fbpx

সংকট, বিপর্যয় কেন আসে: তা থেকে উত্তরণের পথ কী?

প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২১

সংকট, বিপর্যয় কেন আসে: তা থেকে উত্তরণের পথ কী?

আব্দুল কাদির আল মাহদি
বার্সেলোনা, স্পেন থেকে

Advertisements

মানুষের কঠিন পরিস্হিতি ও সংকট জন্য মনকে সংকুচিত করা উচিত না। কেননা! এর দ্বারা মানুষের বাস্তবতার দ্বার উন্মোচিত হয়। ভাল-মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। মু,মিন ও মুনাফিকের পরিচিয় প্রকাশিত হয়। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করা যায়!

হাসান আল বসরী (রাহ) বলেন- মু’মিন বান্দা নিপতিত বিপদে যেন অখুশি না হয়। হতে পারে তুমি যেটির উপর অখুশি হয়ে আছ; সেটি তুমার জীবনের নতুন ধার উম্মোচন হওয়ার কারণ।

মানুষের জীবনের সংকট ও বিপর্যয় গুনাহকে মাফ করার কারণ হয়। যেটা হাদিসে বর্ণিত। আয়শা (রা) বর্ণিত হাদিস হচ্ছে-
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى، شوْكَةٌ فَمَا فوْقَهَا إلاَّ كَفَّر اللَّه بهَا سَيِّئَاتِهِ، وَحطَّتْ عنْهُ ذُنُوبُهُ كَمَا تَحُطُّ الشَّجرةُ وَرقَهَا

রাসুল (সা) বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে সকল বিপদ-আপদ আসে এর দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফুটে এর দ্বারাও।( বুখারি ও মুসলিম)

জীবনের সংকট ও বিপর্যয়ে মু,মিন বান্দা সবর করে, যার কারণে তাঁর দরজা তথা অবস্থানকে (Position) আরও উপরে তুলা হয়। মুহাম্মদ বিন খালিদ (রা) থেকে বর্ণিত হদিস-
إنَّ العبدَ إذا سبقتْ له من اللهِ منزلةٌ فلم يبلُغْها بعملٍ ؛ ابتلاه اللهُ في جسدِه أو مالِه أو في ولدِه ، ثم صبر على ذلك حتى يُبلِّغَه المنزلةَ التي سبقتْ له من اللهِ عزَّ وجلَّ

তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা) কে বলতে শুনেছি : কোন ব্যক্তির জন্য বিনাশ্রমে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে মর্যাদার আসন নির্ধারিত হলে আল্লাহ্ তার দেহ, সম্পদ অথবা সন্তানকে বিপদগ্রস্ত করেন। অতঃপর সে তাতে ধৈর্য ধারণ করলে শেষ পর্যন্ত বরকতময় মহান আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত উক্ত মর্যাদার স্তরে উপনীত হয়। (আবু দাউদ)

কাজেই, হে মু’মিন বান্দা! দুঃখ-দুর্দশার পর সুখ আসবে। মন্দ দিনের পর শুভদিন আসবে। ইনশাল্লাহ! এমন ডেসিশণ সিদ্ধান্ত আল্লাহ তা’আলা নিজে তাঁর পবিত্র কোরআনে মু’মিন বান্দাদের জন্য ওয়াদা তথা শপথ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহ তা’আলার বাণী-

‎وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا ۚ

তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। (সুরা আন নূর ৫৫)

যেভাবে আল্লাহ তা’আলা মু’মিনদের জন্য শুভদিনের ওয়াদা করেছেন; তেমনি তিনি পাপাচারি ও সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য সতর্ক বাণী রেখেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন-

‎وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَبَقُوا ۚ إِنَّهُمْ لَا يُعْجِزُونَ

আর কাফেররা যেন একা যা মনে না করে যে, তারা বেঁচে গেছে; কখনও এরা আমাকে পরিশ্রান্ত করতে পারবে না। (সুরা আনফাল ৫৯)
আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন-
‎لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ ۚ وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ ۖ وَلَبِئْسَ الْمَصِيرُ

তোমরা কাফেরদেরকে পৃথিবীতে পরাক্রমশালী মনে করো না। তাদের ঠিকানা অগ্নি। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তনস্থল। (সুরা আন নুর ৫৭)

হে মু’মিন বান্দা! আল্লাহ তা’আলার ওয়াদা সত্য। তিনি তার ওয়াদার বিপরীত করেন না। এবং তাঁর সাহায্য ব্যর্থ হয় না। এটা তার নির্ধারিত পথ ও পন্থা। এমন সিদ্ধান্তের কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয় না। যদি মু’মিনদের জন্য এমন নির্ধারিত ওয়াদা বা শপথের সুসংবাদ না থাকত; তাহলে হতাশ বা পেরেশান হওয়া মানা যেত।

আল্লাহ তা’আলার পথ ও পন্থা যেহেতু নির্ধারিত। তার কমিটমেন্ট যেহেতু স্থির। এখন মানুষ সেটি পাবে; যেমন আমল করবে। কথায় আছে “ان الجزاء من جنس العمل যেমন কর্ম; তেমন ফল”

আমাদের প্রত্যেকেই বিপদে-আপদে থেকে উত্তরণ চাই। চাই আসমানী সাহায্য, ঐশী সহায়তা। কিন্তু, একবারও কি এমন প্রশ্ন করছি! আমি কি এমন সাহায্যের উপযুক্ত? আল্লাহ তা’আলার উক্তি-
‎وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
আর সাহায্য শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে,

যিনি আল্লাহ তা’আলার ওয়াদাকৃত সাহায্যের উপযুক্ত; তিনি আল্লাহ তা’আলার দ্বীনের সহযোগী হবেন। আল্লাহ তা’আলার কোরআনকে আঁকড়ে ধরবেন। হালালকে হালাল হিসেবে, এবং হারামকে হারাম হিসেবে জেনে পথ চলবেন। কখনও সীমালঙঘন করবেন না। উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবেন। কেননা, যে আল্লাহ তা’আলার দ্বীনের সাহায্য করে; সেই সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন-

‎يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ

হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন। (সুরা মুহাম্মদ ৭)

আর যে আল্লাহ তা’আলার সাহায্যপ্রাপ্ত; তাকে কেউ পরাভূত করতে পারে না। অন্যদিকে যে আল্লাহ তা’আলার সাহায্য থেকে ছিটকে পড়ে; তাকে কেউ চাইলেও সাহায্য করতে পারে না। কারও সাহায্য কাজে আসে না।

কাজেই, হে ঈমানদ্বার বান্দারা! আল্লাহ তা’আলার সাথ ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলার চেষ্টা কর। গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা কর। তাহলে সাহায্য, শুভ-সংবাদ তুমার জন্য থাকবে।
জানা থাকা দরকার! খলিফা উমর (রা) যখন সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস ও তার বাহিনী (রা) কে যখন আল্লাহর রাস্থার পাঠিয়েছিলেন। তখন তিনি যে উপদেশ দিয়েছিলন।
তিনি তাদেরকে বললেন- হে সা’দ (রা), এবং তোমার সাথী সঙ্গী! তোমরা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। কেননা! আল্লাহ তা’আলার ভয় হচ্ছে তোমাদের শত্রুর উপর সর্বোচ্চ হাতিয়ার। এবং তাকওয়া হচ্ছে যুদ্ধের ময়দানে শক্তিশালী উপকরণ।
আমি তোমাদেরকে গুনাহ ত্যাগের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশ করছি। কেননা! গুনাহ ত্যাগ শত্রু পক্ষের ভিতর ভীতি সৃষ্টি করে। এবং, এর দ্বারা আল্লাহ তা’আলা শত্রুদের উপর সাহায্য করেন।
যদি তা না করো, তাহলে শত্রু পক্ষ তুমাদের উপর শক্তিশালী হয়ে যাবে। কেননা, আমাদের সংখ্যা তাদের সংখ্যার মত নয়। আমাদের উপকরণ তাদের উপকরণের সমান নয়। কাজেই যখন গুনাহে তাদের সমান হয়ে যাব; তখন তাদের শক্তি আমাদের উপর বিজয়ী হয়ে যাবে। কাজেই তোমরা একথা স্বরন কর। তোমরা আল্লাহর রাস্থায আছ, এবং গুনাহ ত্যাগ কর।
এমন ভাবনা মুটেও যেন না আসে! আমাদের শত্রু পক্ষ আমাদের থেকে মন্দ ও খারাপ। এমন মন্দ জাতি আমাদের উপর কক্ষনও বিজয়ী হবে না!
হতে পারে, কোন মন্দ বা খারাপ জাতি একটি ভাল জাতিকে পরাভূত করে নিবে। যেমন করছিল বনী ইসরাঈল।

আমরা যাদের উত্তরসূরি, তারা কিভাবে একটি শক্তিশালী জাতিকে পরাভূত করছিল! ইয়ারমূকের যুদ্ধে যখন কাফেররা পরাজিত হয়ে রোমের বাদশাহ’র দরবারে আশ্রয় চাচ্ছিল। তিনি তাদেরকে কয়েকটি প্রশ্ন করছিলেন।
তোমরা আমাকে বলতো! যাদের সাথে তোমরা যুদ্ধ করছিলে, তারা কী তোমাদের মত মানুষ নয়?
তারা জবাবে বলল। জী হ্যাঁ, তারাও আমাদের মত মানুষ।
তিনি প্রশ্ন করলেন। তারা সংখ্যাগত বেশি ছিল নাকি তোমরা বেশি ছিলে?
তারা জবাবে বলল। আমরাই সংখ্যায় বেশি ছিলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন। তাহলে তোমাদের পরাজয়ের রহস্য কী?
তাদের সিনিয়র একজন আগ বেড়ে জওয়াব দিলেন। আমাদের উপর তাদের প্রভাব প্রতিপত্তির কারণ হচ্ছে। তারা রাত জেগে এবাদত করে। দিনে সিয়াম আদায় করে। তারা তাদের ওয়াদা পুরা করে। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে। একে অন্যের প্রতি সহানুভূতি, সহমর্মিতার ব্যবহার করে।
কিন্তু আমরা শরাব পান করি। হারাম ভক্ষণ করি। ওয়াদার বিপরীত করি। মানুষের উপর রাগ, গোস্বা ও ঝগড়াঝাটি করি। জুলুম অত্যাচার করি। জমিনে ফেতনা ফাসাদ করি।
হিরাকল বাদশাহ বলল। হ্যাঁ, এইসব কারণেই তোমাদের পরাজয় আর তাদের বিজয়।
এখন আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি। বর্তমান এই সময়ে কেন আল্লাহর সাহায্য আসছে না? কেন আমরা সংঙ্কট উত্তলন করতে পারছি না? কেন আমাদের উপর বিজাতী বার বার শক্তিশালী হচ্ছে?
অথচ আমাদের সালাফদের সময়ে তো এমন ছিল না! তাহলে আমরা কী মুসলমান নয়? আমরা কী তাদের দলভুক্ত নয়?
এসব প্রশ্নের জবাব কোরআনে দেয়া আছে। আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেন-

হে মুসলিম সমাজ! জেনে রাখ, সংকট ও বিপর্যয় মূলত বান্দার জন্য একপ্রকার পরীক্ষা। এটা আল্লাহ তাআলার ভালবাসার বঃহিপ্রকাশ। হাদিসে বর্ণিত আছে-
إِنَّ عِظَمَ الْجزاءِ مَعَ عِظَمِ الْبلاءِ، وإِنَّ اللَّه تَعَالَى إِذَا أَحَبَّ قَومًا ابتلاهُمْ، فَمنْ رضِيَ فلَهُ الرضَا، ومَنْ سَخِطَ فَلَهُ السُّخْطُ

বিপদ যত মারাত্মক হবে, প্রতিদানও তত মহান হবে। আল্লাহ্‌ তা‘আলা যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে (বিপদে ফেলে) পরীক্ষা করেন। যে লোক তাতে (বিপদে) সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য (আল্লাহ তা‘আলার) সন্তুষ্টি বিদ্যমান। আর যে লোক তাতে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য (আল্লাহ তা‘আলার) অসন্তুষ্টি বিদ্যমান। (তিরমিজি)

একজন মু’মিনের জন্য আখেরাতে শাস্তি পাওয়ার চেয়ে দুনিয়ার কিছু সংকট ও বিপদই ভাল। কেন হবেনা? বিপদ ও সংকটের দ্বারা আল্লাহ তা’আলা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। বান্দার দরজা বুলন্দ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন-
إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بعبْدِهِ خَيْرًا عجَّلَ لَهُ الْعُقُوبةَ في الدُّنْيَا، وإِذَا أَرَادَ اللَّه بِعبدِهِ الشَّرَّ أمسَكَ عنْهُ بذَنْبِهِ حتَّى يُوافِيَ بهِ يَومَ الْقِيامةِ
আল্লাহ্‌ তা‘আলা যখন তাঁর কোন বান্দার কল্যাণ সাধন করতে চান তখন তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে তাকে বিপদে নিক্ষেপ করেন। আর যখন তিনি তাঁর কোন বান্দার অকল্যাণ সাধন করতে চান তখন তাকে তার অপরাধের শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকেন। তারপর কিয়ামাতের দিন তিনি তাকে পুরাপুরি শাস্তি দেন। (তিরমিজি)

আর মুমিন দুঃখ-কষ্টের মধ্যে আজর ও সাওয়াবের খোঁজ রাখে। এবং ধৈর্যের সাথে মেকাবেলার চেষ্টায় থাকে। আর ঈমানের দৃঢ় সংকল্প ও দৃঢ় ইচ্ছা ছাড়া ধৈর্যের কোন উপায় নেই। স্বরন করুন! রাসুল (সা) এর বাণী-
عَجَباً لأمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَلِكَ لأِحَدٍ إِلاَّ للْمُؤْمِن: إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْراً لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خيْراً لَهُ
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘মুমিনের বিষয়টি কত চমৎকার। তার জন্য শুধুই কল্যাণ—কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নেই। যদি তার জন্য কোনো খুশির ব্যাপার হয় এবং সে কৃতজ্ঞতা আদায় করে তবে সেটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি কোনো দুঃখের বিষয় হয় এবং সে ধৈর্য ধারণ করে, সেটাও তার জন্য কল্যাণকর।’ (সহিহ মুসলিম)

পরিশেষে রাসুল (সা) এর শিখিয়ে দেয়া একটি সুন্দর দু’আ বলব। যখনই মু’মিন বান্দা বিপদ আপদ বা দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হবে। এই দু’আ যেন খুব বেশি বেশি পড়ে। এর দ্বারা আল্লাহ তা’আলা তাকে আরও উত্তম ব্যবস্থা সামনে নিয়ে আসবেন। হাদিসটি হচ্ছে-

مَا مِنْ عَبْدٍ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ فَيَقُولُ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ أَجَرَهُ اللَّهُ فِي مُصِيبَتِهِ وَأَخْلَفَ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَةَ قُلْتُ كَمَا أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْلَفَ اللَّهُ لِي خَيْرًا مِنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

উম্মে সালমাহ (রা) বলেন, আমি রাসুল (সা) কে বলতে শুনেছিঃ কোন বান্দার ওপর মুসীবাত আসলে যদি সে বলে “ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জিউন, আল্লা-হুম্মা’ জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খয়রাম্‌ মিনহা-ইল্লা” (অর্থাৎ- আমরা আল্লাহর জন্যে এবং আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে এ মুসীবাতের বিনিময় দান কর এবং এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর) । উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, এরপর যখন আবূ সালামাহ্‌ ইনতিকাল করলেন, আমি ঐরূপ দু‘আ করলাম যেরূপ রাসুল (সা) আদেশ করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়েও উত্তম নি‘আমাত অর্থাৎ রাসুল (সা) কে স্বামীরূপে দান করলেন। (সহিহ মুসলিম)

Advertisements

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ