্তন সভাপতি, গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপি ) ও ৪। জনাব রোহেল আহমদ ( সাধারণ সম্পাদক, গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ )। এই চার জনের প্রত‍্যকই নিজস্ব গুণে দক্ষ, অভিজ্ঞ, বিজ্ঞ, সৃজনশীল, আদর্শবান এবং দূরদর্শী নেতা হিসেবে পরিগণিত সকলের কাছে। প্রত‍্যকেই গোলাপগঞ্জ পৌরসভাকে তাদের কর্মস্পৃহা দ্বারা একটি আদর্শ বা দৃষ্টান্ত মূলক পৌরসভায় উপনীত করতে পরবে বলে আমাদের সকলের আস্থা অর্জনের বিশ্বাস প্রতিষ্টা করতে তারাঁ সক্ষম হয়েছেন । চার জনের মধ‍্যে যে প্রার্থী পৌরসভার সম্মাণিত নাগরিকগণের প্রত‍্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হবেন,সেই মাননীয় মেয়রের সমীপে নিবেদন যে, আমি গোলাপগঞ্জ উপজেলার নগন‍্য নারিক হিসেবে আমার একান্ত ব‍্যক্তিগত অল্প প্রত‍্যাশা, যা যথাযোগ্য ও জনকল্যাণমূলক মনে হলে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন বলে আমি আশা পোষণ করি।
১। পাবলিক টয়লেট তৈরি : পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীর আশে-পাশের কোন সুবিধা জনক স্থানে এবং বাজারের ভিতরে গডাউন সড়কে বা আহমদ খান সড়কে পাবলিক টয়লেট স্থাপন সময়ের দাবি। যদিও অনেক শপিং সেন্টারে সৌচাগারের ব‍্যবস্থা আছে,কিন্তু তা ব‍্যবসায়িবৃন্দের জন‍্য সীমাবদ্ধ। দুর-দুরান্ত থেকে আসা লোকজনের সৌচাগারের প্রয়োজন হলে লজ্জায় অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, বিশেষ করে মহিলাদের বেলায়। অতি সেন্সেটিভ বিষয়টি নির্বাচিত মেয়র গুরুত্ব সহকরে বিবেচনা পূর্বক বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকায় অবর্তীন হবেন বলে আমি প্রত‍্যাশিত।
২। যানজট দূরীকরণ: গোলাপগঞ্জ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র গোলাপগঞ্জ বাজারের চৌমুহনী। এই চৌমুহনীর উপর দিয়ে সিলেট – জকিগঞ্জ সড়ক এবং সিলেট ঢাকা দক্ষিণ -বিয়ানীবাজার সড়ক চলে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই পয়েন্টের উপর দিয়ে । চৌমুহনীর উপর দিয়ে কানাইঘাট,বিয়ানীবাজার,বড়লেখা এবং তদপরি স্বয়ং গোলাপগঞ্জ উপজেলার লোকজন সিলেট শহরে যাতযাত করে। কিন্তু গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে সহসাই ট্রাফিক জ‍্যাম যেন নিত‍্য নৈমিত্তিক ব‍্যাপার রূপে উপনিত হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ থাকা স্বত্ত্বেও দিনে দিনে জ‍্যাম ক্রমশ বৃদ্ধির প্রবণতা বেশ উদ্বেগ তৈরি করছে। যার দরুন ঐ ট্রাফিক জ‍্যামের অন্তরালে ইমার্জেন্সি রোগীর যেমন ঝুকি বেড়ে যায় তেমনি বিদেশগামী ও জরুরী কাজে গমনকারী যাত্রীর জীবনের চরম ক্ষতির সম্ভবনা থেকে যায়। আমি কয়েকবার দৃশ‍্যমান বর্তমান মেয়র শ্রদ্ধেয় বড় ভাই জনাব আমিনুল ইসলাম রাবেল চৌমুহনীর জ‍্যাম নিরসনের নিমিত্তে ট‍্যাফিক পুলিশের সাথে একাত্ত্ব হয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। সেজন‍্য উনাকে আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে সাধুবাদ জানাই। আমি প্রত‍্যাশিত যে, বর্তমানে যে প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হবেন, চৌমুহনীর ট্রাফিক জ‍্যাম নিরসণে স্থায়ী ব‍্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগীর ভূমিকায় যেন তিনি আর্বিভূত হবেন।
চৌমুহনীতে জ‍্যামজটের অন‍্যতম কারণ হলো সিএনজি চালিত ট‍্যাক্সি (যা আমরা সিএনজি নামে আমরা অভিহিত করি) সর্বত্র এলোমেলো ভাবে পার্কিং করা। বিশৃঙ্খলভাবে পার্কিং করা তাদের অভ‍্যাস‍ে পরিগণিত হয়ছে। সিএনজি চালিত টেক্সির যে স্ট‍্যান্ড বর্তমানে আছে সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় চৌমুহনীসহ রাস্তার উভয়পাশের জায়গা তারা পার্কিং স্ট‍্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে। ব‍্যাটারি চালিত আটো রিক্সার কোন স্থায়ী স্ট‍্যান্ড না থাকায় তারা সিলেট-জকিগঞ্জ, গোলাপগগঞ্জ-ঢাকা দক্ষিণ এরং আহমদ খান রোডের সম্মুখে পার্কিং করে। যারফলে সিলেট-জকিগঞ্জ এবং গোলাপগঞ্জ-ঢাকা-দক্ষিণ রোড় সংকীর্ণ হয়ে জ‍্যাম সূষ্টিতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া মাইক্রোবাস স্ট‍্যান্ড ও চৌমুহনীতে আস্থায়ী ফল ও পান-সুপারির দোকান জ‍্যাম তৈরিতে অভিনব ভুমিকা পালন করছে বলে আমার ধারণা।
জ‍্যাম নিরসনে আমার কতিপয় প্রত‍্যাশা । পৌরসভার পুকুর ভরাট করে মাইক্রোবাস ও সিএনজি চালিত ট‍্যাক্সি স্ট‍্যান্ড করা,যাতে সিলেট গামী ও ঢাকা দক্ষিণগামী টেক্সি সহজে যেতে পারে। জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের দিকে গমনকারী টেক্সি স্ট‍্যান্ড মেসাস রহমান এন্ড কোম্পানি ফিলিং স্টেশন এর আশে পাশে ব‍্যবস্থা করা যেতে পারে। আস্থায়ী ফল ও পান-সুপারির দোকানে উঠিয়ে দেয়া, যাতে করে র্নিবিঘ্নে লোকজন চলাচল করতে পারে। সিলেটগামী বাসের স্টপিজ হবে নুর ম‍্যানশনের সামনে অথবা বর্তমান মাইক্রোবাস স্ট‍্যান্ডে, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার গামী বাসের স্টপিজ মীম ট্রেডাস (এশিয়া পেইন্ট) দোকানের সম্মুখে করা যেতে পারে, যাতে করে গাড়ির হর্ন চৌমুহনী মসজিদে নামাজরত কোন মুসল্লির ব‍্যঘাত সৃষ্টি করতে না পারে। কোন অবস্থায় সিলেট- জকিগঞ্জ এবং এবং ঢাকা দক্ষিণ সড়কে গাড়ি পার্কিং করা যাবে না ,পৌরসভাকে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ সকলের জন‍্য নিশ্চিত মঙ্গলজনক হবে। নিয়ম অবজ্ঞাকারী কে প্রয়োজনে ট‍্যাফিক পুলিশের মাধ‍্যমে জরিমানা আদায় করা বা মামলা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব‍্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
৩।পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন : গোলাপগঞ্জ পৌরসভাকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার লক্ষ‍্যে নির্বাচিত মেয়র নিবেদিতপ্রাণ হবেন বলে আমি প‍্রত‍্যাশা করি। এক্ষেত্রে বর্তমান মেয়র পৌরবাজার ও রাস্তার উপর টানানো সকল ব‍্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেছিলেন সেজন‍্য আবারও তাঁকে মোবারক বাদ দেই। শপিংমল ও বাসাবাড়ির আর্বজনা খোলা অবস্থায় নিদিষ্ট স্থানে রাখা হয়। যদিও পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিয়ে যায়। কিন্তু খোলা অবস্থায় যতক্ষণ থাকে ততোক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়ায়। ডাস্টবিনের ব‍্যবস্থা থাকলে বায়ু দুষণ ও জীবাণু ছড়ানো প্রতিরোধ হতো, একই সাথে সৌন্দর্য ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকতো।
সিলেট -জকিগঞ্জ সড়কসহ যে সকল সড়কে পৌরসভার ল‍্যাম্প পোস্ট রয়েছে সেগুলো সংস্কার করে আলো জালানোর প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা নিতে যেন আগ্রহী হবেন। বর্তমান সরকারের অন‍্যতম ভিশন হলো গ্রামকে শহরে রুপান্তর করা। গ্রামকে শহরে রুপান্তরের অন‍্যতম কাজ হলো গ্রামকে আলোকিত করা। প্রাক্তন মেয়র শ্রদ্ধেয় বড় ভাই জনাব জাকারিয়া আহমদ পাপলু ল‍্যাম্প পোস্ট স্থাপনের উদ‍্যেগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন‍্য তাঁকে অন্তরের অন্তস্থল হইতে ধন্যবাদ জানাই।
পৌরসভার নামে যে হাসপাতাল রয়েছে তা সংস্কার করে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরকরণের উদ্দেশ‍্য প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এবং উপজেলার গণস্বাস্থ্য সেবায় আগ্রনী ভূমিকা পালনে সিদ্ধহস্ত হবেন বলে আমি মনে করি।
করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব যেভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ভীতিকর ও উদ্বেগজ্বনক পরিবেশ সৃষ্টির অন্তরালে প্রায়ই আবদ্ধ জীবন-যাপনে ক্লান্ত ও অবসাদ গ্রস্থের চুড়ান্ত পর্যায়ে নব বছরের সূচনা লগ্নটা যেন সকলের জন‍্য সুখের হয়! মানবতার জয় হয় বিশ্বের সর্বত্র! গণতন্ত্রের সূতিকাগার লোকাল প্রতিষ্টানের সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হওয়ার প্রত‍্যাশা করে মানবতায় নিবেদিতপ্রাণ মেয়র প্রার্থী চার বড় ভাইয়ের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম এবং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবেনের আর্শীবাদ নিরন্তর।
লেখক, প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানবিভাগ, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ, সিলেট।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

faster