fbpx

লর্ড কর্ণওয়ালিশ ও লর্ড রিপন: জমিদার প্রথার উদ্ভব ও বিলোপ

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

লর্ড কর্ণওয়ালিশ ও লর্ড রিপন: জমিদার প্রথার উদ্ভব ও বিলোপ

মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম:

Advertisements

ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানী যে ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিল এবং তাদের প্রাথমিক ইন্টারভেশন সেটির প্রকৃতি কেমন ছিল, ধরণ কেমন ছিল এবং বিশেষ করে আমরা যারা Political Science এর শিক্ষক ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানীর প্রাথমিক দিককার কার্যক্রমকে কিভাবে দেখি? এটি কি একেবারে ঔপনিবেশিক মানসিকতা সৃষ্টির জন্য শুরু থেকে চেষ্টা করেছিল, না কি অবচেতন মনে ঘটেছিল। পরবর্তী কালে যা ঔপনিবেশিক এন্টার প্রাইজ নামে পরিনত হয়েছিল।

আমাদের সমাজে দেখবেন কর্ণওয়ালিশ নামে কোন ব্যক্তির নাম রাখা হয় না। কর্ণওয়ালিশ নাম হিসেবে দেখবেন খুব একটা আদুরে হয় না। আমাদের সমাজে তথা বংলা সংস্কৃতিতে এই নাম গড়ে ওঠেনি (কারণ আমরা তাকে নিন্দার চোখে দেখি) কিন্তু সেই ইংরেজদের আরেক জন যার নাম লর্ড রিপন, প্রকৃত নাম উইলিয়াম রবিনসন ইতিহাসে রিপন নামে খ্যাত। লর্ড রিপনের নামে প্রায়ই দেড়শ বছর পর আমাদের সমাজে প্রচুর মানুষ দেখা যায়। রিপন নামটি হিন্দু কালচার, মুসলিম কালচার অর্থাৎ বাঙ্গালী কালচারের সাথে একাত্বথা হয়ে গেছে। বাঙ্গালী কালচারে আরো কিছু জনপ্রিয় নাম দেখতে পাই যেমন লিটন, কার্জন ও মিন্টো। এই নামগুলো মূলত ব্রিটিশ লর্ডদের নামের অনুকরণে রাখা হয়। আমার কাছে প্রশ্নজাগে, ব্রিটিশ ভারতে অনেক গর্ভনর জেনারেল এর মধ্যে রিপন, লিটন, কার্জন ও মিন্টোর নাম কেন অধিক মাত্রায় জনপ্রিয় হয়েছে-এর কোন আলাদা মিনিং আছে কি না? সেটি আমার কাছে রহস্য জেগেছে। এই রহস্য থেকে আমি কিছু ইঙ্গিত বা ইশরা খুজতে চেষ্টা করছি। ব্রিটিশ ভারতে ভূমি সংস্কারের ক্ষেত্রে লর্ড কর্ণওয়ালিশ ও লর্ড রিপনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। তাদের মধ্যে লর্ড কর্ণওয়ালিশ ১৭৯৩ সনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রেগুলেশনের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা পুনরুজ্জীবিত করেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কৃষকরা জমির মালিকানা হারায় জমির মালিক হয়ে যায় জমিদার শ্রেণি। যার দরুণ জমিদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রজা অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তা প্রশমণে ও জমিদার প্রথা বিলোপের উদ্দেশ্যে লর্ড রিপন ১৮৮৫ সালে “বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন” পাস করেন।

আমি এই অ্যার্টিকেলে এই দু জনের ভূমি সংস্কার ও একই সাথে জমিদার প্রথার উদ্ভব ও বিলোপ সাধনের পথ উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছি।

ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানী’র বা ইংরেজ রাজত্ব্যের যে জাহাজখানি ১৬১২ সনে সুরাট বন্দরে ভিড়ে ছিল। তা পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শাসনকে ১৭৯৩ সালে Permanently Settlement করে। লর্ড কর্ণওয়ালিশ সমাজের স্থিতিশীলতাকে দৃড় করেছে। লর্ড রিপন সামাজকে শিল্পের রুপ দিয়েছেন। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে উপনিবেশ যে সমস্যা রেখে গিয়েছিল সাতচল্লিশ এর পর এমন কি আমাদে স্বাধীনতার পর ও ভূমি ইস্যুটির সমাধান করা হয় নি। আমরা কেন এখনো সেভাবে এড্রেস করতে পারিনি? আমাদের সংবিধানে ল্যান্ড রিফ্ম নামে কোন টার্ম নাই। শুধুমাত্র বিয়াল্লিশ নম্বর অনুচ্ছেদে ভূমি অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে প্রত্যক মানুষ আইনের সু-নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে ভূমি দখল করতে পারবে বা হস্তান্তর করতে পারবে। তবে সেই জমি যদি সরকার নিতে চায় তবে তার বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করিতে পারবেনা। আসলে এটি হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ অধিকার না ভূমি নেওযার অধিকার। ভূমি অধিগ্রহণ বা মালিকানার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে অন্যায্যতা ঔপনিবেশিক ভূমি নীতির সাথে দৃড়ভাবে প্রোথিত। এই ব্যাপারটি এভাবে শুরু হয়। ১৭৫৭ সনে পলাশীর যুদ্ধে আমরা পরাজিত হই। ১৭৬৫ সনে মোঘল সামরাজ্র্যের নিবু নিবু প্রদীপ সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বার্ষিক ২৬ লাখ রুপি কর হিসেবে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা’র খাজনা অধিগ্রহণ করে আমরা যেটাকে বলি দেওয়ানী (Rights Collection of Revenue) তা কিনে নেয়। কোম্পানী খাজনাম্বত্ব আদায় করবে কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল স্থানীয় নাবাবের। অর্থাৎ এক ধরনের দ্বৈত্য শাসন ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়। এখানে নবাব পেলেন দ্বায়িত্বহীন দ্বায়িত্ব ও কোম্পানী পেলো দায়িত্বহীন ক্ষমতা।

১৭৬৫ সনে Revenue Rights ইংরেজদের হাতে গেলে তারা প্রথমে স্থানীয় লোদের দ্বারা বুজিয়ে তারপর খাজনাস্বত্ব আদায় করছে। এমন কি ১৭৭০ সনের মন্বন্তর (দুর্ভিক্ষ)-এ খাজনা অধিগ্রহণ কমেনি। যার ফলে ১৭৭৬ সনের মনন্তর (বাংলা-১১৭৬)-এ যে দুর্ভিক্ষের কথা আমরা বলি তার প্রাকৃতিক কারন থাকলেও ইংরেজ ভূমি নীতি এই মন্বন্তরকে তরাণিত্ব করে। ১৭৭০ সালে আমরা দেখেছি ই্ংরেজ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানী খাজনা আদায়ের জন্য প্রতিনিয়ত এক ধরনের আদল-বদল করছে। প্রথমে ১ বৎসর পরে ৫ বৎসর করে এভাবে খাজনা আদায়ে দৃড়তা আনছে। ১৭৭৬ সালে ফিলিপ ফ্রানসিস নামে এক ভদ্রলোক কর্ণওয়ালিশকে একটি প্লান দেয়, প্লান অনুসারে বলা হয় আমরা স্থায়ীভাবে এমন একটা খাজনা নীতি প্রণয়ন করবো, যাতে কোম্পানীর টাকার অভাব হয় না। অর্থাৎ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মূল পরিকল্পনা করে এই ভদ্রলোক।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তক লর্ড কর্নওয়ালিশ সম্পর্কে কিছু বলি। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর চৌকর্ষ সেনানায়ক লর্ড কর্ণওয়ালিশ শেষ পর্যন্ত হেরে যান আমেরিকান, বিপ্লবীদের কাছে। ইংল্যান্ড ফিরে এসে অবসর কাটানোর সময় ১৭৭৬ সনে তাকে ভারতে পাঠনো হয়। তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল দুর্নিতী প্রতিরোধ করা।

কোম্পানীর ইংরেজ কর্মচারীরা স্থানীয় জমিদারদের সহায়তায় দুর্নিতীতে আকষ্ঠ নিমজ্জিত ছিল। লর্ড ওয়ারেন হিস্টিংস এর বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ ছিল দুর্নিতীর। ওয়ারেন হিস্টিংস ইংল্যান্ড ফিরে গেলে হাউস অব কমন্স তার দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিত্বে ইসপিচমেন্ট প্রস্তাব আনে। যদিও ইমপিচমেন্ট

যদিও ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব কার্যকর হয় নি (এটি ভারতীয়দের বা লোক দেখানো উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল)। পরবর্তীকালে আরেকজন গভর্নর জেনারেল ওয়েলেসলি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
অনুমান করা যায় ইংরেজ সরকার ভারতীয় নীতির কারণে নানা ভাবে দুর্নীতির বিচার করতে চেয়েছে। তারা বুঝাতে চেয়েছে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন। অর্থাৎ ভারতীয়রা যদি কোন ভূল করে তবে তাদের বিচার করার মানসিকতা সরকারের আছে। লর্ড কর্ণওয়ালিশ এস দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করলেন। আমাদের দেশে রুলিং ক্লাস যেমন বলে থাকে আমরা দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দিব না, কঠোর শাস্তির মুখামুখি করবো ইত্যাদি ইত্যাদি তিনিও বললেন। লর্ড কর্নওয়ালিশ ১৭৮৯ সনে খাজনা প্রথার স্থায়ীত্ব আনার জন্য একটি জরিফ পরিচালনা করেন। তার প্রধান উপদেষ্টা স্যার জনসর যিনি পরবতীতে গর্ভনর জেনারেল হয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন যদি খাজনা প্রথা যদি স্থায়ী করা হয় তবে যেহেতু স্থায়ী জমিদাররা স্থানীয় তারা খাজনা আদায় করতে সহযোগীতা করবেন না। কর্ণওয়ালিশ বলেছিলেন আমি যদি কিছু মানুষকে ঠিক করি ও তাদেরকে জমির মালিক করে দেই এবং আমার যদি নিশ্চয়তা থাকে আমি একটি নির্দিষ্ট পরিমান খাজনা পাবো, তাহলে এই মানুষগুলো চিরকাল অঙ্গাবহ হয়ে থাকবে। অথ্যার্ৎ ইংরেজদের ডিভাইড এন্ড রুলস পলিসি মূলত এখান থেকে শুরু। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়রেন জন্য কর্নওয়ালিশ একটি কোট তৈরি করেন যার নাম ছিল “কর্ণওয়ালিশ কোট” কর্ণওয়ালিশ কোট এর একটি শাখা হচ্ছে। (Permanent Settlement Regulation) এই কোটের রেগুলেশন হচ্ছে ১৭৯৩ সনের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, যা নতুন করে জমিদার প্রথার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। আমরা একমত যে (Permanent Settlement Regulation) অন্তত আমাদের জন্য ভালো কিছু করেনি। ১৭৯৩ সনে লর্ড কর্ণওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করে ইংল্যান্ডে ফিরে যান। পরবর্তীতে ১৮০৫সালে তাকে আবার ভারতে পাঠনো হয়।
আমরা আরো পেছন ফিরে তাকালে দেখি, প্রাচীন বাংলা বা হিন্দু শাসন আমলে বাংলার ভূরিম মালিক ছিল রাজারা। তারপর সুলতানি আমলের শেষের দিকে যখন মুসলীম শাসন শুরু হয় এবং মোঘল শাসন শুরু হলে বিশেষ করে মোঘল আমলে সামগ্রিকভাবে কৃষকরা জমির মালিক ছিল। কিন্তু নবাবকে সম্মান স্বরুপ খাজনা প্রদান করতে হতো। এই খাজনা আদায়ের জন্য কিছু লোককে কমিশন হিসেবে নিয়োগ করা হতো। বর্তমানে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর মতো। যারা কমিশনে কাজ করতো তারা পরবর্তীতে জমিদার শ্রেণিতে পরিনত হয়। কিন্তু লর্ড কর্ণওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’র নামে এমন একটা নিয়ম চালু করেন যেখানে বাংলার বর্গাদার ও প্রান্তিক চাষীদের অধিকারের কথা স্বীকার করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে খাজনা পরিবেশ না করলে জমিদাররা ১৮৮৫ সালের আইনকে ডিনাই করে ব্যক্তিগত অজুহাত দেখিয়ে জমি নিয়ে যেতেন। লর্ড রিপনের ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন চাটার্ড হলেও এটি ১৭৯৩ সালের আইনকে সম্পূর্ণরুপে আনডু করতে পারে নি। লর্ড রিপন যতদূর পর্যন্ত এগিয়েছিলেন ততোদূর পর্যন্ত একটা ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করেছিলেন। সেটাও সম্পূর্ণরুপে অর্জিত হয়নি স্থানীয় জমিদারদের রাজনীতির কারণে। লর্ড রিপনের আরেকটি অবদানের কথা উল্লেখ না করে পারলাম না। আমাদের ইন্ডিয়া থেকে ম্যাজিষ্ট্রেটরা যদি কেউ জর্জশিপে চান্স পায় বা বিচারক হয়, ফরমালি তো হতে না, তবে হলেও তিনি ইংরেজদের বিচার করতে পারতেন না। লর্ড রিপন সেই রেগুলেশস বাতিল করেন।
১৮৮৫ সালের আইন সম্পূর্ণ সফল না হলে তবে কিছু ক্ষেত্রে মন্দের ভালো হিসেবে কাজ করছিল। তবে ১৮৮৫ সনের আইন আরেকটি সমস্যা সৃষ্টি করেছে। সেটি হলো জোঁতদার শ্রেণি সৃষ্টি (জমি ও জোঁত-বাংলায় ২টি শব্দ প্রচলিত)যারা জমি চাষ করে তারা চাষা। কৃষকদের মধ্যে যারা অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল এবং যারা জমি চাষ করে না তারা জোঁতদার হিসেবে পরিচিত পায়। অর্থ্যাৎ ১৮৮৫ সালের আইন সমাজকে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু করে। ভারত ভাগ হওয়ার পরে পূর্ব বাংলায় যারা মুসলীম লীগার ছিলেন এবং যারা রোটলেভেলের রাজনৈতিক তারা ছিল জোঁতদার। জোঁতদার শ্রেণি মুসলীম লীগকে ক্ষমতায় আসীন করে। ১৯৫০ সনে পূর্ব বাংলার লেজেসলেটিভ অ্যসেম্বলিতে ‘‘রাষ্ট্রীয় ভূমি অধিকগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন’’ যা জমিদার প্রথা বিলোপের যে বিল আসে সেখানে ৫০ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি হয়। ৫০ সদস্যের কমিটি মধ্যে ৩০ জন ছিলেন সুমলীম লীগের। তারা বেশির ভাগ জমিদার শ্রেণির ছিল।
যার দরুণ মুসলীমলীগ যখন পূর্ববঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে জমিদার প্রথা বাতিল করছে। তখন সম্পূর্ণরুপে বাতিল করছে না। পূর্ববঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন যদি ভারতের মতো জমিদার প্রথা বিলোপ আই নামকরণ করতো তবে তখনই জমিদরি প্রথা সম্পূর্ণরুপে বিলোপ হতো। ১৯৫০ সনের আইনে এই অর্থ বহন করে রাষ্ট্র কতটুকু ভূমি অধিগ্রহন করবে এবং প্রজাদের কতটুকু স্বত্ব দিবে সেটা বিবেচনা সাপেক্ষে ছিল। ফলে তাঁরা এমনভাবে জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ করে যাতে সাপ মরে লাঠি না ভাঙ্গে। এই আইনে জমিদার শ্রেণির জন্য ৩৫০ বিঘা জমি অধিকগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত হয়। কেউ যদি চা বাগান করে, কারখানা করে, ইন্ড্রাস্ট্রি, শিল্পের কাচামাল উৎপাদনে কারখানা করে, সমবায় সমিতির মাধ্যমে চাষ করে তবে এসব জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। অর্থাৎ জমিদার প্রথা শেষ হয়ে হইল না শেষ। ১৯৫৬ সালে পূর্ব-পাকিস্তানের সংবিধান তৈরি হয়। তখন ঐ জমিদার প্রথা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন জমিদার দেবেন্দ্র কিশোর রায়। চ্যালেঞ্জ করার পর মামলা দুই বছর চলে। প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ মুনির যদিও আইয়ুব খানের শাসনকে বৈধ্যতা দিয়েছিল তবে এই চ্যালেঞ্জ’র রায় ঠিক মতো দিয়েছিলেন। তার এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে জমিদার প্রথা আস্তখুড়ে নিক্ষেপিত হয় বা বিলুপ্তি ঘটে।

লেখক
প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ, সিলেট।

Advertisements