fbpx

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, ওসমানীনগরে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভূমি অধিগ্রহণে ১০ কোটি টাকা বাণিজ্যের পায়তারা

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২১

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, ওসমানীনগরে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভূমি অধিগ্রহণে ১০ কোটি টাকা বাণিজ্যের পায়তারা

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের নামে একটি সিন্ডিকেট ১০ কোটি টাকা বাণিজ্যের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা পরিষদ নামে একটি সংগঠন।

Advertisements

সংগঠনটি বলছে, একটি হাউজিং কোম্পানীর যোগসাজসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার গ্রামতলা মৌজায় যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন, তা সরকারের নীতিমালা মেনে করা হয়নি। এছাড়া ওই ভূমিতে স্কুল ও কলেজ নির্মাণ করা হলে সিন্ডিকেটের ১০ কোটি টাকা বাণিজ্য হবে এবং উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান না হওয়াতে সমস্যায় পড়বেন ৮ ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরে সুরক্ষা পরিষদের নেতৃবৃন্দ সরকারের নীতিমালা অনুসারে উপজেলা সদরের কাছাকাছি স্থানে অর্থ্যাৎ ৮ ইউনিয়নের সু-যোগাযোগপূর্ণ স্থানে ওসমানীনগর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সিনিয়র আহবায়ক কমরেড আফরোজ আলী।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের অংশ হিসেবে ওসমানীনগরেও একটি স্কুল ও কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ৩০০ শতক ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তাহমিনা আক্তারকে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু তিনি উপকারভোগী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কথা বিবেচনা না করে একটি বিশেষ মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাণিজ্যিক হাউজিং কোম্পানীর ভূমি নির্ধারণ করে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এরপরই শিক্ষামন্ত্রণালয়ে সংসদ সদস্যের লেটারের আবশ্যকতা দেখা দিলে প্রস্তাবিত ভূমিতে দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়ে ডিও লেটার প্রধানে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন তিনি। এতে ওই মহলের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।’


সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংসদ সদস্য ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্নীতিমুক্তভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার শংকর পাশা মৌজার কাগজপুর নামক স্থানের ডিও লেটার প্রধান করেন। যা সরকারের নীতিমালার পরিপন্থী এবং উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের জন্য সু-যোগাযোগপূর্ণ স্থান নয়। সিলেট-২ এর সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে একজন সৎ এবং দুর্নীতিমুক্ত মানুষ, কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন থাকায় তার সিদ্ধান্ত জনবান্ধবও সূদূর প্রসারী নয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবরে ওসমানীনগর উপজেলার মধ্যবর্তী, উপজেলা সদরের নিকটবর্তী ৭টি স্থানের তপশীল উল্লেখপূর্বক ওই ৭টি স্থানের যে কোন একটিতে প্রস্তাবিত ওসমানীনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের জন্য আবেদন করেছেন তারা। এ আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও পাঠিয়েছেন।’


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রস্তাবিত ও সুপারিশকৃত গ্রামতলা মৌজার ভুমির সরকারিভাবে শতক মূল্য ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ফলে সরকার অধিক মূল্যে ক্রয় করলে ওই বিশেষ সিন্ডিকেটই আর্থিকভাবে লাভবান হবে। তবে সেখানে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হলে সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। আর উপজেলার সর্বাধিক যানজটপূর্ণ বাজারের ভিতর দিয়েই সেখানে শিক্ষার্থীদেরকে যাওয়া আসা করতে হবে, বিধায় গ্রামতলার ওই স্থানটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য একদম উপযোগী নয় বলে তারা মনে করছেন বলে জানান।’
তাদের দাবি, গত ১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবরে দাখিলকৃত দরখাস্তে তারা উপজেলার মোল্লাপাড়া মৌজায় কদমতলা থেকে আধুনিক কমিউনিটি সেন্টারের মধ্যবর্তী স্থানে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে ০৩ টি স্থানের তপশিল প্রধান করেছেন। যা দেশের যে কোন স্থানের মেয়ে শিক্ষার্থীসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও সু-যোগাযোগপূর্ণ জায়গা।

একই সাথে এ ভূমির সরকারি শতক মূল্য ৩৪ হাজার ২১৮ টাকা। যেহেতু জায়গাটি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সেহেতু দেশের কোনপ্রান্ত থেকে যাতায়াতকারী লোকজনের জন্য স্থাপনাটি দৃষ্টি আর্কষণ করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উপজেলার ইসলামপুর ও দশহাল মৌজায় কামিনিকান্দি ও দশহাল গ্রামের ২ জন ধনাঢ্য ব্যক্তি স্বেচ্ছায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের জন্য ১০ কেদার করে ভূমি দান করার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। এ দুই স্থানও উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার এর মধ্যে অবস্থিত। এজন্য এ ভূমিসহ জেলা প্রশাসক বরাবরে যে সমস্ত ভূমির তপশিল প্রধান করা হয়েছে তার যেকোন একটিতে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এজন্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির মূল উৎপাটনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনাও করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আতাউর রহমান, সিনিয়র আহবায়ক জহুর আহমদ, সৈয়দ আহমদ বহলুল, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক হারুনুর রশীদ ও ওসমানীনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক চঞ্জল পাল।

Advertisements

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ