বালাগঞ্জের বড়ভাঙ্গা নদীতে ‘শেখ হাসিনা সেতু’র নির্মাণ কাজ বন্ধ, আন্দোলনে এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্টঃ সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের সর্বশেষ প্রান্তে বড়ভাঙ্গা নদীর অবস্থান। এই বড়ভাঙ্গাতে কোনো সেতু না থাকায় সরাসরি যাতায়াত বিচ্ছিন্ন বালাগঞ্জের ৩টি ইউনিয়নের জনসাধারণ। সেতু না থাকার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অত্রাঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণের। এমনকি জরুরী সেবা প্রদানের জন্য বালাগঞ্জ থানা পুলিশও উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ও দেওয়ানবাজার ইউনিয়নে সরাসরি গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াতেও দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। এ দুটি ইউনিয়নে বড়ভাঙ্গা নদীপথে যেতে নৌকা এবং গাড়ি নিয়ে যেতে হলে পার্শ্ববর্তী ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়ন হয়ে দেওয়ানবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন হয়ে পশ্চিম গৌরীপুরে পৌঁছাতে হয়। এতে যেমন ব্যয় হয় সময়ের, তেমনি ব্যয় হয় অর্থের। এই বড়ভাঙ্গা নদীই দুইভাগে বিভক্ত করে রেখেছে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নকে।
এ দুর্ভোগ লাঘবে ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করে ২ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা বাজেট নিয়ে বালাগঞ্জ-সুলতানপুর-সিলেট সড়কের বড়ভাঙ্গা নদীর উপর ‘শেখ হাসিনা সেতু’ নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সিলেট-২ আসনের এমপি ইয়াহিয়া চৌধুরী ইয়াহিয়া ও সিলেট- ৩ আসনের বর্তমান এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। আশা জাগে অত্রাঞ্চলের জনসাধারণের। বুকে আশার সঞ্চার করে তারা দিন গুনতে থাকেন! কবে তাদের স্বপ্নের বড়ভাঙ্গা নদীতে ‘শেখ হাসিনা সেতু’ নির্মিত হবে? সেই দিনগননা আর যেন ফুরিয়ে যায় না। কোনো এক অদৃশ্য কারণে আটকে যায় সেতুটির নির্মাণ কাজ। স্বপ্ন অধরাই রয়ে যায় অত্রাঞ্চলের হাজারো মানুষের।
শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করে সেতুর কাজ শুরু করে কয়েকটি পিলার বসিয়ে (পাইলিং) কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। যতই সময় ঘনিয়ে যাচ্ছে ততই গণদাবিতে পরিণত হয়ে উঠেছে ‘শেখ হাসিনা সেতু’র বাস্তবায়ন।
দীর্ঘদিন যাবত সেতুটির কাজ বন্ধ থাকায় ও দুর্ভোগ চরম সীমায় পৌঁছে যাওয়ায় বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ ও ৩ ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ গত সোমবার রাতে স্থানীয় আয়না মার্কেট এক সভায় মিলিত হয়ে ‘শেখ হাসিনা সেতু’ বাস্তবায়নের আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রথম অবস্থায় তারা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি, উপজেলা সদরে সকল পর্যায়ের লোকজনের উপস্থিতিতে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী এস আর এম জি কিবরিয়া বলেন, সেতুটির রি-ডিজাইন করতে হবে। আগের ডিজাইন সেতুটি নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয়। আগের সম্পূর্ণ কাজ বাতিল করে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। পাশাপাশি এটি বাস্তবায়নে আরও বাজেটের প্রয়োজন।